ভারতে ডাটা সেন্টার প্রকল্পে অবিশ্বাস্য ৩০ বিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার কোটি থেকে ৪ লাখ কোটি টাকা) বিনিয়োগ করতে যাচ্ছেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত বিশ্বখ্যাত শিল্পপতি রবিন খুদা।
এই মেগা বিনিয়োগের অংশ হিসেবে গত শুক্রবার (৫ জুন) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতকারে মিলিত হন তিনি।
২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করবে রবিন খুদার প্রতিষ্ঠিত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘এয়ারট্রাঙ্ক’ (AirTrunk)।
রবিন খুদার জন্ম ও বেড়ে ওঠা বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। তিনি শেরেবাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে স্কুল জীবন সম্পন্ন করেন। মাত্র ১৮ বছর বয়সে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান এবং সেখানে অ্যাকাউন্টিং নিয়ে পড়াশোনা করেন। বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম শীর্ষ ধনী ব্যক্তি। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সাময়িকী ‘ফোর্বস’-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তার সম্পদের পরিমাণ ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
আরও পড়ুন: [https://nazarbd.com/]
বিশ্বের অন্যতম জনবহুল দেশ ভারতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে কাজে লাগাতে ভারতজুড়ে ৫ গিগাবাইটের (GW) ডাটা সেন্টার তৈরি করার ঘোষণা দিয়েছে এয়ারট্রাঙ্ক।
রবিন খুদার সঙ্গে বৈঠকের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন:
“এ ধরনের বিনিয়োগের ফলে বৈশ্বিক ক্লাউড কম্পিউটিং ও এআই প্রযুক্তির কেন্দ্র হিসেবে ভারতের অবস্থান আরও মজবুত হবে। পাশাপাশি এটি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে, দেশীয় সাপ্লাই চেইনকে চাঙ্গা করবে এবং উদ্ভাবন-ভিত্তিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও গতিশীল করবে।”
এই ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের সবচেয়ে বড় অংশটি যাচ্ছে ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যে। রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ জানিয়েছেন, এয়ারট্রাঙ্ক এককভাবে মহারাষ্ট্রেই ৩ গিগাবাইটের ডাটা সেন্টার তৈরি করবে। এরই মধ্যে মুম্বাইয়ের রায়গঞ্জে ডাটা সেন্টারের জন্য জমি ক্রয়ের একটি চুক্তিও সম্পন্ন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিনিয়োগের বিষয়ে রবিন খুদা ফোর্বস এশিয়াকে বলেন, “ভারত বিশ্বের এমন হাতেগোনা কয়েকটি বাজারের একটি, যেখানে আমাদের বড় বড় পরিকল্পনা ও লক্ষ্যমাত্রার সাথে তাল মিলিয়ে চলার মতো বিপুল ভবিষ্যৎ চাহিদার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশটির জনসংখ্যা, ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের হার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে তাদের যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা—এরকম দুর্দান্ত কম্বিনেশন বিশ্বের অন্য কোথাও পাওয়া কঠিন।”
২০১৫ সালে এয়ারট্রাঙ্ক প্রতিষ্ঠা করেন রবিন খুদা। ভারত ছাড়াও বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া, হংকং, জাপান, মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরে এই প্রতিষ্ঠানের ডাটা সেন্টার ও বাণিজ্যিক পরিধি বিস্তৃত রয়েছে।
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ রবিন খুদা, নরেন্দ্র মোদি, এয়ারট্রাঙ্ক, ডাটা সেন্টার, মেগা বিনিয়োগ, বাংলাদেশী শিল্পপতি, আইটি নিউজ, আন্তর্জাতিক সংবাদ, ক্লাউড কম্পিউটিং, এআই প্রযুক্তি Robin Khuda, Narendra Modi, AirTrunk, Data Center, Mega Investment, Bangladeshi Billionaire, IT News, International News, Cloud Computing, AI Technology

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬
ভারতে ডাটা সেন্টার প্রকল্পে অবিশ্বাস্য ৩০ বিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার কোটি থেকে ৪ লাখ কোটি টাকা) বিনিয়োগ করতে যাচ্ছেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত বিশ্বখ্যাত শিল্পপতি রবিন খুদা।
এই মেগা বিনিয়োগের অংশ হিসেবে গত শুক্রবার (৫ জুন) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতকারে মিলিত হন তিনি।
২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করবে রবিন খুদার প্রতিষ্ঠিত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘এয়ারট্রাঙ্ক’ (AirTrunk)।
রবিন খুদার জন্ম ও বেড়ে ওঠা বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। তিনি শেরেবাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে স্কুল জীবন সম্পন্ন করেন। মাত্র ১৮ বছর বয়সে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান এবং সেখানে অ্যাকাউন্টিং নিয়ে পড়াশোনা করেন। বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম শীর্ষ ধনী ব্যক্তি। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সাময়িকী ‘ফোর্বস’-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তার সম্পদের পরিমাণ ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
আরও পড়ুন: [https://nazarbd.com/]
বিশ্বের অন্যতম জনবহুল দেশ ভারতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে কাজে লাগাতে ভারতজুড়ে ৫ গিগাবাইটের (GW) ডাটা সেন্টার তৈরি করার ঘোষণা দিয়েছে এয়ারট্রাঙ্ক।
রবিন খুদার সঙ্গে বৈঠকের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন:
“এ ধরনের বিনিয়োগের ফলে বৈশ্বিক ক্লাউড কম্পিউটিং ও এআই প্রযুক্তির কেন্দ্র হিসেবে ভারতের অবস্থান আরও মজবুত হবে। পাশাপাশি এটি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে, দেশীয় সাপ্লাই চেইনকে চাঙ্গা করবে এবং উদ্ভাবন-ভিত্তিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও গতিশীল করবে।”
এই ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের সবচেয়ে বড় অংশটি যাচ্ছে ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যে। রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ জানিয়েছেন, এয়ারট্রাঙ্ক এককভাবে মহারাষ্ট্রেই ৩ গিগাবাইটের ডাটা সেন্টার তৈরি করবে। এরই মধ্যে মুম্বাইয়ের রায়গঞ্জে ডাটা সেন্টারের জন্য জমি ক্রয়ের একটি চুক্তিও সম্পন্ন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিনিয়োগের বিষয়ে রবিন খুদা ফোর্বস এশিয়াকে বলেন, “ভারত বিশ্বের এমন হাতেগোনা কয়েকটি বাজারের একটি, যেখানে আমাদের বড় বড় পরিকল্পনা ও লক্ষ্যমাত্রার সাথে তাল মিলিয়ে চলার মতো বিপুল ভবিষ্যৎ চাহিদার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশটির জনসংখ্যা, ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের হার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে তাদের যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা—এরকম দুর্দান্ত কম্বিনেশন বিশ্বের অন্য কোথাও পাওয়া কঠিন।”
২০১৫ সালে এয়ারট্রাঙ্ক প্রতিষ্ঠা করেন রবিন খুদা। ভারত ছাড়াও বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া, হংকং, জাপান, মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরে এই প্রতিষ্ঠানের ডাটা সেন্টার ও বাণিজ্যিক পরিধি বিস্তৃত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন