সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে ঘুমাতে যাওয়ার আগে বিছানায় শুয়ে শুয়ে ফোন ব্যবহার করা এখন বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, অন্ধকার ঘরে অল্প সময়ের জন্য হলেও স্মার্টফোন ব্যবহার করলে তা আপনার দৃষ্টিশক্তি এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুসারে, সম্পূর্ণ অন্ধকারে মাত্র ১৫ মিনিট উজ্জ্বল ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে সাময়িক দৃষ্টিশক্তির সমস্যা হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে বলা হয় ‘ক্ষণস্থায়ী স্মার্টফোন অন্ধত্ব’ (Transient Smartphone Blindness)।
চক্ষুবিজ্ঞানবিষয়ক আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘হিমালয়ান জার্নাল অফ অফথালমোলজিতে’ প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে, এই সমস্যাটি তখনই ঘটে যখন আমাদের একটি চোখ উজ্জ্বল স্ক্রিনের সংস্পর্শে আসে এবং অন্য চোখটি অন্ধকারের সঙ্গে অভ্যস্ত থাকে।
সাধারণত বিছানায় একপাশে কাত হয়ে শুয়ে এবং একটি চোখ বালিশ বা কাঁথা দিয়ে আংশিকভাবে ঢাকা রেখে ফোন ব্যবহার করলে এটি ঘটে থাকে। এ সময় যে চোখটি স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকে সেটি তীব্র আলোর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়, আর অন্য চোখটি অন্ধকারের সঙ্গেই অভ্যস্ত থাকে। ফোনটি রেখে দেওয়ার পর দুটি চোখ ভিন্নভাবে আলো-আঁধারির সাথে প্রতিক্রিয়া করে। যার ফলে হুট করেই একটি চোখে সাময়িক অন্ধত্ব বা তীব্র ঝাপসা দৃষ্টি দেখা দেয়।
যারা এই অবস্থার সম্মুখীন হন, তারা হঠাৎ করেই খেয়াল করেন যে কয়েক মিনিটের জন্য একটি চোখ দিয়ে তারা কিছুই দেখতে পাচ্ছেন না। চিকিৎসকরা জানান, এটি সাময়িকভাবে বেশ ভীতিকর হলেও সাধারণত ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে দৃষ্টিশক্তি আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়। তবে এটি চোখের দীর্ঘমেয়াদী বা স্থায়ী কোনো ক্ষতি করে কি না, তার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ এখনও মেলেনি।
চক্ষু বিশেষজ্ঞরা সম্পূর্ণ অন্ধকারে ফোন ব্যবহার করা থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকার পরামর্শ দেন। কারণ অন্ধকারে উজ্জ্বল স্ক্রিন চোখের ওপর অতিরিক্ত চাপ (Eye Strain) সৃষ্টি করে। এছাড়া স্ক্রিনের দিকে একটানা তাকিয়ে থাকার সময় মানুষ স্বাভাবিকের চেয়ে কম পলক ফেলে, যা চোখকে দ্রুত ক্লান্ত ও শুষ্ক (Dry Eye) করে তোলে।
অন্ধকারে ফোন ব্যবহারের আরেকটি বড় উদ্বেগের বিষয় হলো ঘুমের গুণমান নষ্ট হওয়া। স্মার্টফোন থেকে নির্গত ক্ষতিকর ‘নীল আলো’ (Blue Light) শরীরের স্বাভাবিক ঘুমচক্রে (Circadian Rhythm) বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটায়। গভীর রাতে এই আলোর সংস্পর্শে এলে মানবদেহে ‘মেলাটোনিন’ নামক হরমোনের উৎপাদন কমে যায়— যা মূলত আমাদের সময়মতো ঘুমাতে সাহায্য করে। ফলে সহজে ঘুম আসতে চায় না এবং ঘুম আসলেও তা আরামদায়ক হয় না।
চোখের সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্যকর ঘুমের জন্য বিশেষজ্ঞরা কিছু সহজ নিয়ম মেনে চলার তাগিদ দিয়েছেন।
সবসময় পর্যাপ্ত আলো আছে এমন ঘরে বা বাতি জ্বালিয়ে ফোন ব্যবহার করুন।সন্ধ্যার পর থেকেই ফোনের স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা (Brightness) কমিয়ে রাখুন বা 'নাইট মোড' ব্যবহার করুন। ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে সব ধরণের ডিজিটাল ডিভাইস দূরে সরিয়ে রাখুন।
স্মার্টফোন আধুনিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও, বিচক্ষণতার সঙ্গে এর ব্যবহার আপনার দৃষ্টিশক্তি এবং সার্বিক সুস্থতা রক্ষা করতে পারে।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬
সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে ঘুমাতে যাওয়ার আগে বিছানায় শুয়ে শুয়ে ফোন ব্যবহার করা এখন বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, অন্ধকার ঘরে অল্প সময়ের জন্য হলেও স্মার্টফোন ব্যবহার করলে তা আপনার দৃষ্টিশক্তি এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুসারে, সম্পূর্ণ অন্ধকারে মাত্র ১৫ মিনিট উজ্জ্বল ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে সাময়িক দৃষ্টিশক্তির সমস্যা হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে বলা হয় ‘ক্ষণস্থায়ী স্মার্টফোন অন্ধত্ব’ (Transient Smartphone Blindness)।
চক্ষুবিজ্ঞানবিষয়ক আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘হিমালয়ান জার্নাল অফ অফথালমোলজিতে’ প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে, এই সমস্যাটি তখনই ঘটে যখন আমাদের একটি চোখ উজ্জ্বল স্ক্রিনের সংস্পর্শে আসে এবং অন্য চোখটি অন্ধকারের সঙ্গে অভ্যস্ত থাকে।
সাধারণত বিছানায় একপাশে কাত হয়ে শুয়ে এবং একটি চোখ বালিশ বা কাঁথা দিয়ে আংশিকভাবে ঢাকা রেখে ফোন ব্যবহার করলে এটি ঘটে থাকে। এ সময় যে চোখটি স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকে সেটি তীব্র আলোর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়, আর অন্য চোখটি অন্ধকারের সঙ্গেই অভ্যস্ত থাকে। ফোনটি রেখে দেওয়ার পর দুটি চোখ ভিন্নভাবে আলো-আঁধারির সাথে প্রতিক্রিয়া করে। যার ফলে হুট করেই একটি চোখে সাময়িক অন্ধত্ব বা তীব্র ঝাপসা দৃষ্টি দেখা দেয়।
যারা এই অবস্থার সম্মুখীন হন, তারা হঠাৎ করেই খেয়াল করেন যে কয়েক মিনিটের জন্য একটি চোখ দিয়ে তারা কিছুই দেখতে পাচ্ছেন না। চিকিৎসকরা জানান, এটি সাময়িকভাবে বেশ ভীতিকর হলেও সাধারণত ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে দৃষ্টিশক্তি আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়। তবে এটি চোখের দীর্ঘমেয়াদী বা স্থায়ী কোনো ক্ষতি করে কি না, তার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ এখনও মেলেনি।
চক্ষু বিশেষজ্ঞরা সম্পূর্ণ অন্ধকারে ফোন ব্যবহার করা থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকার পরামর্শ দেন। কারণ অন্ধকারে উজ্জ্বল স্ক্রিন চোখের ওপর অতিরিক্ত চাপ (Eye Strain) সৃষ্টি করে। এছাড়া স্ক্রিনের দিকে একটানা তাকিয়ে থাকার সময় মানুষ স্বাভাবিকের চেয়ে কম পলক ফেলে, যা চোখকে দ্রুত ক্লান্ত ও শুষ্ক (Dry Eye) করে তোলে।
অন্ধকারে ফোন ব্যবহারের আরেকটি বড় উদ্বেগের বিষয় হলো ঘুমের গুণমান নষ্ট হওয়া। স্মার্টফোন থেকে নির্গত ক্ষতিকর ‘নীল আলো’ (Blue Light) শরীরের স্বাভাবিক ঘুমচক্রে (Circadian Rhythm) বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটায়। গভীর রাতে এই আলোর সংস্পর্শে এলে মানবদেহে ‘মেলাটোনিন’ নামক হরমোনের উৎপাদন কমে যায়— যা মূলত আমাদের সময়মতো ঘুমাতে সাহায্য করে। ফলে সহজে ঘুম আসতে চায় না এবং ঘুম আসলেও তা আরামদায়ক হয় না।
চোখের সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্যকর ঘুমের জন্য বিশেষজ্ঞরা কিছু সহজ নিয়ম মেনে চলার তাগিদ দিয়েছেন।
সবসময় পর্যাপ্ত আলো আছে এমন ঘরে বা বাতি জ্বালিয়ে ফোন ব্যবহার করুন।সন্ধ্যার পর থেকেই ফোনের স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা (Brightness) কমিয়ে রাখুন বা 'নাইট মোড' ব্যবহার করুন। ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে সব ধরণের ডিজিটাল ডিভাইস দূরে সরিয়ে রাখুন।
স্মার্টফোন আধুনিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও, বিচক্ষণতার সঙ্গে এর ব্যবহার আপনার দৃষ্টিশক্তি এবং সার্বিক সুস্থতা রক্ষা করতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন