বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ কর্তৃক জামায়াতের এক সংসদ সদস্যকে ব্যক্তিগতভাবে মাইক্রোওভেন উপহার দিতে চাওয়ার বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, "মাইক্রোওভেন উনার কাছে কে চেয়েছে?" এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক প্রসঙ্গে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রুলিং দিয়ে বলেছেন, "সামান্য জিনিস নিয়ে এই বিষয়ে আর বাড়াবাড়ির কোনো দরকার নেই।"
আজ ১৮ জুন ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এই বিতর্ক ও বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।
পার্থের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সংসদে বলেন, "মাননীয় সদস্য (পার্থ) পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে যে কথাগুলো বলেছেন, আপনি (স্পিকার) তো প্রথমেই নাকজ করেছেন যে, এটা পয়েন্ট অব অর্ডারের বিষয় না। দ্বিতীয়ত, একজন সদস্য (জামায়াত নেতা মজিবুর রহমান) সবার সুবিধার জন্য একটা বিষয় চেয়েছেন। আপনি রাইটলি বলেছেন যে, এটা হাউজে না বলে কমিটির কাছে বললেই হতো।
কিন্তু তিনি (পার্থ) এটাকে সূত্র ধরে আবার গাড়ি-বাড়ি সব নিয়ে আসলেন। উনি তো একজন বিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান। আবার নিজের থেকে অফারও দিয়ে দিলেন যে ‘আমি সব দিয়ে দেব’! উনার কাছে চাইছে নাকি কেউ যে উনি দেবেন? আমার মনে হয় যে আমাদের মানসিকতাগুলো এমন হওয়া উচিত যাতে এখানে দাঁড়িয়ে অন্তত কেউ কারো সম্মানে আঘাত না করি।"
বিরোধীদলীয় নেতা আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামীতে সংসদ সদস্যরা এই ধরনের ব্যক্তিগত আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত এবং আরও যত্নশীল হবেন।
ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, "মাননীয় বিরোধীদলের নেতা, এটা নিয়ে আর কোনো বিতর্ক হোক তা আমি চাই না। আপনি একজন সদস্যকে যেভাবে অফার করেছেন তাকে দেবেন, এটাও তার জন্য একটি ডিসরেসপেক্টফুল (অসম্মানজনক) মনে হতে পারে। উনি নিজের জন্য চাননি, সংসদের সরকারি বাড়িতে বসবাসকারী সকল সংসদ সদস্যের সুবিধার কথা ভেবে বলেছেন।"
এর আগে আন্দালিব রহমান পার্থের বক্তব্যের পরই স্পিকার বিষয়টি নিয়ে রুলিং দেন। রুলিংয়ে স্পিকার বলেন, "বাজেট সেশনে অনেক বিষয়েই বক্তব্য রাখা যায়। একজন সদস্য তার সুবিধা-অসুবিধার কথা বলেছেন। আমি মনে করি এটা সংসদে না বললেই ভালো হতো, তবে এটি বলে তিনি এমন কোনো জঘন্য অপরাধও করেননি।
আমাদের হাউস কমিটি আছে, সেখান থেকে সংসদ সদস্যদের আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়ে থাকে। তিনি নিজের জন্য নয়, সবার জন্যই বলেছেন। তবে এটি নিয়ে বাইরে ভুল মেসেজ যেতে পারে। ভবিষ্যতে বক্তব্য রাখার সময় আমাদের সবাইকে কেয়ারফুল (সতর্ক) থাকতে হবে।"
সংসদ সদস্যদের ব্যক্তিগত বা আবাসিক কোনো সমস্যা থাকলে তা সংসদের হাউস কমিটির চেয়ারম্যানকে জানিয়ে সমাধান করার আহ্বান জানিয়ে স্পিকার এই বিতর্কের সমাপ্তি টানেন।
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ আন্দালিব রহমান পার্থ, ডা. শফিকুর রহমান, বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, জাতীয় সংসদ, বাজেট অধিবেশন ২০২৬, জামায়াতে ইসলামী, বিজেপি, সংসদ সংবাদ, রাজনৈতিক বিতর্ক Andaleeve Rahman Partho, Dr Shafiqur Rahman, Opposition Leader, Speaker Hafiz Uddin Ahmed, Parliament Session Bangladesh, Budget Session 2026, Political Debate, JS News Bangladesh

