দীর্ঘদিনের বৈরিতা ও সংঘাত স্থায়ীভাবে নিরসনের লক্ষ্যে একটি নতুন শান্তি চুক্তির চূড়ান্ত খসড়ায় ঐকমত্যে পৌঁছেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ আনুষ্ঠানিকভাবে এই দাবি করেছেন।
শুক্রবার (১২ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় শেহবাজ শরিফ বলেন, “পাকিস্তানের চলমান নিবিড় মধ্যস্থতা সত্ত্বেও যারা শান্তিচুক্তির ব্যাপারটিকে বানচাল করতে চায়— তারা অবিরাম অপতথ্য প্রচার করে যাচ্ছে। আমরা নিশ্চিত করতে পারি যে শান্তিচুক্তির একটি চূড়ান্ত খসড়ায় আমরা পৌঁছাতে পেরেছি এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান— উভয়েই সেই খসড়ায় সম্মতি দিয়েছে। শান্তি এখনকার মতো এত কাছাকাছি আগে কখনো আসেনি।”
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরগচিও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে সমর্থন করে এক এক্সবার্তায় বলেন, “ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক এর আগে কখনও এত কাছাকাছি আসেনি। যথাসময়ে এই চুক্তির বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে।”
প্রস্তাবিত নতুন চুক্তির খসড়া এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত না হলেও রয়টার্স ও জিও নিউজের প্রতিবেদনে চুক্তির কয়েকটি সম্ভাব্য শর্ত ও সূত্র সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেছে:
তেহরান যদি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী থেকে অবরোধ তুলে নেয় এবং মাইন অপসারণ করে— তাহলে ইরানের আটকে থাকা (ফ্রোজেন) অর্থ থেকে কয়েক বিলিয়ন ডলার অবমুক্ত করবে ওয়াশিংটন। পাশাপাশি ইরানের তেল রপ্তানির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞাগুলো একে একে প্রত্যাহার করা হবে।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য দুই দেশ ৬০ দিন সময় পাবে। এছাড়া তেহরানকে যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে বিধিনিষেধ আরোপের দাবি থেকেও সরে আসতে পারে ওয়াশিংটন।
বর্তমানে ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ প্রায় ৪০০ কেজি ইউরেনিয়ামের মজুত আছে, যা ৯০ শতাংশে উন্নীত করলে পরমাণু বোমা বানানো সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এই চুক্তিটি হবে সম্পূর্ণ ‘পারফরম্যান্সভিত্তিক’। অর্থাৎ, ইরানকে অবশ্যই তাদের ইউরেনিয়াম ধ্বংস করতে হবে এবং পরমাণু প্রকল্প বাতিল করতে হবে। কেবল কাজ সম্পন্ন করার ভিত্তিতেই মিলবে ফ্রোজেন অর্থ, ক্ষতিপূরণ এবং নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এক এক্সবার্তায় স্পষ্ট করে বলেছেন, “শুধুমাত্র বৈঠকে উপস্থিত থাকা এবং চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেই ইরান নগদ অর্থ কিংবা নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পাবে— এমনটি ঘটার কোনো সম্ভাবনা নেই।”
তবে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের বিষয়ে ইরানের একটি জোরালো দাবি থাকলেও প্রস্তাবিত নতুন চুক্তির খসড়ায় এখনও এ প্রসঙ্গে কোনো কিছু উল্লেখ নেই বলে জানা গেছে।
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ যুক্তরাষ্ট্র ইরান চুক্তি, শান্তি চুক্তি ২০২৬, শেহবাজ শরিফ, আব্বাস আরগচি, পরমাণু প্রকল্প, হরমুজ প্রণালী, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, জে ডি ভ্যান্স, আন্তর্জাতিক রাজনীতি, রয়টার্স, ব্রেকিং নিউজ US Iran peace deal, US Iran relations 2026, Shehbaz Sharif, Abbas Araghchi, Iran nuclear deal, Strait of Hormuz, US sanctions Iran, JD Vance, Geopolitics, Islamabad Memorandum

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬
দীর্ঘদিনের বৈরিতা ও সংঘাত স্থায়ীভাবে নিরসনের লক্ষ্যে একটি নতুন শান্তি চুক্তির চূড়ান্ত খসড়ায় ঐকমত্যে পৌঁছেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ আনুষ্ঠানিকভাবে এই দাবি করেছেন।
শুক্রবার (১২ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় শেহবাজ শরিফ বলেন, “পাকিস্তানের চলমান নিবিড় মধ্যস্থতা সত্ত্বেও যারা শান্তিচুক্তির ব্যাপারটিকে বানচাল করতে চায়— তারা অবিরাম অপতথ্য প্রচার করে যাচ্ছে। আমরা নিশ্চিত করতে পারি যে শান্তিচুক্তির একটি চূড়ান্ত খসড়ায় আমরা পৌঁছাতে পেরেছি এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান— উভয়েই সেই খসড়ায় সম্মতি দিয়েছে। শান্তি এখনকার মতো এত কাছাকাছি আগে কখনো আসেনি।”
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরগচিও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে সমর্থন করে এক এক্সবার্তায় বলেন, “ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক এর আগে কখনও এত কাছাকাছি আসেনি। যথাসময়ে এই চুক্তির বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে।”
প্রস্তাবিত নতুন চুক্তির খসড়া এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত না হলেও রয়টার্স ও জিও নিউজের প্রতিবেদনে চুক্তির কয়েকটি সম্ভাব্য শর্ত ও সূত্র সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেছে:
তেহরান যদি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী থেকে অবরোধ তুলে নেয় এবং মাইন অপসারণ করে— তাহলে ইরানের আটকে থাকা (ফ্রোজেন) অর্থ থেকে কয়েক বিলিয়ন ডলার অবমুক্ত করবে ওয়াশিংটন। পাশাপাশি ইরানের তেল রপ্তানির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞাগুলো একে একে প্রত্যাহার করা হবে।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য দুই দেশ ৬০ দিন সময় পাবে। এছাড়া তেহরানকে যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে বিধিনিষেধ আরোপের দাবি থেকেও সরে আসতে পারে ওয়াশিংটন।
বর্তমানে ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ প্রায় ৪০০ কেজি ইউরেনিয়ামের মজুত আছে, যা ৯০ শতাংশে উন্নীত করলে পরমাণু বোমা বানানো সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এই চুক্তিটি হবে সম্পূর্ণ ‘পারফরম্যান্সভিত্তিক’। অর্থাৎ, ইরানকে অবশ্যই তাদের ইউরেনিয়াম ধ্বংস করতে হবে এবং পরমাণু প্রকল্প বাতিল করতে হবে। কেবল কাজ সম্পন্ন করার ভিত্তিতেই মিলবে ফ্রোজেন অর্থ, ক্ষতিপূরণ এবং নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এক এক্সবার্তায় স্পষ্ট করে বলেছেন, “শুধুমাত্র বৈঠকে উপস্থিত থাকা এবং চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেই ইরান নগদ অর্থ কিংবা নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পাবে— এমনটি ঘটার কোনো সম্ভাবনা নেই।”
তবে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের বিষয়ে ইরানের একটি জোরালো দাবি থাকলেও প্রস্তাবিত নতুন চুক্তির খসড়ায় এখনও এ প্রসঙ্গে কোনো কিছু উল্লেখ নেই বলে জানা গেছে।

আপনার মতামত লিখুন