যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির কোনো অংশীদার বা পক্ষ হবে না ইসরায়েল। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের অবসানে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক চুক্তি সইয়ের চ চূড়ান্ত প্রস্তুতির মুখে দাঁড়িয়ে এই সাফ বার্তা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।
শনিবার (১৩ জুন) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। রয়টার্স জানায়, তেহরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর পথ সুগম করতে লেবাননে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযান সীমিত করার জন্য তেল আবিবকে আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে এই মার্কিন আহ্বানকে কেন্দ্র করে গত কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর তীব্র মতবিরোধ তৈরি হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই চুক্তি প্রসঙ্গে বলেছেন, সম্ভাব্য এই চুক্তি লেবানন যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটাবে। একই সাথে চুক্তির শর্ত হিসেবে দখলকৃত লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সৈন্য প্রত্যাহারেরও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
তবে ইরানের এমন দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনি কিংবা লেবাননের ভূখণ্ড থেকে কোনো অবস্থাতেই ইসরায়েলি সৈন্য প্রত্যাহার করা হবে না। ইসরায়েলের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও যোগ করে বলেছেন, চুক্তিতে যা-ই থাকুক না কেন, যেকোনো ধরনের নিরাপত্তা হুমকির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে ইসরায়েল নিজের পূর্ণ স্বাধীনতা বজায় রাখবে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈরিতার অবসান ঘটাতে সম্ভাব্য এই সমঝোতা স্মারকটি রবিবার (১৪ জুন) সই হচ্ছে না বলে স্পষ্ট করে জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শনিবার দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
এর আগে, এই চুক্তির প্রধান মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ আভাস দিয়েছিলেন যে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হতে পারে। এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘাঈ বলেন, "চুক্তি সইয়ের সুনির্দিষ্ট সময়ের জন্য আমাদের আরও কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে এবং পরিস্থিতি দেখতে হবে। তবে এটি আগামীকালই (রোববার) হচ্ছে না।"
অবশ্য চুক্তিটি চূড়ান্ত হতে ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় লাগলেও আগামী দিনগুলোতে খুব দ্রুতই তা সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দেননি বাঘাঈ।
একই দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেন, "পাকিস্তান এখন আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সম্ভাব্য একটি ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর (ই-স্বাক্ষর) অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর পর আগামী সপ্তাহে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। আমরা একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির ইতিহাসের সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছি।"
শেহবাজ শরিফ আরও বলেন, "আলোচনা চলাকালীন ধারাবাহিক অঙ্গীকার বজায় রাখার জন্য আমরা যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান উভয় পক্ষকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। সেই সঙ্গে আমাদের পাশে থাকার জন্য এই অঞ্চলের ভাইদের প্রতি আমরা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।"

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির কোনো অংশীদার বা পক্ষ হবে না ইসরায়েল। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের অবসানে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক চুক্তি সইয়ের চ চূড়ান্ত প্রস্তুতির মুখে দাঁড়িয়ে এই সাফ বার্তা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।
শনিবার (১৩ জুন) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। রয়টার্স জানায়, তেহরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর পথ সুগম করতে লেবাননে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযান সীমিত করার জন্য তেল আবিবকে আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে এই মার্কিন আহ্বানকে কেন্দ্র করে গত কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর তীব্র মতবিরোধ তৈরি হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই চুক্তি প্রসঙ্গে বলেছেন, সম্ভাব্য এই চুক্তি লেবানন যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটাবে। একই সাথে চুক্তির শর্ত হিসেবে দখলকৃত লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সৈন্য প্রত্যাহারেরও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
তবে ইরানের এমন দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনি কিংবা লেবাননের ভূখণ্ড থেকে কোনো অবস্থাতেই ইসরায়েলি সৈন্য প্রত্যাহার করা হবে না। ইসরায়েলের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও যোগ করে বলেছেন, চুক্তিতে যা-ই থাকুক না কেন, যেকোনো ধরনের নিরাপত্তা হুমকির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে ইসরায়েল নিজের পূর্ণ স্বাধীনতা বজায় রাখবে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈরিতার অবসান ঘটাতে সম্ভাব্য এই সমঝোতা স্মারকটি রবিবার (১৪ জুন) সই হচ্ছে না বলে স্পষ্ট করে জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শনিবার দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
এর আগে, এই চুক্তির প্রধান মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ আভাস দিয়েছিলেন যে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হতে পারে। এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘাঈ বলেন, "চুক্তি সইয়ের সুনির্দিষ্ট সময়ের জন্য আমাদের আরও কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে এবং পরিস্থিতি দেখতে হবে। তবে এটি আগামীকালই (রোববার) হচ্ছে না।"
অবশ্য চুক্তিটি চূড়ান্ত হতে ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় লাগলেও আগামী দিনগুলোতে খুব দ্রুতই তা সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দেননি বাঘাঈ।
একই দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেন, "পাকিস্তান এখন আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সম্ভাব্য একটি ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর (ই-স্বাক্ষর) অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর পর আগামী সপ্তাহে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। আমরা একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির ইতিহাসের সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছি।"
শেহবাজ শরিফ আরও বলেন, "আলোচনা চলাকালীন ধারাবাহিক অঙ্গীকার বজায় রাখার জন্য আমরা যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান উভয় পক্ষকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। সেই সঙ্গে আমাদের পাশে থাকার জন্য এই অঞ্চলের ভাইদের প্রতি আমরা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।"

আপনার মতামত লিখুন