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুন ২০২৬
বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ কর্তৃক জামায়াতের এক সংসদ সদস্যকে ব্যক্তিগতভাবে মাইক্রোওভেন উপহার দিতে চাওয়ার বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, "মাইক্রোওভেন উনার কাছে কে চেয়েছে?" এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক প্রসঙ্গে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রুলিং দিয়ে বলেছেন, "সামান্য জিনিস নিয়ে এই বিষয়ে আর বাড়াবাড়ির কোনো দরকার নেই।"
আজ ১৮ জুন ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এই বিতর্ক ও বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।
পার্থের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সংসদে বলেন, "মাননীয় সদস্য (পার্থ) পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে যে কথাগুলো বলেছেন, আপনি (স্পিকার) তো প্রথমেই নাকজ করেছেন যে, এটা পয়েন্ট অব অর্ডারের বিষয় না। দ্বিতীয়ত, একজন সদস্য (জামায়াত নেতা মজিবুর রহমান) সবার সুবিধার জন্য একটা বিষয় চেয়েছেন। আপনি রাইটলি বলেছেন যে, এটা হাউজে না বলে কমিটির কাছে বললেই হতো।
কিন্তু তিনি (পার্থ) এটাকে সূত্র ধরে আবার গাড়ি-বাড়ি সব নিয়ে আসলেন। উনি তো একজন বিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান। আবার নিজের থেকে অফারও দিয়ে দিলেন যে ‘আমি সব দিয়ে দেব’! উনার কাছে চাইছে নাকি কেউ যে উনি দেবেন? আমার মনে হয় যে আমাদের মানসিকতাগুলো এমন হওয়া উচিত যাতে এখানে দাঁড়িয়ে অন্তত কেউ কারো সম্মানে আঘাত না করি।"
বিরোধীদলীয় নেতা আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামীতে সংসদ সদস্যরা এই ধরনের ব্যক্তিগত আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত এবং আরও যত্নশীল হবেন।
ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, "মাননীয় বিরোধীদলের নেতা, এটা নিয়ে আর কোনো বিতর্ক হোক তা আমি চাই না। আপনি একজন সদস্যকে যেভাবে অফার করেছেন তাকে দেবেন, এটাও তার জন্য একটি ডিসরেসপেক্টফুল (অসম্মানজনক) মনে হতে পারে। উনি নিজের জন্য চাননি, সংসদের সরকারি বাড়িতে বসবাসকারী সকল সংসদ সদস্যের সুবিধার কথা ভেবে বলেছেন।"
এর আগে আন্দালিব রহমান পার্থের বক্তব্যের পরই স্পিকার বিষয়টি নিয়ে রুলিং দেন। রুলিংয়ে স্পিকার বলেন, "বাজেট সেশনে অনেক বিষয়েই বক্তব্য রাখা যায়। একজন সদস্য তার সুবিধা-অসুবিধার কথা বলেছেন। আমি মনে করি এটা সংসদে না বললেই ভালো হতো, তবে এটি বলে তিনি এমন কোনো জঘন্য অপরাধও করেননি।
আমাদের হাউস কমিটি আছে, সেখান থেকে সংসদ সদস্যদের আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়ে থাকে। তিনি নিজের জন্য নয়, সবার জন্যই বলেছেন। তবে এটি নিয়ে বাইরে ভুল মেসেজ যেতে পারে। ভবিষ্যতে বক্তব্য রাখার সময় আমাদের সবাইকে কেয়ারফুল (সতর্ক) থাকতে হবে।"
সংসদ সদস্যদের ব্যক্তিগত বা আবাসিক কোনো সমস্যা থাকলে তা সংসদের হাউস কমিটির চেয়ারম্যানকে জানিয়ে সমাধান করার আহ্বান জানিয়ে স্পিকার এই বিতর্কের সমাপ্তি টানেন।

আপনার মতামত লিখুন