যারা জামায়াতে ইসলামীকে ক্ষমা চাইতে বলে, তাদের নিজেদের দলের অতীত কৃতকর্মের জন্য অন্তত কয়েকবার ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমীর এবং ডিএনসিসির মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
তিনি বলেন, জামায়াতের বিরুদ্ধে কোনো ভোঁতা অস্ত্র ব্যবহার করে দলটিকে ঘায়েল করা যাবে না।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর উত্তরার মীর মুগ্ধ মঞ্চে আয়োজিত চার দিনব্যাপী মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৫৪টি ওয়ার্ডে এই ধারাবাহিক গণসচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হয়।
সেলিম উদ্দিন বলেন, "সংসদে নতুন কিছু মুফতি আবিষ্কার হচ্ছে, যারা জামায়াতে ইসলামী ইসলাম নয় বলে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছে। এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে জামায়াতকে দুর্বল করা যাবে না।" তিনি আরও অভিযোগ করেন, সংসদে অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য দিয়ে জাতির সঙ্গে মশকরা করা হচ্ছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উদ্দেশ্য করে এই জামায়াত নেতা বলেন, "পলাতক শেখ হাসিনার সহযোগীদের কথায় চললে পরিণতি ভালো হবে না। হাসিনার পথে হাঁটলে তার পরিণতিও ভালো হবে না।" একই সঙ্গে তিনি বিএনপি নেতা তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, "তিনি পুরাতন রাজনীতিকে বিদায় দিয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান, যার প্রশংসা জামায়াত সংসদেও করেছে।"
মাদক সমস্যা নিয়ে সেলিম উদ্দিন বলেন, দেশের অসাধু রাজনীতিকরা মাদকমুক্ত সমাজ চান না, কারণ সমাজ মাদকমুক্ত হলে তারা তাদের রাজনৈতিক কর্মী খুঁজে পাবেন না। উত্তরার পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মদের বারগুলো অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে, তাহলেই উত্তরা নিরাপদ ও মাদকমুক্ত হবে।
তিনি তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, বেকারত্ব, অপসংস্কৃতি ও বিলাসিতার প্রবণতার কারণে অনেক তরুণ মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একযোগে কাজ করতে হবে। মাদকাসক্তদের প্রতি ঘৃণা না দেখিয়ে সহমর্মিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে তাদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি, ঢাকা উত্তর সিটি এলাকায় কোনো পরিবারের সন্তান মাদকাসক্ত হলে তাদের সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বশীলদের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ করেন।
নাগরিক সেবা প্রসঙ্গে তিনি জানান, আগামী এক মাসের মধ্যে ২৫টি ডিজিটাল অ্যাপ উদ্বোধন করা হবে, যার মাধ্যমে নগরবাসীর জন্য নিরাপদ খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও বিভিন্ন নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
উত্তরা পশ্চিম অঞ্চলের পরিচালক ও মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমীর ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে এবং মহানগরী যুব বিভাগের সেক্রেটারি ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, নাজিম উদ্দিন মোল্লা, ডা. ফখরুদ্দিন মানিক এবং যুব বিভাগের সভাপতি ইয়াছিন আরাফাতসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও ঢাকা উত্তর সিটির বিভিন্ন ওয়ার্ডের জামায়াত মনোনীত কমিশনার প্রার্থীরা।

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬
যারা জামায়াতে ইসলামীকে ক্ষমা চাইতে বলে, তাদের নিজেদের দলের অতীত কৃতকর্মের জন্য অন্তত কয়েকবার ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমীর এবং ডিএনসিসির মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
তিনি বলেন, জামায়াতের বিরুদ্ধে কোনো ভোঁতা অস্ত্র ব্যবহার করে দলটিকে ঘায়েল করা যাবে না।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর উত্তরার মীর মুগ্ধ মঞ্চে আয়োজিত চার দিনব্যাপী মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৫৪টি ওয়ার্ডে এই ধারাবাহিক গণসচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হয়।
সেলিম উদ্দিন বলেন, "সংসদে নতুন কিছু মুফতি আবিষ্কার হচ্ছে, যারা জামায়াতে ইসলামী ইসলাম নয় বলে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছে। এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে জামায়াতকে দুর্বল করা যাবে না।" তিনি আরও অভিযোগ করেন, সংসদে অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য দিয়ে জাতির সঙ্গে মশকরা করা হচ্ছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উদ্দেশ্য করে এই জামায়াত নেতা বলেন, "পলাতক শেখ হাসিনার সহযোগীদের কথায় চললে পরিণতি ভালো হবে না। হাসিনার পথে হাঁটলে তার পরিণতিও ভালো হবে না।" একই সঙ্গে তিনি বিএনপি নেতা তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, "তিনি পুরাতন রাজনীতিকে বিদায় দিয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান, যার প্রশংসা জামায়াত সংসদেও করেছে।"
মাদক সমস্যা নিয়ে সেলিম উদ্দিন বলেন, দেশের অসাধু রাজনীতিকরা মাদকমুক্ত সমাজ চান না, কারণ সমাজ মাদকমুক্ত হলে তারা তাদের রাজনৈতিক কর্মী খুঁজে পাবেন না। উত্তরার পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মদের বারগুলো অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে, তাহলেই উত্তরা নিরাপদ ও মাদকমুক্ত হবে।
তিনি তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, বেকারত্ব, অপসংস্কৃতি ও বিলাসিতার প্রবণতার কারণে অনেক তরুণ মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একযোগে কাজ করতে হবে। মাদকাসক্তদের প্রতি ঘৃণা না দেখিয়ে সহমর্মিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে তাদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি, ঢাকা উত্তর সিটি এলাকায় কোনো পরিবারের সন্তান মাদকাসক্ত হলে তাদের সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বশীলদের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ করেন।
নাগরিক সেবা প্রসঙ্গে তিনি জানান, আগামী এক মাসের মধ্যে ২৫টি ডিজিটাল অ্যাপ উদ্বোধন করা হবে, যার মাধ্যমে নগরবাসীর জন্য নিরাপদ খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও বিভিন্ন নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
উত্তরা পশ্চিম অঞ্চলের পরিচালক ও মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমীর ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে এবং মহানগরী যুব বিভাগের সেক্রেটারি ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, নাজিম উদ্দিন মোল্লা, ডা. ফখরুদ্দিন মানিক এবং যুব বিভাগের সভাপতি ইয়াছিন আরাফাতসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও ঢাকা উত্তর সিটির বিভিন্ন ওয়ার্ডের জামায়াত মনোনীত কমিশনার প্রার্থীরা।

আপনার মতামত লিখুন