আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় রামিসার মা পারভীন আক্তার কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি ঘটনার দিনের (১৯ মে) ভয়াবহ স্মৃতি হাতড়ে বলেন, ঘটনার সময় তিনি বাসায় রান্না করছিলেন। বড় মেয়ে রাইসা চাচার বাসায় যাওয়ার সময় ছোট মেয়ে রামিসা সাথে যেতে চাইলেও তাকে যেতে বারণ করা হয়েছিল। বড় মেয়ে একা চলে যাওয়ার ৩-৪ মিনিট পর পাশের ফ্ল্যাট থেকে একটি বাচ্চার চিৎকারের শব্দ শুনতে পান তিনি।
বড় মেয়ে একা বাসায় ফিরে জানালে যে রামিসা তার সাথে যায়নি, তখন পারভীন আক্তার চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে ভবনের তিন তলার ওই ফ্ল্যাটের সামনে রামিসার একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি।
আদালতে পারভীন আক্তার বলেন "আমি তখন জোরে জোরে দরজা ধাক্কাধাক্কি করি। আশেপাশের ফ্ল্যাটের লোকজন ও আমার স্বামী আসার পর কে যেন লক ভেঙে ফেলে। আমি আসামিকে (স্বপ্না) অনেকবার বলেছি—বইন দরজাটা খুল, তোর কিচ্ছু হবে না। কিন্তু সে দরজা খুলে নাই। ভেতরে ঢুকে বাথরুমের সামনে অনেক রক্ত দেখি। আর দেখি আমার মেয়ের দেহ এক জায়গায়, মাথা আরেক জায়গায়।"
রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা জবানবন্দিতে জানান, ঘটনার দিন সকালে তিনি বনানীর অফিসে চলে গিয়েছিলেন। স্ত্রী ফোন করে রামিসাকে খুঁজে না পাওয়ার কথা জানালে তিনি দ্রুত বাসে করে ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে বাসায় ছোটেন।
বাসার সামনে ও ফ্ল্যাটের সামনে প্রচুর মানুষ জড়ো হতে দেখেন তিনি। পাশের ফ্ল্যাটে রামিসা আটকে আছে শুনে তিনি নিচে গিয়ে একটি হাতুড়ি নিয়ে আসেন এবং অন্যদের সহায়তায় প্রায় ২০-২৫ মিনিট চেষ্টা করে দরজার তালা ভাঙেন। তালা ভাঙার পর ঘরের ভেতরের দৃশ্য বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন,
ঘরের ভেতরে ঢুকে কমন রুম ও বাথরুমের দরজা বন্ধ এবং টয়লেটের ভেতরে রক্ত দেখা যায়।আসামি স্বপ্না তখন ঘরের ভেতর নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে হাঁটাহাঁটি করছিল। উপস্থিত একজন ঘরের ভেতরের স্টিলের খাটটি উঁচু করতেই নিচের একটি বড় বালতির ভেতর রামিসার কাটা মাথা দেখতে পান। এই নৃশংস দৃশ্য দেখার সাথে সাথেই তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
পরবর্তীতে থানায় গিয়ে মামলা দায়ের করেন। পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসাকে গত ১৯ মে ২০২৬ তারিখে কৌশলে রুমে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ ও নৃসংশভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর ২০ মে পল্লবী থানায় মামলা করেন শিশুটির বাবা। ২৪ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেন। ১ জুন ২০২৬ (সোমবার) আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন এবং ১৮ জন সাক্ষীর বিরুদ্ধে সমন জারি করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী—যাদের মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেট, চিকিৎসক, আলামত সংগ্রহকারী কর্মকর্তা এবং প্রতিবেশীরা রয়েছেন, পর্যায়ক্রমে তাদেরও সাক্ষ্যগ্রহণ করা হবে।
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ পল্লবী শিশু হত্যাকাণ্ড, রামিসা হত্যা মামলা, আদালত সাক্ষ্য, শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল, মিরপুর হত্যাকাণ্ড, পারভীন আক্তার, আব্দুল হান্নান মোল্লা, ঢাকা আদালত, জবানবন্দি, Pallabi Child Murder, Ramisa Murder Case, Court Testimony, Child Violence Suppression Tribunal, Mirpur Murder, Parveen Akhter, Abdul Hannan Mollah, Dhaka Court, Deposition

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ জুন ২০২৬
আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় রামিসার মা পারভীন আক্তার কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি ঘটনার দিনের (১৯ মে) ভয়াবহ স্মৃতি হাতড়ে বলেন, ঘটনার সময় তিনি বাসায় রান্না করছিলেন। বড় মেয়ে রাইসা চাচার বাসায় যাওয়ার সময় ছোট মেয়ে রামিসা সাথে যেতে চাইলেও তাকে যেতে বারণ করা হয়েছিল। বড় মেয়ে একা চলে যাওয়ার ৩-৪ মিনিট পর পাশের ফ্ল্যাট থেকে একটি বাচ্চার চিৎকারের শব্দ শুনতে পান তিনি।
বড় মেয়ে একা বাসায় ফিরে জানালে যে রামিসা তার সাথে যায়নি, তখন পারভীন আক্তার চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে ভবনের তিন তলার ওই ফ্ল্যাটের সামনে রামিসার একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি।
আদালতে পারভীন আক্তার বলেন "আমি তখন জোরে জোরে দরজা ধাক্কাধাক্কি করি। আশেপাশের ফ্ল্যাটের লোকজন ও আমার স্বামী আসার পর কে যেন লক ভেঙে ফেলে। আমি আসামিকে (স্বপ্না) অনেকবার বলেছি—বইন দরজাটা খুল, তোর কিচ্ছু হবে না। কিন্তু সে দরজা খুলে নাই। ভেতরে ঢুকে বাথরুমের সামনে অনেক রক্ত দেখি। আর দেখি আমার মেয়ের দেহ এক জায়গায়, মাথা আরেক জায়গায়।"
রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা জবানবন্দিতে জানান, ঘটনার দিন সকালে তিনি বনানীর অফিসে চলে গিয়েছিলেন। স্ত্রী ফোন করে রামিসাকে খুঁজে না পাওয়ার কথা জানালে তিনি দ্রুত বাসে করে ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে বাসায় ছোটেন।
বাসার সামনে ও ফ্ল্যাটের সামনে প্রচুর মানুষ জড়ো হতে দেখেন তিনি। পাশের ফ্ল্যাটে রামিসা আটকে আছে শুনে তিনি নিচে গিয়ে একটি হাতুড়ি নিয়ে আসেন এবং অন্যদের সহায়তায় প্রায় ২০-২৫ মিনিট চেষ্টা করে দরজার তালা ভাঙেন। তালা ভাঙার পর ঘরের ভেতরের দৃশ্য বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন,
ঘরের ভেতরে ঢুকে কমন রুম ও বাথরুমের দরজা বন্ধ এবং টয়লেটের ভেতরে রক্ত দেখা যায়।আসামি স্বপ্না তখন ঘরের ভেতর নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে হাঁটাহাঁটি করছিল। উপস্থিত একজন ঘরের ভেতরের স্টিলের খাটটি উঁচু করতেই নিচের একটি বড় বালতির ভেতর রামিসার কাটা মাথা দেখতে পান। এই নৃশংস দৃশ্য দেখার সাথে সাথেই তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
পরবর্তীতে থানায় গিয়ে মামলা দায়ের করেন। পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসাকে গত ১৯ মে ২০২৬ তারিখে কৌশলে রুমে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ ও নৃসংশভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর ২০ মে পল্লবী থানায় মামলা করেন শিশুটির বাবা। ২৪ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেন। ১ জুন ২০২৬ (সোমবার) আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন এবং ১৮ জন সাক্ষীর বিরুদ্ধে সমন জারি করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী—যাদের মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেট, চিকিৎসক, আলামত সংগ্রহকারী কর্মকর্তা এবং প্রতিবেশীরা রয়েছেন, পর্যায়ক্রমে তাদেরও সাক্ষ্যগ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন