নজর বিডি
প্রকাশ : রোববার, ২১ জুন ২০২৬

৫০১ নম্বর কক্ষকে ‘বিজয়ের প্রতীক’ ঘোষণা, উদযাপন করবেন মামুনুল হক

৫০১ নম্বর কক্ষকে ‘বিজয়ের প্রতীক’ ঘোষণা, উদযাপন করবেন মামুনুল হক

নারায়ণগঞ্জের রয়্যাল রিসোর্টের বহুল আলোচিত ‘৫০১ নম্বর কক্ষ’ প্রসঙ্গে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ ব্যাখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। সেখানে তিনি ৫০১ নম্বর কক্ষকে ‘বিজয়ের প্রতীক’ হিসেবে অভিহিত করে ভবিষ্যতে এটি উদযাপন করার ঘোষণা দিয়েছেন।

ফেসবুক পোস্টে মামুনুল হক জানান, ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল তিনি তাঁর স্ত্রী জান্নাত আরা (ঝর্ণা) কে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের রয়্যাল রিসোর্টের ৫০১ নম্বর কক্ষে অবস্থান করছিলেন। সে সময় পুলিশের নেতৃত্বে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মী ও সাংবাদিকরা সেখানে প্রবেশ করে তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে নানান উপায়ে হেনস্তা করে এবং বিভিন্ন ডিভাইসের মাধ্যমে লাইভ সম্প্রচার চালায়।

জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁরা উভয়েই বৈবাহিক সম্পর্কের কথা স্পষ্টভাবে জানালেও পরবর্তীতে ডিজিএফআই কর্মকর্তারা এসে তাঁদের থানায় নেওয়ার নির্দেশ দেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জান্নাত আরার সঙ্গে বিয়ে প্রসঙ্গে মাওলানা মামুনুল হক জানান, জান্নাত আরা আগে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহকর্মী হাফেজ শহিদুল ইসলামের স্ত্রী ছিলেন। পারস্পরিক সম্মতিতে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদের পর জান্নাত আরার সম্মতিক্রমেই শরিয়ত অনুযায়ী তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

বিয়ে গোপন রাখার কারণ হিসেবে তিনি সামাজিক জটিলতা এবং প্রথম পরিবারে অস্থিরতা তৈরি না করার কথা উল্লেখ করেন। ইসলামে কাবিন বাধ্যতামূলক নয় জানিয়ে তিনি দাবি করেন, তাঁর একাধিক বিয়ের বিষয়টি ঘনিষ্ঠজনেরা জানতেন।

তবে জান্নাত আরার বর্তমান অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি জানান, ২০১৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তাঁদের বৈবাহিক সম্পর্ক ছিল। ২০২১ সালের ঘটনার পর সৃষ্ট বিভিন্ন মনোমালিন্যের কারণে আলোচনার মাধ্যমে ২০২৫ সালের মার্চে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। বিচ্ছেদের আগ পর্যন্ত এবং নিজের কারাবাসকালেও তিনি জান্নাত আরার ভরণপোষণ নিশ্চিত করেছিলেন বলে দাবি করেন।

রিসোর্টে পরিচয়পত্রে প্রথম স্ত্রী আমিনা তাইয়েবার নাম ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, জান্নাত আরার পরিচয়পত্রে সাবেক স্বামীর নাম থাকায় আলোচনার ভিত্তিতেই প্রথম স্ত্রীর নাম ব্যবহার করা হয়েছিল।

পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা কর্তৃক তাঁদের কক্ষে প্রবেশ এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যক্তিগত কল রেকর্ড ফাঁস করার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

মামুনুল হক দাবি করেন, তৎকালীন এনএসআই মহাপরিচালক তাঁকে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার প্রস্তাব দিলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁর বিরুদ্ধে আনা ‘মুতা বিয়ে’ বা ‘চুক্তিভিত্তিক বিয়ে’র অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।

পোস্টের শেষ অংশে মাওলানা মামুনুল হক সূরা আল-ইমরানের ৬১ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করে ‘মুবাহালা’র (মিথ্যুকদের ওপর আল্লাহর লানত বর্ষণের দোয়া) আহ্বান জানান।

তিনি স্পষ্ট করেন যে, ‘৫০১’ নম্বর কক্ষটি তাঁর কাছে কোনো নেতিবাচক বিষয় নয়। বরং এটি তাঁর ভাষায়, ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তাঁর দোসরদের পরাজয়ের দলিল।’ তাই এই ৫০১ নম্বর কক্ষকে তাঁরা বিজয়ের প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করছেন এবং ভবিষ্যতে এটি উদযাপন করবেন।

বিষয় : নজরবিডি সংবাদ মাওলানা মামুনুল হক, মামুনুল হক, রয়্যাল রিসোর্ট, ৫০১ নম্বর কক্ষ, জান্নাত আরা ঝর্ণা, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, রাজনীতি সংবাদ, Mamunul Haque, Maulana Mamunul Haque, Royal Resort, Room 501, Jannat Ara Jhorna, Bangladesh Khelafat Majlish, Political News

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


৫০১ নম্বর কক্ষকে ‘বিজয়ের প্রতীক’ ঘোষণা, উদযাপন করবেন মামুনুল হক

প্রকাশের তারিখ : ২১ জুন ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জের রয়্যাল রিসোর্টের বহুল আলোচিত ‘৫০১ নম্বর কক্ষ’ প্রসঙ্গে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ ব্যাখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। সেখানে তিনি ৫০১ নম্বর কক্ষকে ‘বিজয়ের প্রতীক’ হিসেবে অভিহিত করে ভবিষ্যতে এটি উদযাপন করার ঘোষণা দিয়েছেন।

ফেসবুক পোস্টে মামুনুল হক জানান, ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল তিনি তাঁর স্ত্রী জান্নাত আরা (ঝর্ণা) কে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের রয়্যাল রিসোর্টের ৫০১ নম্বর কক্ষে অবস্থান করছিলেন। সে সময় পুলিশের নেতৃত্বে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মী ও সাংবাদিকরা সেখানে প্রবেশ করে তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে নানান উপায়ে হেনস্তা করে এবং বিভিন্ন ডিভাইসের মাধ্যমে লাইভ সম্প্রচার চালায়।

জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁরা উভয়েই বৈবাহিক সম্পর্কের কথা স্পষ্টভাবে জানালেও পরবর্তীতে ডিজিএফআই কর্মকর্তারা এসে তাঁদের থানায় নেওয়ার নির্দেশ দেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জান্নাত আরার সঙ্গে বিয়ে প্রসঙ্গে মাওলানা মামুনুল হক জানান, জান্নাত আরা আগে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহকর্মী হাফেজ শহিদুল ইসলামের স্ত্রী ছিলেন। পারস্পরিক সম্মতিতে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদের পর জান্নাত আরার সম্মতিক্রমেই শরিয়ত অনুযায়ী তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

বিয়ে গোপন রাখার কারণ হিসেবে তিনি সামাজিক জটিলতা এবং প্রথম পরিবারে অস্থিরতা তৈরি না করার কথা উল্লেখ করেন। ইসলামে কাবিন বাধ্যতামূলক নয় জানিয়ে তিনি দাবি করেন, তাঁর একাধিক বিয়ের বিষয়টি ঘনিষ্ঠজনেরা জানতেন।

তবে জান্নাত আরার বর্তমান অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি জানান, ২০১৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তাঁদের বৈবাহিক সম্পর্ক ছিল। ২০২১ সালের ঘটনার পর সৃষ্ট বিভিন্ন মনোমালিন্যের কারণে আলোচনার মাধ্যমে ২০২৫ সালের মার্চে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। বিচ্ছেদের আগ পর্যন্ত এবং নিজের কারাবাসকালেও তিনি জান্নাত আরার ভরণপোষণ নিশ্চিত করেছিলেন বলে দাবি করেন।

রিসোর্টে পরিচয়পত্রে প্রথম স্ত্রী আমিনা তাইয়েবার নাম ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, জান্নাত আরার পরিচয়পত্রে সাবেক স্বামীর নাম থাকায় আলোচনার ভিত্তিতেই প্রথম স্ত্রীর নাম ব্যবহার করা হয়েছিল।

পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা কর্তৃক তাঁদের কক্ষে প্রবেশ এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যক্তিগত কল রেকর্ড ফাঁস করার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

মামুনুল হক দাবি করেন, তৎকালীন এনএসআই মহাপরিচালক তাঁকে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার প্রস্তাব দিলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁর বিরুদ্ধে আনা ‘মুতা বিয়ে’ বা ‘চুক্তিভিত্তিক বিয়ে’র অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।

পোস্টের শেষ অংশে মাওলানা মামুনুল হক সূরা আল-ইমরানের ৬১ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করে ‘মুবাহালা’র (মিথ্যুকদের ওপর আল্লাহর লানত বর্ষণের দোয়া) আহ্বান জানান।

তিনি স্পষ্ট করেন যে, ‘৫০১’ নম্বর কক্ষটি তাঁর কাছে কোনো নেতিবাচক বিষয় নয়। বরং এটি তাঁর ভাষায়, ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তাঁর দোসরদের পরাজয়ের দলিল।’ তাই এই ৫০১ নম্বর কক্ষকে তাঁরা বিজয়ের প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করছেন এবং ভবিষ্যতে এটি উদযাপন করবেন।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত