নজর বিডি

পাবনায় ফসলি জমিতে চলছে পুকুর খনন! আশঙ্কাজনক হারে কমছে জমি

পাবনায় ফসলি জমিতে চলছে পুকুর খনন! আশঙ্কাজনক হারে কমছে জমি
জমির প্রকৃতি পরিবর্তন করা যাবে না এমন আইন থাকলেও বৃহত্তর চলনবিল অধ্যুষিত পাবনার চাটমোহর উপজেলার হান্ডিয়াল খারপুকুর গ্রামে রাত-দিন চলছে পুকুর খনন, এতে করে আশঙ্কাজনক হারে কমছে কৃষি জমি। এদিকে পুকুর খনন রোধে প্রশাসনের নীরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে জনমনে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, উত্তরবঙ্গের শস্যভান্ডার ফসলি জমি পাবনার চাটমোহর উপজেলার হান্ডিয়ালে মাছ চাষে অধিক লাভজনক হওয়ায় উঁচু উর্বর তিন ফসলি জমিতে পুকুর কাটার হিড়িক পড়েছে। যার ফলে জমিতে ফসল উৎপাদনের উপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এ জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ধান ও সরিষা আবাদ হয় হান্ডিয়ালে। এই উপজেলায় এক্সক্যাভেটর (ভেকু মেশিন) দিয়ে প্রতিনিয়ত তিন ফসলি উর্বর জমি কেটে পুকুর খনন করায় প্রতি বছর আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। এতে বছর শেষে ফসলি জমির পরিমাণ ভয়ংকরভাবে হ্রাস পাচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শুধু রাত নয় দিনের বেলাতেও প্রকাশ্যে হান্ডিয়াল পুলিশ ফাঁড়ির সামনে ফসলী জমিতে এক্সক্যাভেটর (ভেকু) মেশিন দিয়ে খনন করা হচ্ছে পুকুর। আবার সেই জমির খননকৃত মাটি ট্রাক্টর ও ড্রাম ট্রাক দিয়ে ইটভাটাসহ বিভিন্ন কাজে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আশপাশের ফসলি জমি ও বাড়ি। নষ্ট হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক। চক্রটি প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেন না স্থানীয় এলাকাবাসী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী জানান, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে খারপুকুর গ্রামে ফসলী জমিতে পুকুর খনন করছেন হাঁসুপুর গ্রামের সাত্তার মন্ডল নামের এক ব্যক্তি। অভিযুক্ত সাত্তার মন্ডল হান্ডিয়াল বিএনপির প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় রাত-দিন কৃষিজমির উপর এমন ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন অনেকে। তারা বলেন, তিনি দলের প্রভাব খাঁটিয়ে জোরপূর্বক জমিতে পুকুর কাটছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে বিভিন্ন হুমকি ধমকি দেওয়া হচ্ছে। তার ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না বলে জানান এলাকাবাসী। তাই ফসলি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খনন বন্ধে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয়রা। এব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত সাত্তার মন্ডলকে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এবিষয়ে চাটমোহর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসান শাকিল’র কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফসলী জমিতে পুকুর খনন করার কোন সুযোগ নেই। এব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


পাবনায় ফসলি জমিতে চলছে পুকুর খনন! আশঙ্কাজনক হারে কমছে জমি

প্রকাশের তারিখ : ২৭ ডিসেম্বর ২০২৪

featured Image
জমির প্রকৃতি পরিবর্তন করা যাবে না এমন আইন থাকলেও বৃহত্তর চলনবিল অধ্যুষিত পাবনার চাটমোহর উপজেলার হান্ডিয়াল খারপুকুর গ্রামে রাত-দিন চলছে পুকুর খনন, এতে করে আশঙ্কাজনক হারে কমছে কৃষি জমি। এদিকে পুকুর খনন রোধে প্রশাসনের নীরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে জনমনে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, উত্তরবঙ্গের শস্যভান্ডার ফসলি জমি পাবনার চাটমোহর উপজেলার হান্ডিয়ালে মাছ চাষে অধিক লাভজনক হওয়ায় উঁচু উর্বর তিন ফসলি জমিতে পুকুর কাটার হিড়িক পড়েছে। যার ফলে জমিতে ফসল উৎপাদনের উপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এ জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ধান ও সরিষা আবাদ হয় হান্ডিয়ালে। এই উপজেলায় এক্সক্যাভেটর (ভেকু মেশিন) দিয়ে প্রতিনিয়ত তিন ফসলি উর্বর জমি কেটে পুকুর খনন করায় প্রতি বছর আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। এতে বছর শেষে ফসলি জমির পরিমাণ ভয়ংকরভাবে হ্রাস পাচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শুধু রাত নয় দিনের বেলাতেও প্রকাশ্যে হান্ডিয়াল পুলিশ ফাঁড়ির সামনে ফসলী জমিতে এক্সক্যাভেটর (ভেকু) মেশিন দিয়ে খনন করা হচ্ছে পুকুর। আবার সেই জমির খননকৃত মাটি ট্রাক্টর ও ড্রাম ট্রাক দিয়ে ইটভাটাসহ বিভিন্ন কাজে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আশপাশের ফসলি জমি ও বাড়ি। নষ্ট হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক। চক্রটি প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেন না স্থানীয় এলাকাবাসী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী জানান, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে খারপুকুর গ্রামে ফসলী জমিতে পুকুর খনন করছেন হাঁসুপুর গ্রামের সাত্তার মন্ডল নামের এক ব্যক্তি। অভিযুক্ত সাত্তার মন্ডল হান্ডিয়াল বিএনপির প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় রাত-দিন কৃষিজমির উপর এমন ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন অনেকে। তারা বলেন, তিনি দলের প্রভাব খাঁটিয়ে জোরপূর্বক জমিতে পুকুর কাটছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে বিভিন্ন হুমকি ধমকি দেওয়া হচ্ছে। তার ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না বলে জানান এলাকাবাসী। তাই ফসলি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খনন বন্ধে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয়রা। এব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত সাত্তার মন্ডলকে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এবিষয়ে চাটমোহর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসান শাকিল’র কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফসলী জমিতে পুকুর খনন করার কোন সুযোগ নেই। এব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও জানান তিনি।

নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত