বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই মরক্কোর কাছে ১-১ গোলে আটকে গেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। স্কোরলাইন সমতায় শেষ হলেও নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের পুরো ৯০ মিনিটের চিত্র বলছে—মাঠের ফুটবল এবং রণকৌশলে ব্রাজিলের চেয়ে কয়েক কদম এগিয়ে ছিল আফ্রিকান পরাশক্তি মরক্কো।
চোটের কারণে স্কোয়াডে থেকেও আজ মাঠে নামতে পারেননি নেইমার জুনিয়র। আর তার অনুপস্থিতিতে ব্রাজিলের মাঝমাঠের কঙ্কাল রূপটা যেন বেরিয়ে পড়েছে। কাসেমিরো বা লুকাস পাকেতারা রক্ষণাত্মক বা পাসিং ফুটবলে চেষ্টা করলেও আক্রমণভাগে বল জোগানোর মতো কোনো প্লে-মেকার বা প্রথাগত ১০ নম্বর জার্সিধারী কেউ ছিলেন না। মাঝমাঠের এই সাপ্লাই লাইন কেটে যাওয়ায় ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বা রাফিনহারা বারবার নিচে নেমে বল রিসিভ করতে বাধ্য হয়েছেন, যা আক্রমণভাগে তাদের স্বাভাবিক ধার অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছিল।
শুরু থেকেই মরক্কো প্রথাগত রক্ষণাত্মক কৌশলে না গিয়ে ব্রাজিলের ওপর হাই-প্রেসিং ফুটবল খেলেছে। ম্যাচের মাত্র ষষ্ঠ মিনিটে তরুণ বেনজামিন এল আইনুইয়ের সেই বিপজ্জনক আক্রমণই ছিল তার স্পষ্ট প্রমাণ।
ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ব্রাহিম দিয়াজ মাঝমাঠের আসল সুতাটি টেনেছেন। উইং ব্যবহার করে আশরাফ হাকিমিরা যেভাবে গতিঝড় তুলেছেন, তা সামলাতে ব্রাজিলের ফুলব্যাকদের রীতিমতো ঘাম ঝরাতে হয়েছে। ম্যাচের ২১তম মিনিটে ইসমায়েল সাইবারির করা গোলটি ছিল মরক্কোর এই গোছানো ওয়ান-টাচ ফুটবলেরই নিখুঁত ফসল।
ব্রাজিলের আক্রমণভাগে নতুন ভরসা হিসেবে নামা ইগর থিয়াগো প্রথমার্ধে যে সহজ সুযোগটি মিস করেছেন, তা বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে ক্ষমার অযোগ্য। সতীর্থদের লফটেড পাসের সাথে বক্সে তার টাইমিং ও পজিশনিংয়ের যে দুর্বলতা দেখা গেছে, তা কোচ কার্লো আনচেলোত্তির জন্য চিন্তার বড় কারণ হবে। ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে আক্রমণভাগে তার বোঝাপড়া তৈরি হতে এখনও যে বেশ সময় লাগবে, তা আজকের ম্যাচে স্পষ্ট ফুটে উঠেছে।
পুরো ম্যাচে ব্রাজিল দলগতভাবে মরক্কোর চেয়ে পিছিয়ে থাকলেও দলের মান বাঁচিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ৩২তম মিনিটে বাম প্রান্ত দিয়ে যেভাবে একক ক্ষমতায় ডিফেন্ডারদের নাচিয়ে তিনি বুলেট গতির শটে গোলটি করলেন, তা কেবল বিশ্বমানের খেলোয়াড়দের পক্ষেই সম্ভব। ব্রাজিলের জার্সিতে নিজের ১০ম গোলটি করে দলকে এক পয়েন্ট এনে দিলেও তিনি একাই কত ম্যাচ টানবেন—সেই প্রশ্ন কিন্তু রয়েই যায়।
ট্যাকটিক্যাল লড়াইয়ে মরক্কোর কোচের হাই-প্রেসিং ও কাউন্টার-অ্যাটাকিং কৌশলের কাছে কার্লো আনচেলোত্তি প্রথমার্ধে অনেকটাই পরাস্ত হয়েছিলেন। দ্বিতীয়ার্ধে ডিফেন্স জমাট করে ব্রাজিল হার এড়ালেও টুর্নামেন্টের বাকি পথ পাড়ি দিতে হলে মাঝমাঠের খোলস ছেড়ে সেলেসাওদের বের হতেই হবে। অন্যথায় হেক্সা বা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের মিশন এবারও বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়াবে ব্রাজিলের জন্য।
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ ব্রাজিল বনাম মরক্কো, ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, কার্লো আনচেলোত্তি, ব্রাহিম দিয়াজ, ইসমায়েল সাইবারি, মেটলাইফ স্টেডিয়াম, ম্যাচ ড্র, স্পোর্টস নিউজ Brazil vs Morocco, World Cup 2026, Vinicius Junior, Carlo Ancelotti, Brahim Diaz, Ismael Saibari, MetLife Stadium, Match Drawn, Sports News

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬
বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই মরক্কোর কাছে ১-১ গোলে আটকে গেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। স্কোরলাইন সমতায় শেষ হলেও নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের পুরো ৯০ মিনিটের চিত্র বলছে—মাঠের ফুটবল এবং রণকৌশলে ব্রাজিলের চেয়ে কয়েক কদম এগিয়ে ছিল আফ্রিকান পরাশক্তি মরক্কো।
চোটের কারণে স্কোয়াডে থেকেও আজ মাঠে নামতে পারেননি নেইমার জুনিয়র। আর তার অনুপস্থিতিতে ব্রাজিলের মাঝমাঠের কঙ্কাল রূপটা যেন বেরিয়ে পড়েছে। কাসেমিরো বা লুকাস পাকেতারা রক্ষণাত্মক বা পাসিং ফুটবলে চেষ্টা করলেও আক্রমণভাগে বল জোগানোর মতো কোনো প্লে-মেকার বা প্রথাগত ১০ নম্বর জার্সিধারী কেউ ছিলেন না। মাঝমাঠের এই সাপ্লাই লাইন কেটে যাওয়ায় ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বা রাফিনহারা বারবার নিচে নেমে বল রিসিভ করতে বাধ্য হয়েছেন, যা আক্রমণভাগে তাদের স্বাভাবিক ধার অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছিল।
শুরু থেকেই মরক্কো প্রথাগত রক্ষণাত্মক কৌশলে না গিয়ে ব্রাজিলের ওপর হাই-প্রেসিং ফুটবল খেলেছে। ম্যাচের মাত্র ষষ্ঠ মিনিটে তরুণ বেনজামিন এল আইনুইয়ের সেই বিপজ্জনক আক্রমণই ছিল তার স্পষ্ট প্রমাণ।
ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ব্রাহিম দিয়াজ মাঝমাঠের আসল সুতাটি টেনেছেন। উইং ব্যবহার করে আশরাফ হাকিমিরা যেভাবে গতিঝড় তুলেছেন, তা সামলাতে ব্রাজিলের ফুলব্যাকদের রীতিমতো ঘাম ঝরাতে হয়েছে। ম্যাচের ২১তম মিনিটে ইসমায়েল সাইবারির করা গোলটি ছিল মরক্কোর এই গোছানো ওয়ান-টাচ ফুটবলেরই নিখুঁত ফসল।
ব্রাজিলের আক্রমণভাগে নতুন ভরসা হিসেবে নামা ইগর থিয়াগো প্রথমার্ধে যে সহজ সুযোগটি মিস করেছেন, তা বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে ক্ষমার অযোগ্য। সতীর্থদের লফটেড পাসের সাথে বক্সে তার টাইমিং ও পজিশনিংয়ের যে দুর্বলতা দেখা গেছে, তা কোচ কার্লো আনচেলোত্তির জন্য চিন্তার বড় কারণ হবে। ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে আক্রমণভাগে তার বোঝাপড়া তৈরি হতে এখনও যে বেশ সময় লাগবে, তা আজকের ম্যাচে স্পষ্ট ফুটে উঠেছে।
পুরো ম্যাচে ব্রাজিল দলগতভাবে মরক্কোর চেয়ে পিছিয়ে থাকলেও দলের মান বাঁচিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ৩২তম মিনিটে বাম প্রান্ত দিয়ে যেভাবে একক ক্ষমতায় ডিফেন্ডারদের নাচিয়ে তিনি বুলেট গতির শটে গোলটি করলেন, তা কেবল বিশ্বমানের খেলোয়াড়দের পক্ষেই সম্ভব। ব্রাজিলের জার্সিতে নিজের ১০ম গোলটি করে দলকে এক পয়েন্ট এনে দিলেও তিনি একাই কত ম্যাচ টানবেন—সেই প্রশ্ন কিন্তু রয়েই যায়।
ট্যাকটিক্যাল লড়াইয়ে মরক্কোর কোচের হাই-প্রেসিং ও কাউন্টার-অ্যাটাকিং কৌশলের কাছে কার্লো আনচেলোত্তি প্রথমার্ধে অনেকটাই পরাস্ত হয়েছিলেন। দ্বিতীয়ার্ধে ডিফেন্স জমাট করে ব্রাজিল হার এড়ালেও টুর্নামেন্টের বাকি পথ পাড়ি দিতে হলে মাঝমাঠের খোলস ছেড়ে সেলেসাওদের বের হতেই হবে। অন্যথায় হেক্সা বা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের মিশন এবারও বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়াবে ব্রাজিলের জন্য।

আপনার মতামত লিখুন