আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাচ্ছে গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ খ্যাত ২৩তম ফুটবল বিশ্বকাপ। আর এই বিশ্বমঞ্চে মাঠে বল গড়ানোর আগেই দেশজুড়ে শুরু হয়ে গেছে ফুটবল উন্মাদনা। রাজধানীর অভিজাত স্পোর্টস শোরুম থেকে শুরু করে ফুটপাতের অস্থায়ী দোকান—সবখানেই এখন শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন দেশের জার্সি ও পতাকা। বরাবরের মতোই জার্সির বাজারে রাজত্ব করছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা।
মঙ্গলবার (২ জুন ২০২৬) রাজধানীর গুলিস্তানের ফুটপাত ও ঐতিহ্যবাহী স্পোর্টস মার্কেট ঘুরে বিশ্বকাপ জার্সির জমজমাট বেচাকেনার এই চিত্র দেখা গেছে।
ক্রেতাদের সুবিধার্থে এবং কাপড়ের মানভেদে বাজারে বিভিন্ন দামের জার্সি পাওয়া যাচ্ছে, সাধারণ ক্রেতা ও নিম্ন-আয়ের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য গুলিস্তানের ফুটপাতে ১০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন দলের জার্সি। একটু ভালো মানের জার্সির জন্য গুনতে হচ্ছে ৫০০ থেকে ১,৮০০ টাকা পর্যন্ত।
গুলিস্তান স্পোর্টস মার্কেটে পাইকারিভাবে ২০০ থেকে ১,০০০ টাকা মূল্যের জার্সি বিক্রি হচ্ছে, যা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের খুচরা বিক্রেতারা।
বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে জার্সির দাম স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। মানভেদে পাইকারি ও খুচরা বাজারে প্রতি পিস জার্সিতে ১০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম রাখা হচ্ছে।
দোকানের তাকে কিংবা ফুটপাতের ঝুলন্ত পসরায় জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল বা ইংল্যান্ডের জার্সি দেখা গেলেও বিক্রির দিক থেকে অনেক এগিয়ে আছে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল।
নরসিংদীর মনোহরদী থেকে আসা পাইকারি ব্যবসায়ী সুমন জানান, মফস্বল বা গ্রামাঞ্চলে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের জার্সির চাহিদাই সবচেয়ে বেশি। অন্য দলগুলোর জার্সি বিক্রি হয় নামমাত্র। গুলিস্তানের সালমান স্পোর্টসের বিক্রেতা নূরে আলম মিয়াজিও নিশ্চিত করেন যে, অন্যান্য দলের তুলনায় লাতিন আমেরিকার এই দুই পরাশক্তির জার্সি বিক্রি হচ্ছে কয়েকগুণ বেশি।
জার্সি কিনতে আসা ক্রেতাদের মধ্যে দেখা গেছে দারুণ উৎসাহ। লালবাগ থেকে আসা মো. সেলিম হোসেন নিজের দুই নাতনির জন্য আর্জেন্টিনার জার্সি কিনেছেন। তিনি জানান, তার নিজের পরিবারেই রয়েছে ফুটবল নিয়ে মধুর বৈরিতা—দুই ছেলে-মেয়ে ব্রাজিলের সমর্থক হলেও তিনি ও তার নাতনিরা আর্জেন্টিনার ভক্ত।
আবার জুরাইন থেকে আসা দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী লাহিন নিজের জন্য আকাশী-সাদা (আর্জেন্টিনা) এবং ছোট ভাই আবিরের জন্য হলুদ-সবুজ (ব্রাজিল) জার্সি কিনে বাড়ি ফিরছেন।
খেলা শুরুর দিন যত ঘনিয়ে আসবে, এই জার্সি বিক্রি এবং ফুটবল উন্মাদনা আরও কয়েকগুণ বাড়বে বলে আশা করছেন গুলিস্তানের ব্যবসায়ীরা।
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬, বিশ্বকাপ জার্সি, ফুটবল উন্মাদনা, ব্রাজিল আর্জেন্টিনা জার্সি, গুলিস্তান স্পোর্টস মার্কেট, জার্সির বাজার, ফুটবল ভক্ত, বাংলাদেশ ফুটবল উন্মাদনা, Football World Cup 2026, World Cup Jersey, Football Craze, Brazil Argentina Jersey, Gulistan Sports Market, Jersey Market, Football Fans, Bangladesh Football Craze

