ফুটবলপ্রেমীরা যখন অধীর আগ্রহে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছেন, ঠিক তখনই বিশ্ব ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম এক অনন্য ও দুর্লভ স্মারক নিলামে উঠতে যাচ্ছে।
ফুটবল কিংবদন্তি প্রয়াত পেলের ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে পরা বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সিটি আগামী ২৯ জুন থেকে ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে একটি অনলাইন নিলামে তোলা হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিখ্যাত নিলামকারী প্রতিষ্ঠান সোথবিস।
সোথবিসের আধুনিক সংগ্রহযোগ্য পণ্যের প্রধান ব্রাহম ওয়াচটার এক বিবৃতিতে বলেন, “ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলারের রাজত্ব শুরুর রাতে তাঁর পরা পোশাক ছিল এটি।”
ঐতিহাসিক এই জার্সিটির আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছে ৬০ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ৭০ কোটি টাকার বেশি)। যদি এই মূল্যে জার্সিটি বিক্রি হয়, তবে ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে একমাত্র তিনবার ট্রফি জয়ী এই মহাতারকার যেকোনো স্মারক বিক্রির রেকর্ডে এটিই হবে সবচেয়ে মূল্যবান সামগ্রী। নিলাম চলাকালীন সময়ে আগামী ১ জুলাই থেকে নিউইয়র্কের সোথবিস ব্রুয়ের ভবনে সাধারণ দর্শকদের প্রদর্শনের জন্য জার্সিটি উন্মুক্ত রাখা হবে।
১৯৫৮ সালে স্টকহোমের রাসুন্দা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক সুইডেনের বিপক্ষে ফাইনালে ৫-২ গোলের জয়ে জোড়া গোল করেছিলেন মাত্র ১৭ বছর বয়সী পেলে। বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করার সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়ের মর্যাদা এখনও তাঁর দখলে। ফাইনাল ম্যাচটি শেষ হওয়ার পর পেলে তাঁর এই হাতে তৈরি জার্সিটি রুমমেট ও সতীর্থ দিদাকে উপহার দিয়েছিলেন।
জার্সিটি কয়েক দশক ধরে দিদার পরিবারের কাছেই পরম যত্নে সংরক্ষিত ছিল। পরবর্তীতে এটি ব্রাজিলের একটি জাদুঘরে রাখা হয় এবং সবশেষে ২০০৪ সালে একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বর্তমান মালিক এটি সংগ্রহ করেন। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ৮২ বছর বয়সে কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান কিংবদন্তি পেলে।
ফুটবল ভক্তদের মতে, ১৯৫৮ সালের সেই ফাইনালে পেলের করা প্রথম গোলটি ছিল বিশ্বকাপের ইতিহাসের অন্যতম সেরা। তিনি বুক দিয়ে বলটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সুইডিশ ডিফেন্ডারের মাথার ওপর দিয়ে ফ্লিক করে বের করে এনে দুর্দান্ত এক ভলিতে গোল করেছিলেন। আর দ্বিতীয় গোলটি এসেছিল ম্যাচের শেষ মুহূর্তে একটি নিখুঁত হেডারের মাধ্যমে।
কাকতালীয়ভাবে, ১৯৭০ সালে মেক্সিকোতে পেলে তাঁর ক্যারিয়ারের তৃতীয় ও শেষ বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছিলেন। আর চলতি ২০২৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার সঙ্গে যৌথভাবে সেই মেক্সিকোই বিশ্বকাপ আয়োজন করছে। সে সময় মেক্সিকোর যে ঐতিহ্যবাহী ‘অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে’ পেলেকে চ্যাম্পিয়ন হতে দেখা গিয়েছিল, ঠিক সেই স্টেডিয়ামেই মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্বোধনী ম্যাচ দিয়ে মাঠে গড়াবে এবারের বিশ্বকাপ।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬
ফুটবলপ্রেমীরা যখন অধীর আগ্রহে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছেন, ঠিক তখনই বিশ্ব ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম এক অনন্য ও দুর্লভ স্মারক নিলামে উঠতে যাচ্ছে।
ফুটবল কিংবদন্তি প্রয়াত পেলের ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে পরা বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সিটি আগামী ২৯ জুন থেকে ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে একটি অনলাইন নিলামে তোলা হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিখ্যাত নিলামকারী প্রতিষ্ঠান সোথবিস।
সোথবিসের আধুনিক সংগ্রহযোগ্য পণ্যের প্রধান ব্রাহম ওয়াচটার এক বিবৃতিতে বলেন, “ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলারের রাজত্ব শুরুর রাতে তাঁর পরা পোশাক ছিল এটি।”
ঐতিহাসিক এই জার্সিটির আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছে ৬০ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ৭০ কোটি টাকার বেশি)। যদি এই মূল্যে জার্সিটি বিক্রি হয়, তবে ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে একমাত্র তিনবার ট্রফি জয়ী এই মহাতারকার যেকোনো স্মারক বিক্রির রেকর্ডে এটিই হবে সবচেয়ে মূল্যবান সামগ্রী। নিলাম চলাকালীন সময়ে আগামী ১ জুলাই থেকে নিউইয়র্কের সোথবিস ব্রুয়ের ভবনে সাধারণ দর্শকদের প্রদর্শনের জন্য জার্সিটি উন্মুক্ত রাখা হবে।
১৯৫৮ সালে স্টকহোমের রাসুন্দা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক সুইডেনের বিপক্ষে ফাইনালে ৫-২ গোলের জয়ে জোড়া গোল করেছিলেন মাত্র ১৭ বছর বয়সী পেলে। বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করার সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়ের মর্যাদা এখনও তাঁর দখলে। ফাইনাল ম্যাচটি শেষ হওয়ার পর পেলে তাঁর এই হাতে তৈরি জার্সিটি রুমমেট ও সতীর্থ দিদাকে উপহার দিয়েছিলেন।
জার্সিটি কয়েক দশক ধরে দিদার পরিবারের কাছেই পরম যত্নে সংরক্ষিত ছিল। পরবর্তীতে এটি ব্রাজিলের একটি জাদুঘরে রাখা হয় এবং সবশেষে ২০০৪ সালে একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বর্তমান মালিক এটি সংগ্রহ করেন। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ৮২ বছর বয়সে কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান কিংবদন্তি পেলে।
ফুটবল ভক্তদের মতে, ১৯৫৮ সালের সেই ফাইনালে পেলের করা প্রথম গোলটি ছিল বিশ্বকাপের ইতিহাসের অন্যতম সেরা। তিনি বুক দিয়ে বলটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সুইডিশ ডিফেন্ডারের মাথার ওপর দিয়ে ফ্লিক করে বের করে এনে দুর্দান্ত এক ভলিতে গোল করেছিলেন। আর দ্বিতীয় গোলটি এসেছিল ম্যাচের শেষ মুহূর্তে একটি নিখুঁত হেডারের মাধ্যমে।
কাকতালীয়ভাবে, ১৯৭০ সালে মেক্সিকোতে পেলে তাঁর ক্যারিয়ারের তৃতীয় ও শেষ বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছিলেন। আর চলতি ২০২৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার সঙ্গে যৌথভাবে সেই মেক্সিকোই বিশ্বকাপ আয়োজন করছে। সে সময় মেক্সিকোর যে ঐতিহ্যবাহী ‘অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে’ পেলেকে চ্যাম্পিয়ন হতে দেখা গিয়েছিল, ঠিক সেই স্টেডিয়ামেই মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্বোধনী ম্যাচ দিয়ে মাঠে গড়াবে এবারের বিশ্বকাপ।

আপনার মতামত লিখুন