পুষ্টিগুণে ভরপুর ডার্ক চকোলেট স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি খাবার, যা মূলত কোকো ফ্ল্যাভানল সমৃদ্ধ। দৈনিক মাত্র ১-২টি ছোট টুকরো ডার্ক চকোলেট খেলে তা হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষা, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করা এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমানোর মতো দারুণ কাজ করে।
তবে স্বাস্থ্য সচেতনদের মাঝে একটি কথা প্রচলিত আছে যে, ডার্ক চকোলেট পিরিয়ডের (মাসিক) অস্বস্তি ও ব্যথা কমাতেও সাহায্য করে। আসলেই কি তথ্যটি সত্য? চলুন জেনে নেওয়া যাক এর বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা—
চিকিৎসকদের মতে, ডার্ক চকোলেট খেলে অনেকের পিরিয়ডের ব্যথা সাময়িকভাবে কমতে পারে, তবে এটি কোনো স্থায়ী বা সম্পূর্ণ চিকিৎসা নয়। ডার্ক চকোলেটে প্রচুর পরিমাণে 'ম্যাগনেসিয়াম' থাকে। এই খনিজ উপাদানটি শরীরের পেশী শিথিল (রিল্যাক্স) করতে সাহায্য করে। ম্যাগনেসিয়াম জরায়ুর তীব্র সংকোচন কমায়, যা মূলত পিরিয়ডের সময় পেটে মোচড় বা ক্র্যাম্পের প্রধান কারণ। এছাড়া এতে থাকা অল্প পরিমাণ পটাশিয়াম এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রক্ত সঞ্চালনে সহায়তা করে এবং প্রদাহ কমায়। ফলে পিরিয়ডের সময় পরিমিত ডার্ক চকোলেট খেলে নারীরা কিছুটা আরাম বোধ করেন।
ব্যথা কমানোর পাশাপাশি এটি মেজাজ বা 'মুড' ভালো রাখতে দারুণ ভূমিকা রাখে। ডার্ক চকোলেট মস্তিষ্কে সেরোটোনিন এবং এন্ডোরফিনের মতো 'ফিল গুড' রাসায়নিকের নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয়। এই হরমোনগুলো পিরিয়ডের সময় অনুভূত হওয়া মানসিক চাপ, খিটখিটে মেজাজ, বিরক্তি এবং আবেগগত অস্বস্তি দ্রুত কমাতে সাহায্য করে। যেহেতু মানসিক চাপ বাড়লে ব্যথার তীব্রতাও বাড়ে, তাই মানসিকভাবে স্বস্তি বোধ করা পরোক্ষভাবে পিরিয়ডের ব্যথা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
'দ্য জার্নাল অফ নিউট্রিশনাল বায়োকেমিস্ট্রি'-তে প্রকাশিত ২০২২ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, যেসব নারী প্রতিদিন ৮৫% কোকো সমৃদ্ধ ডার্ক চকোলেট খেয়েছেন, তাদের মেজাজ অন্য নারীদের তুলনায় অনেক বেশি ভালো ও প্রফুল্ল ছিল।
মনে রাখা জরুরি, পিরিয়ডের ব্যথা কমাতে ডার্ক চকোলেটের প্রভাব সাধারণত মৃদু বা হালকা হয়। তাই তীব্র বা অসহ্য মাসিকের ব্যথার জন্য শুধু চকোলেট যথেষ্ট নয়। খুব বেশি যন্ত্রণাদায়ক ক্র্যাম্প বা পিঠে-পেটে তীব্র ব্যথা কখনো কখনো এন্ডোমেট্রিওসিস, অ্যাডেনোমায়োসিস, জরায়ু ফাইব্রয়েড বা হরমোনের মারাত্মক ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ হতে পারে, যার জন্য সঠিক চিকিৎসার প্রয়োজন। ব্যথা উপশমের জন্য শুধুমাত্র চকোলেটের ওপর নির্ভর করলে মূল রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় বিলম্ব হতে পারে। এছাড়া অতিরিক্ত চকোলেট, বিশেষ করে যাতে চিনি বেশি থাকে, তা খেলে পেট ফাঁপা বা গ্যাস্ট্রিকের অস্বস্তি বাড়তে পারে।
পিরিয়ডের সময় চকোলেট খেতে চাইলে অবশ্যই ৭০% বা তার বেশি কোকোযুক্ত ডার্ক চকোলেট বেছে নিন। কারণ সাধারণ মিল্ক চকোলেটের তুলনায় এতে ম্যাগনেসিয়াম বেশি এবং চিনির পরিমাণ অনেক কম থাকে।
ব্যথা ও শারীরিক অস্বস্তি ভালোভাবে সামলানোর জন্য চিকিৎসকেরা কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের পরামর্শ দেন। যেমন— নিয়মিত হালকা ব্যায়াম বা ইয়োগা, তলপেটে গরম জলের সেঁক (হট ওয়াটার ব্যাগ), পর্যাপ্ত পানি পান, সুষম পুষ্টি গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত ঘুম।
পিরিয়ডের ব্যথা যদি অতিরিক্ত তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং তা আপনার দৈনন্দিন স্বাভাবিক জীবনে ব্যাঘাত ঘটায়, তবে ঘরোয়া উপায়ের ওপর নির্ভর না করে দ্রুত একজন অভিজ্ঞ স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের (গাইনোকোলজিস্ট) পরামর্শ নিন।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুন ২০২৬
পুষ্টিগুণে ভরপুর ডার্ক চকোলেট স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি খাবার, যা মূলত কোকো ফ্ল্যাভানল সমৃদ্ধ। দৈনিক মাত্র ১-২টি ছোট টুকরো ডার্ক চকোলেট খেলে তা হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষা, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করা এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমানোর মতো দারুণ কাজ করে।
তবে স্বাস্থ্য সচেতনদের মাঝে একটি কথা প্রচলিত আছে যে, ডার্ক চকোলেট পিরিয়ডের (মাসিক) অস্বস্তি ও ব্যথা কমাতেও সাহায্য করে। আসলেই কি তথ্যটি সত্য? চলুন জেনে নেওয়া যাক এর বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা—
চিকিৎসকদের মতে, ডার্ক চকোলেট খেলে অনেকের পিরিয়ডের ব্যথা সাময়িকভাবে কমতে পারে, তবে এটি কোনো স্থায়ী বা সম্পূর্ণ চিকিৎসা নয়। ডার্ক চকোলেটে প্রচুর পরিমাণে 'ম্যাগনেসিয়াম' থাকে। এই খনিজ উপাদানটি শরীরের পেশী শিথিল (রিল্যাক্স) করতে সাহায্য করে। ম্যাগনেসিয়াম জরায়ুর তীব্র সংকোচন কমায়, যা মূলত পিরিয়ডের সময় পেটে মোচড় বা ক্র্যাম্পের প্রধান কারণ। এছাড়া এতে থাকা অল্প পরিমাণ পটাশিয়াম এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রক্ত সঞ্চালনে সহায়তা করে এবং প্রদাহ কমায়। ফলে পিরিয়ডের সময় পরিমিত ডার্ক চকোলেট খেলে নারীরা কিছুটা আরাম বোধ করেন।
ব্যথা কমানোর পাশাপাশি এটি মেজাজ বা 'মুড' ভালো রাখতে দারুণ ভূমিকা রাখে। ডার্ক চকোলেট মস্তিষ্কে সেরোটোনিন এবং এন্ডোরফিনের মতো 'ফিল গুড' রাসায়নিকের নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয়। এই হরমোনগুলো পিরিয়ডের সময় অনুভূত হওয়া মানসিক চাপ, খিটখিটে মেজাজ, বিরক্তি এবং আবেগগত অস্বস্তি দ্রুত কমাতে সাহায্য করে। যেহেতু মানসিক চাপ বাড়লে ব্যথার তীব্রতাও বাড়ে, তাই মানসিকভাবে স্বস্তি বোধ করা পরোক্ষভাবে পিরিয়ডের ব্যথা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
'দ্য জার্নাল অফ নিউট্রিশনাল বায়োকেমিস্ট্রি'-তে প্রকাশিত ২০২২ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, যেসব নারী প্রতিদিন ৮৫% কোকো সমৃদ্ধ ডার্ক চকোলেট খেয়েছেন, তাদের মেজাজ অন্য নারীদের তুলনায় অনেক বেশি ভালো ও প্রফুল্ল ছিল।
মনে রাখা জরুরি, পিরিয়ডের ব্যথা কমাতে ডার্ক চকোলেটের প্রভাব সাধারণত মৃদু বা হালকা হয়। তাই তীব্র বা অসহ্য মাসিকের ব্যথার জন্য শুধু চকোলেট যথেষ্ট নয়। খুব বেশি যন্ত্রণাদায়ক ক্র্যাম্প বা পিঠে-পেটে তীব্র ব্যথা কখনো কখনো এন্ডোমেট্রিওসিস, অ্যাডেনোমায়োসিস, জরায়ু ফাইব্রয়েড বা হরমোনের মারাত্মক ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ হতে পারে, যার জন্য সঠিক চিকিৎসার প্রয়োজন। ব্যথা উপশমের জন্য শুধুমাত্র চকোলেটের ওপর নির্ভর করলে মূল রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় বিলম্ব হতে পারে। এছাড়া অতিরিক্ত চকোলেট, বিশেষ করে যাতে চিনি বেশি থাকে, তা খেলে পেট ফাঁপা বা গ্যাস্ট্রিকের অস্বস্তি বাড়তে পারে।
পিরিয়ডের সময় চকোলেট খেতে চাইলে অবশ্যই ৭০% বা তার বেশি কোকোযুক্ত ডার্ক চকোলেট বেছে নিন। কারণ সাধারণ মিল্ক চকোলেটের তুলনায় এতে ম্যাগনেসিয়াম বেশি এবং চিনির পরিমাণ অনেক কম থাকে।
ব্যথা ও শারীরিক অস্বস্তি ভালোভাবে সামলানোর জন্য চিকিৎসকেরা কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের পরামর্শ দেন। যেমন— নিয়মিত হালকা ব্যায়াম বা ইয়োগা, তলপেটে গরম জলের সেঁক (হট ওয়াটার ব্যাগ), পর্যাপ্ত পানি পান, সুষম পুষ্টি গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত ঘুম।
পিরিয়ডের ব্যথা যদি অতিরিক্ত তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং তা আপনার দৈনন্দিন স্বাভাবিক জীবনে ব্যাঘাত ঘটায়, তবে ঘরোয়া উপায়ের ওপর নির্ভর না করে দ্রুত একজন অভিজ্ঞ স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের (গাইনোকোলজিস্ট) পরামর্শ নিন।

আপনার মতামত লিখুন