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ জুন ২০২৬
আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাচ্ছে গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ খ্যাত ২৩তম ফুটবল বিশ্বকাপ। আর এই বিশ্বমঞ্চে মাঠে বল গড়ানোর আগেই দেশজুড়ে শুরু হয়ে গেছে ফুটবল উন্মাদনা। রাজধানীর অভিজাত স্পোর্টস শোরুম থেকে শুরু করে ফুটপাতের অস্থায়ী দোকান—সবখানেই এখন শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন দেশের জার্সি ও পতাকা। বরাবরের মতোই জার্সির বাজারে রাজত্ব করছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা।
মঙ্গলবার (২ জুন ২০২৬) রাজধানীর গুলিস্তানের ফুটপাত ও ঐতিহ্যবাহী স্পোর্টস মার্কেট ঘুরে বিশ্বকাপ জার্সির জমজমাট বেচাকেনার এই চিত্র দেখা গেছে।
ক্রেতাদের সুবিধার্থে এবং কাপড়ের মানভেদে বাজারে বিভিন্ন দামের জার্সি পাওয়া যাচ্ছে, সাধারণ ক্রেতা ও নিম্ন-আয়ের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য গুলিস্তানের ফুটপাতে ১০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন দলের জার্সি। একটু ভালো মানের জার্সির জন্য গুনতে হচ্ছে ৫০০ থেকে ১,৮০০ টাকা পর্যন্ত।
গুলিস্তান স্পোর্টস মার্কেটে পাইকারিভাবে ২০০ থেকে ১,০০০ টাকা মূল্যের জার্সি বিক্রি হচ্ছে, যা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের খুচরা বিক্রেতারা।
বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে জার্সির দাম স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। মানভেদে পাইকারি ও খুচরা বাজারে প্রতি পিস জার্সিতে ১০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম রাখা হচ্ছে।
দোকানের তাকে কিংবা ফুটপাতের ঝুলন্ত পসরায় জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল বা ইংল্যান্ডের জার্সি দেখা গেলেও বিক্রির দিক থেকে অনেক এগিয়ে আছে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল।
নরসিংদীর মনোহরদী থেকে আসা পাইকারি ব্যবসায়ী সুমন জানান, মফস্বল বা গ্রামাঞ্চলে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের জার্সির চাহিদাই সবচেয়ে বেশি। অন্য দলগুলোর জার্সি বিক্রি হয় নামমাত্র। গুলিস্তানের সালমান স্পোর্টসের বিক্রেতা নূরে আলম মিয়াজিও নিশ্চিত করেন যে, অন্যান্য দলের তুলনায় লাতিন আমেরিকার এই দুই পরাশক্তির জার্সি বিক্রি হচ্ছে কয়েকগুণ বেশি।
জার্সি কিনতে আসা ক্রেতাদের মধ্যে দেখা গেছে দারুণ উৎসাহ। লালবাগ থেকে আসা মো. সেলিম হোসেন নিজের দুই নাতনির জন্য আর্জেন্টিনার জার্সি কিনেছেন। তিনি জানান, তার নিজের পরিবারেই রয়েছে ফুটবল নিয়ে মধুর বৈরিতা—দুই ছেলে-মেয়ে ব্রাজিলের সমর্থক হলেও তিনি ও তার নাতনিরা আর্জেন্টিনার ভক্ত।
আবার জুরাইন থেকে আসা দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী লাহিন নিজের জন্য আকাশী-সাদা (আর্জেন্টিনা) এবং ছোট ভাই আবিরের জন্য হলুদ-সবুজ (ব্রাজিল) জার্সি কিনে বাড়ি ফিরছেন।
খেলা শুরুর দিন যত ঘনিয়ে আসবে, এই জার্সি বিক্রি এবং ফুটবল উন্মাদনা আরও কয়েকগুণ বাড়বে বলে আশা করছেন গুলিস্তানের ব্যবসায়ীরা।

আপনার মতামত লিখুন