বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের দেওয়া গণভোটের রায় ও জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। সংসদে এ বিষয়ে সমাধান না হলে তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনগণের কাছে গিয়ে অবস্থান তুলে ধরবেন।
তিনি বলেন, “যেখানে কথা বলতে স্পিকারের অনুমতি প্রয়োজন হয় না, সেখানেই আমরা জনগণের সঙ্গে কথা বলব। দেশের মাঠে-ময়দানে গণজাগরণ সৃষ্টি হবে।” যুব সমাজের উদ্দেশে তিনি বলেন, “জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে আপনারা ফ্যাসিবাদকে বিদায় করেছেন। এখন নব্য ফ্যাসিবাদকে বিদায় জানাতে প্রয়োজন হলে আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত থাকুন।”
আজ শনিবার (২০ জুন, ২০২৬) বিকেলে খুলনার ঐতিহাসিক সার্কিট হাউজ ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে আয়োজিত এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, দেশের মানুষ বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যাশায় পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল, কিন্তু জনগণের সেই প্রত্যাশা এখনও পূরণ হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হয়েছে এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ ও দুর্বল করার মাধ্যমে জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তাদের আন্দোলন কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা গোষ্ঠীকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়; বরং একটি স্বাধীন, সার্বভৌম, জবাবদিহিমূলক ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য। সীমান্তের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় দেশের জনগণ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একসঙ্গে কাজ করবে এবং কোনো বিদেশি আধিপত্যের সামনে মাথা নত করবে না।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক অভিযোগ করে বলেন, "জুলাই সনদ আর গণভোটের সাথে বিএনপি অন্তহীন প্রতারণা করেছে। তারা তলে তলে 'না' ভোটের ক্যাম্পেইন করেছে এবং গণভোটে 'না' এর পক্ষেই প্রচারণা চালিয়েছে।" তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠন ও ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থানের পথ বন্ধ করা। জনগণের রায় ও ভোটাধিকার নিয়ে কোনো ধরনের ছিনিমিনি খেলা সহ্য করা হবে না।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, "গণতন্ত্র ও সংস্কারের প্রশ্নে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বিএনপি ব্যর্থ হচ্ছে। খুলনাসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান যেমন— কেসিসি, কেডিএ ও জেলা পরিষদে দলীয় লোক বসিয়ে দলীয়করণ করা হয়েছে।" তিনি অবিলম্বে আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সভাপতির বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনের আগে রাষ্ট্র সংস্কার ও ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, ক্ষমতায় যাওয়ার পর সরকার তা থেকে সরে এসেছে। গণভোটে দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা এবং বিচারব্যবস্থার সংস্কারের পক্ষে মত দিলেও বর্তমান সরকার কর্তৃত্ববাদী প্রবণতার দিকে এগোচ্ছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, যারা ইসলামি মূল্যবোধ, নীতি-নৈতিকতা ও সুশাসনের কথা বলে, তাদেরকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উগ্রবাদী বা মৌলবাদী হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে সর্বস্তরের মানুষকে বার্ডারের (সীমান্তের) দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রস্তুতিসহ যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
সমাবেশে সম্মানিত অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন— বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, জাগপার সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, এবি পার্টির যুগ্ম সচিব এডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুন রানা, বিডিপির চেয়ারম্যান অ্যাড. এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁনসহ ১১ দলীয় জোটের খুলনা বিভাগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
মাওলানা আবু বকর সিদ্দিকের অর্থসহ কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সমাবেশ শুরু হয়। এর আগে দুপুর ১২টা থেকে প্রেরণা সাহিত্য সংস্কৃতি সংসদ খুলনার শিল্পীবৃন্দ মাঠে ব্যতিক্রমী ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন।
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ জামায়াত ইসলামী, ডা. শফিকুর রহমান, খুলনা বিভাগীয় সমাবেশ, ১১ দলীয় জোট, মিয়া গোলাম পরওয়ার, মামুনুল হক, অলি আহমদ, জুলাই বিপ্লব, গণভোট ২০২৬, খুলনা সংবাদ Jamaat e Islami, Dr Shafiqur Rahman, Khulna Rally, 11 Party Alliance, Mamunul Huq, Oli Ahmad, July Revolution, Referendum Bangladesh, Khulna News, Politics Bangladesh

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের দেওয়া গণভোটের রায় ও জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। সংসদে এ বিষয়ে সমাধান না হলে তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনগণের কাছে গিয়ে অবস্থান তুলে ধরবেন।
তিনি বলেন, “যেখানে কথা বলতে স্পিকারের অনুমতি প্রয়োজন হয় না, সেখানেই আমরা জনগণের সঙ্গে কথা বলব। দেশের মাঠে-ময়দানে গণজাগরণ সৃষ্টি হবে।” যুব সমাজের উদ্দেশে তিনি বলেন, “জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে আপনারা ফ্যাসিবাদকে বিদায় করেছেন। এখন নব্য ফ্যাসিবাদকে বিদায় জানাতে প্রয়োজন হলে আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত থাকুন।”
আজ শনিবার (২০ জুন, ২০২৬) বিকেলে খুলনার ঐতিহাসিক সার্কিট হাউজ ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে আয়োজিত এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, দেশের মানুষ বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যাশায় পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল, কিন্তু জনগণের সেই প্রত্যাশা এখনও পূরণ হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হয়েছে এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ ও দুর্বল করার মাধ্যমে জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তাদের আন্দোলন কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা গোষ্ঠীকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়; বরং একটি স্বাধীন, সার্বভৌম, জবাবদিহিমূলক ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য। সীমান্তের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় দেশের জনগণ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একসঙ্গে কাজ করবে এবং কোনো বিদেশি আধিপত্যের সামনে মাথা নত করবে না।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক অভিযোগ করে বলেন, "জুলাই সনদ আর গণভোটের সাথে বিএনপি অন্তহীন প্রতারণা করেছে। তারা তলে তলে 'না' ভোটের ক্যাম্পেইন করেছে এবং গণভোটে 'না' এর পক্ষেই প্রচারণা চালিয়েছে।" তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠন ও ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থানের পথ বন্ধ করা। জনগণের রায় ও ভোটাধিকার নিয়ে কোনো ধরনের ছিনিমিনি খেলা সহ্য করা হবে না।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, "গণতন্ত্র ও সংস্কারের প্রশ্নে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বিএনপি ব্যর্থ হচ্ছে। খুলনাসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান যেমন— কেসিসি, কেডিএ ও জেলা পরিষদে দলীয় লোক বসিয়ে দলীয়করণ করা হয়েছে।" তিনি অবিলম্বে আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সভাপতির বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনের আগে রাষ্ট্র সংস্কার ও ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, ক্ষমতায় যাওয়ার পর সরকার তা থেকে সরে এসেছে। গণভোটে দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা এবং বিচারব্যবস্থার সংস্কারের পক্ষে মত দিলেও বর্তমান সরকার কর্তৃত্ববাদী প্রবণতার দিকে এগোচ্ছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, যারা ইসলামি মূল্যবোধ, নীতি-নৈতিকতা ও সুশাসনের কথা বলে, তাদেরকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উগ্রবাদী বা মৌলবাদী হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে সর্বস্তরের মানুষকে বার্ডারের (সীমান্তের) দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রস্তুতিসহ যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
সমাবেশে সম্মানিত অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন— বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, জাগপার সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, এবি পার্টির যুগ্ম সচিব এডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুন রানা, বিডিপির চেয়ারম্যান অ্যাড. এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁনসহ ১১ দলীয় জোটের খুলনা বিভাগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
মাওলানা আবু বকর সিদ্দিকের অর্থসহ কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সমাবেশ শুরু হয়। এর আগে দুপুর ১২টা থেকে প্রেরণা সাহিত্য সংস্কৃতি সংসদ খুলনার শিল্পীবৃন্দ মাঠে ব্যতিক্রমী ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন।

আপনার মতামত লিখুন