নজর বিডি
প্রকাশ : সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

হরমুজ প্রণালি খুলছে, কাউকে আর কখনও টোল দিতে হবে না: ট্রাম্প

হরমুজ প্রণালি খুলছে, কাউকে আর কখনও টোল দিতে হবে না: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক সমঝোতা চুক্তির ফলশ্রুতিতে আগামী ১৯ জুন (শুক্রবার) থেকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথটি ব্যবহারের জন্য বিশ্বের কোনো দেশকে আর কখনও কোনো প্রকার টোল দিতে হবে না বলেও স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

গতকাল রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ পোস্ট করা এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “শুক্রবার (১৯ জুন) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই মাইন অপসারণের মধ্য দিয়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে। অপসারণ কাজ শেষ হওয়ার পর বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য এটি পুরোপুরি উন্মুক্ত হবে। আর একটি কথা, হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের জন্য কখনও কাউকে আর টোল দিতে হবে না।”

পরবর্তীতে মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘নিউইয়র্ক টাইমস’-কে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারেও ট্রাম্প একই বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেন।

পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করা ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জলপথগুলোর একটি। বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহকৃত মোট জ্বালানি পণ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ (২০%) এই প্রণালি দিয়েই পরিবহন করা হয়।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার পর থেকে এই প্রণালির ওপর কঠোর অবরোধ জারি করেছিল ইরান। অবরোধ নিশ্চিত করতে প্রণালির বিভিন্ন কৌশলগত জায়গায় জলমাইন পেতে রাখে ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনী। পাশাপাশি ইরানের পার্লামেন্টে আইন পাস করা হয় যে— এই প্রণালি দিয়ে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না; এবং অন্যান্য দেশের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে ইরানের অনুমতি নিয়ে ও নির্দিষ্ট টোল পরিশোধ করে চলাচল করতে হবে।

ইরানের এই অনড় অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়, যার ফলে বিশ্বজুড়ে তীব্র মূল্যস্ফীতি দেখা দেয়।

ইরানে টানা ৪০ দিন রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর গত ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ইরানের সামুদ্রিক বন্দরগুলোতে পাল্টা মার্কিন অবরোধ জারি করা হয়। এর ফলে ইরানের নিজস্ব আমদানি-রপ্তানি ও জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে এবং তেহরানের পক্ষেও হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।

পরবর্তীতে পাকিস্তান এবং কাতারের ব্যাপক কূটনৈতিক মধ্যস্থতায় অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তিতে আসতে রাজি হয় ইরান।

সমঝোতা চুক্তির মূল শর্তসমূহ আগামী ৬০ দিন দুই দেশের সরকারি প্রতিনিধিরা ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা করবেন। ইরান হরমুজ প্রণালি থেকে তাদের পেতে রাখা সব জলমাইন দ্রুত অপসারণ করবে। বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য প্রণালিটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করা হবে এবং কোনো টোল আদায় করা যাবে না।

বিষয় : নজরবিডি সংবাদ ডোনাল্ড ট্রাম্প, হরমুজ প্রণালি, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, সমঝোতা চুক্তি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জলমাইন, জ্বালানি তেল, Donald Trump, Strait of Hormuz, USA, Iran, Agreement, International Trade, Sea Mine, Crude Oil

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


হরমুজ প্রণালি খুলছে, কাউকে আর কখনও টোল দিতে হবে না: ট্রাম্প

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক সমঝোতা চুক্তির ফলশ্রুতিতে আগামী ১৯ জুন (শুক্রবার) থেকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথটি ব্যবহারের জন্য বিশ্বের কোনো দেশকে আর কখনও কোনো প্রকার টোল দিতে হবে না বলেও স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

গতকাল রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ পোস্ট করা এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “শুক্রবার (১৯ জুন) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই মাইন অপসারণের মধ্য দিয়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে। অপসারণ কাজ শেষ হওয়ার পর বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য এটি পুরোপুরি উন্মুক্ত হবে। আর একটি কথা, হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের জন্য কখনও কাউকে আর টোল দিতে হবে না।”

পরবর্তীতে মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘নিউইয়র্ক টাইমস’-কে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারেও ট্রাম্প একই বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেন।

পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করা ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জলপথগুলোর একটি। বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহকৃত মোট জ্বালানি পণ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ (২০%) এই প্রণালি দিয়েই পরিবহন করা হয়।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার পর থেকে এই প্রণালির ওপর কঠোর অবরোধ জারি করেছিল ইরান। অবরোধ নিশ্চিত করতে প্রণালির বিভিন্ন কৌশলগত জায়গায় জলমাইন পেতে রাখে ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনী। পাশাপাশি ইরানের পার্লামেন্টে আইন পাস করা হয় যে— এই প্রণালি দিয়ে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না; এবং অন্যান্য দেশের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে ইরানের অনুমতি নিয়ে ও নির্দিষ্ট টোল পরিশোধ করে চলাচল করতে হবে।

ইরানের এই অনড় অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়, যার ফলে বিশ্বজুড়ে তীব্র মূল্যস্ফীতি দেখা দেয়।

ইরানে টানা ৪০ দিন রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর গত ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ইরানের সামুদ্রিক বন্দরগুলোতে পাল্টা মার্কিন অবরোধ জারি করা হয়। এর ফলে ইরানের নিজস্ব আমদানি-রপ্তানি ও জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে এবং তেহরানের পক্ষেও হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।

পরবর্তীতে পাকিস্তান এবং কাতারের ব্যাপক কূটনৈতিক মধ্যস্থতায় অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তিতে আসতে রাজি হয় ইরান।

সমঝোতা চুক্তির মূল শর্তসমূহ আগামী ৬০ দিন দুই দেশের সরকারি প্রতিনিধিরা ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা করবেন। ইরান হরমুজ প্রণালি থেকে তাদের পেতে রাখা সব জলমাইন দ্রুত অপসারণ করবে। বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য প্রণালিটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করা হবে এবং কোনো টোল আদায় করা যাবে না।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত