নজর বিডি

কাশিয়ানীতে টিআর রাস্তার সরকারি ইট চুরির অভিযোগ

কাশিয়ানীতে টিআর রাস্তার সরকারি ইট চুরির অভিযোগ

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের ছোট পারুলিয়া গ্রামে টিআর (টেস্ট রিলিফ) প্রকল্পের পুনর্নির্মিত সরকারি রাস্তার পুরনো ইট অবৈধভাবে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের (প্যানেল চেয়ারম্যান) বিরুদ্ধে। 

সরকারি নীতিমালা তোয়াক্কা না করে এভাবে সরকারি সম্পত্তি বিক্রি করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়রা জানান, ছোট পারুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে দক্ষিণ পাড়া (গাজী বাড়ি) পর্যন্ত ফুট বাই ফুট রাস্তাটির নতুন বরাদ্দ আসায় সংস্কার কাজ শুরু হয়। সংস্কারের কারণে রাস্তা থেকে পুরনো সরকারি ইটগুলো তোলা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান (মেম্বার) লিয়াকত আলী লিটু ক্ষমতার অপব্যবহার করে সেই পুরনো ইটগুলো গোপনে বিক্রি করে দিয়েছেন। ইটগুলো সাজাইল বাজারের স্যানিটারি সামগ্রী বিক্রেতা মো. নান্নু মিয়া ও স্থানীয় বাসিন্দা ফারুকের কাছে বিক্রি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ৬নং ওয়ার্ড সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান মোহাম্মদ লিয়াকত আলী ওরফে লিটু মেম্বার ইট বিক্রির কথা স্বীকার করেছেন। তবে নিজের পক্ষে সাফাই গেয়ে তিনি বলেন, "ইট বিক্রির আগে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আওয়াল হোসেনকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল।" তিনি আরও দাবি করেন, বিক্রিত ইটের টাকা ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, বরং পারুলিয়া ঈদগাঁ মাঠের উন্নয়ন কাজে ব্যয় করা হয়েছে।

লিয়াকত মেম্বারের দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আওয়াল হোসেন। তিনি বলেন, "রাস্তা পুনঃনির্মাণ শেষে কিছু পুরনো ভাঙা ইট অবশিষ্ট থাকার কথা প্রকল্প চেয়ারম্যান (সিপিসি) মো. লিয়াকত আলী মেম্বার আমাকে জানিয়েছিলেন। তখন আমি ইটগুলো স্থানীয় একটি মসজিদে দান করে দেওয়ার পরামর্শ দিই। কিন্তু সেই ইট বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই। ইট বিক্রির কোনো অনুমতি আমি দিইনি।"

তিনি আরও স্পষ্ট করেন, প্রকল্পের নীতিমালা অনুযায়ী, কাজ শেষে অবশিষ্ট সরকারি মালামাল ব্যক্তিগত বা মৌখিকভাবে বিক্রি করার কোনো সুযোগ নেই। লিখিত অনুমোদন নিয়ে সরকারি বিধি মোতাবেক নিলামের মাধ্যমেই কেবল তা নিষ্পত্তি করতে হয়।

এ বিষয়ে পারুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বলেন, "ঘটনার সময় আমি দায়িত্ব পালনকালীন ছুটিতে ছিলাম। মেম্বার ও প্রকৌশলীর বক্তব্য সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। সরকারি মালামাল এভাবে বিক্রি করা স্পষ্ট অনিয়ম। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: শাহীন মিয়া জানান, "সরকারি প্রকল্পের মালামাল নিলাম ছাড়া বিক্রির সুযোগ নেই। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত কমিটি গঠন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

এদিকে ছোট পারুলিয়া গ্রামের বাসিন্দারা এই দুর্নীতির ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষী জনপ্রতিনিধির শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের জোর দাবি জানিয়েছেন।

বিষয় : নজরবিডি সংবাদ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


কাশিয়ানীতে টিআর রাস্তার সরকারি ইট চুরির অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০২ জুন ২০২৬

featured Image

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের ছোট পারুলিয়া গ্রামে টিআর (টেস্ট রিলিফ) প্রকল্পের পুনর্নির্মিত সরকারি রাস্তার পুরনো ইট অবৈধভাবে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের (প্যানেল চেয়ারম্যান) বিরুদ্ধে। 

সরকারি নীতিমালা তোয়াক্কা না করে এভাবে সরকারি সম্পত্তি বিক্রি করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়রা জানান, ছোট পারুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে দক্ষিণ পাড়া (গাজী বাড়ি) পর্যন্ত ফুট বাই ফুট রাস্তাটির নতুন বরাদ্দ আসায় সংস্কার কাজ শুরু হয়। সংস্কারের কারণে রাস্তা থেকে পুরনো সরকারি ইটগুলো তোলা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান (মেম্বার) লিয়াকত আলী লিটু ক্ষমতার অপব্যবহার করে সেই পুরনো ইটগুলো গোপনে বিক্রি করে দিয়েছেন। ইটগুলো সাজাইল বাজারের স্যানিটারি সামগ্রী বিক্রেতা মো. নান্নু মিয়া ও স্থানীয় বাসিন্দা ফারুকের কাছে বিক্রি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ৬নং ওয়ার্ড সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান মোহাম্মদ লিয়াকত আলী ওরফে লিটু মেম্বার ইট বিক্রির কথা স্বীকার করেছেন। তবে নিজের পক্ষে সাফাই গেয়ে তিনি বলেন, "ইট বিক্রির আগে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আওয়াল হোসেনকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল।" তিনি আরও দাবি করেন, বিক্রিত ইটের টাকা ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, বরং পারুলিয়া ঈদগাঁ মাঠের উন্নয়ন কাজে ব্যয় করা হয়েছে।

লিয়াকত মেম্বারের দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আওয়াল হোসেন। তিনি বলেন, "রাস্তা পুনঃনির্মাণ শেষে কিছু পুরনো ভাঙা ইট অবশিষ্ট থাকার কথা প্রকল্প চেয়ারম্যান (সিপিসি) মো. লিয়াকত আলী মেম্বার আমাকে জানিয়েছিলেন। তখন আমি ইটগুলো স্থানীয় একটি মসজিদে দান করে দেওয়ার পরামর্শ দিই। কিন্তু সেই ইট বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই। ইট বিক্রির কোনো অনুমতি আমি দিইনি।"

তিনি আরও স্পষ্ট করেন, প্রকল্পের নীতিমালা অনুযায়ী, কাজ শেষে অবশিষ্ট সরকারি মালামাল ব্যক্তিগত বা মৌখিকভাবে বিক্রি করার কোনো সুযোগ নেই। লিখিত অনুমোদন নিয়ে সরকারি বিধি মোতাবেক নিলামের মাধ্যমেই কেবল তা নিষ্পত্তি করতে হয়।

এ বিষয়ে পারুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বলেন, "ঘটনার সময় আমি দায়িত্ব পালনকালীন ছুটিতে ছিলাম। মেম্বার ও প্রকৌশলীর বক্তব্য সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। সরকারি মালামাল এভাবে বিক্রি করা স্পষ্ট অনিয়ম। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: শাহীন মিয়া জানান, "সরকারি প্রকল্পের মালামাল নিলাম ছাড়া বিক্রির সুযোগ নেই। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত কমিটি গঠন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

এদিকে ছোট পারুলিয়া গ্রামের বাসিন্দারা এই দুর্নীতির ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষী জনপ্রতিনিধির শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের জোর দাবি জানিয়েছেন।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত