খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নির্ধারিত সময়ে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি এবং রোগীদের ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (১০ জুন) সকালে সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বহির্বিভাগে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের ভিড় থাকলেও কয়েকটি চিকিৎসক কক্ষ ফাঁকা ছিল। এ সময় অনেক রোগী ও তাদের স্বজন অভিযোগ করেন, নির্ধারিত সময়ে চিকিৎসকদের পাওয়া যায় না এবং চিকিৎসা নিতে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।
হাসপাতালের কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েকজন চিকিৎসক ওয়ার্ড রাউন্ডে ছিলেন। তবে কয়েকটি কক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের পাওয়া যায়নি। ওয়ার্ডে গিয়ে মেডিকেল অফিসার ডা. রিফাতকে রোগী দেখতে দেখা গেলেও অন্য কয়েকজন চিকিৎসককে সেখানে পাওয়া যায়নি।
কিছু রোগী ও স্বজন অভিযোগ করেন, অনেক চিকিৎসক সকালবেলা বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে রোগী দেখার পর হাসপাতালে আসেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কাজল মল্লিক বলেন, “সরেজমিন পরিদর্শনের সময় কয়েকজন চিকিৎসককে তাদের কক্ষে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি। দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং তাদের জবাব চাওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “রোগীদের সেবা নিশ্চিত করা আমাদের অগ্রাধিকার। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ বিষয়ে খুলনা জেলার সিভিল সার্জন বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে আনা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাসপাতালগুলোতে সাংবাদিকদের গঠনমূলক পর্যবেক্ষণকে আমরা ইতিবাচকভাবে দেখি।”
ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবিতা সরকার বলেন, “সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি এবং রোগীদের সেবা থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের শোকজ করেছেন। তাদের জবাব পর্যালোচনা করে প্রয়োজন হলে জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জনের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “সরকারি বিধি অনুযায়ী চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে আকস্মিক পরিদর্শন বাড়ানো হবে। জনসাধারণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে।”
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি হাসপাতালে সেবার মান নিশ্চিত করতে শুধু শোকজ নয়, অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নির্ধারিত সময়ে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি এবং রোগীদের ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (১০ জুন) সকালে সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বহির্বিভাগে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের ভিড় থাকলেও কয়েকটি চিকিৎসক কক্ষ ফাঁকা ছিল। এ সময় অনেক রোগী ও তাদের স্বজন অভিযোগ করেন, নির্ধারিত সময়ে চিকিৎসকদের পাওয়া যায় না এবং চিকিৎসা নিতে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।
হাসপাতালের কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েকজন চিকিৎসক ওয়ার্ড রাউন্ডে ছিলেন। তবে কয়েকটি কক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের পাওয়া যায়নি। ওয়ার্ডে গিয়ে মেডিকেল অফিসার ডা. রিফাতকে রোগী দেখতে দেখা গেলেও অন্য কয়েকজন চিকিৎসককে সেখানে পাওয়া যায়নি।
কিছু রোগী ও স্বজন অভিযোগ করেন, অনেক চিকিৎসক সকালবেলা বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে রোগী দেখার পর হাসপাতালে আসেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কাজল মল্লিক বলেন, “সরেজমিন পরিদর্শনের সময় কয়েকজন চিকিৎসককে তাদের কক্ষে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি। দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং তাদের জবাব চাওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “রোগীদের সেবা নিশ্চিত করা আমাদের অগ্রাধিকার। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ বিষয়ে খুলনা জেলার সিভিল সার্জন বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে আনা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাসপাতালগুলোতে সাংবাদিকদের গঠনমূলক পর্যবেক্ষণকে আমরা ইতিবাচকভাবে দেখি।”
ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবিতা সরকার বলেন, “সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি এবং রোগীদের সেবা থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের শোকজ করেছেন। তাদের জবাব পর্যালোচনা করে প্রয়োজন হলে জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জনের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “সরকারি বিধি অনুযায়ী চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে আকস্মিক পরিদর্শন বাড়ানো হবে। জনসাধারণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে।”
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি হাসপাতালে সেবার মান নিশ্চিত করতে শুধু শোকজ নয়, অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন