নজর বিডি

সম্ভাবনার খিলক্ষেতে পকেট ভরতেই ব্যস্ত স্থানীয় সিন্ডিকেট

সম্ভাবনার খিলক্ষেতে পকেট ভরতেই ব্যস্ত স্থানীয় সিন্ডিকেট
খিলক্ষেত, রাজধানীর একটি সম্ভাবনাময় এলাকা যেখানে উন্নতির সমস্ত প্রাকৃতিক ও মানবিক সুযোগ ছিল, তা এখন স্থানীয় সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে ক্রমাগত অন্ধকারে নিমজ্জিত হচ্ছে। খিলক্ষেতের পূর্বে পূর্বাচল উপশহর, পশ্চিমে নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকা, উত্তরে কাওলার সিভিল এভিয়েশন কোয়ার্টার, এবং দক্ষিনে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থাকলেও এখানকার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এ উন্নত এলাকা আজ অবহেলিত, যেখানে বসবাসকারী জনগণ নানা সমস্যায় জর্জরিত, কিন্তু এসব সমস্যার সমাধান নিয়ে কেউ কাজ করছে না। সড়ক, যানবাহন, বায়ু দূষণ, সড়ক দখল, কাঁচাবাজার সংকট, ফুটপাতে দোকান বসানো, এসব সমস্ত সমস্যা প্রতিদিন খিলক্ষেতবাসীকে ভোগাচ্ছে। অথচ স্থানীয় নেতারা যাদের দায়িত্ব ছিল এই সমস্যা সমাধান করা, তারা জনগণের এই সংকটের কোনো প্রতিকার নিয়ে এগিয়ে আসছেন না। অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে, এই নেতাদের নিজস্ব ব্যবসা বাড়ানোর জন্য জনগণের দুর্দশা তারা গোপনে উপভোগ করছে।এলাকার উন্নয়ন এবং জনগণের সুখ-শান্তির জন্য কোনো পরিকল্পনা নেই, বরং স্থানীয় কিছু নেতার ধান্দাবাজির শিকার হচ্ছেন খিলক্ষেতের বাসিন্দারা। কুর্মিটোলা স্কুলের টাকা আত্মসাৎ, রেলের জায়গা দখল, বালু ব্যবসায় ড্রেজার লাগিয়ে স্বার্থসিদ্ধি - এই ধরনের ঘটনার সাথে স্থানীয় নেতাদের নাম যুক্ত হচ্ছে। এসব দখলবাজি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্রশাসনের কোন কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। স্থানীয় কতিপয় নেতা ফ্যাসিবাদ হাসিনার দোসর এলাকার সাবেক আ.লীগ নেতাদের রক্ষা করে মোটা অংকের অর্থ আদায় করছে, আবার ফুটপাত, কাঁচাবাজার, অটোরিকশা স্ট্যান্ড থেকেও চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। স্থানীয় সমিতির নামে জনগণের টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে, ভূয়া কাগজে জমিঅধিগ্রহণের ৫৬কোটি টাকা আত্মসাৎ করেও গা ঢাকা দিয়েছে এই খিলক্ষেতের রাজনৈতিক নেতারা।তবে এটি স্পষ্ট যে, খিলক্ষেতের উন্নয়ন তথা জনগণের মঙ্গল ও শান্তি এখন স্থানীয় নেতাদের কাছে এক প্রকার ব্যবসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের জন্য জনগণের কোনো মূল্য নেই, তারা শুধু তাদের পকেট ভারী করতে ব্যস্ত। আর এভাবে চলতে থাকলে খিলক্ষেতের সাধারণ জনগণের জন্য একদিন বড় বিপদ অপেক্ষা করছে। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান, দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক এইসব ধান্দাবাজ মুখোশধারী নেতাদের বিরুদ্ধে, অন্যথায় এই ধ্বংসাত্মক প্রক্রিয়া চলতে থাকবে এবং খিলক্ষেতের উন্নয়নের স্বপ্ন চিরকাল অন্ধকারে রয়ে যাবে। সর্বোপরি ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে যারা নিজের ফায়দা ও নিজ নিজ দলের নেতাকর্মীদের অবৈধ ও অনৈতিক কাজ করার সুযোগ করে দেয়, সুখে-দুঃখে তারা কখনোই গনমানুষের প্রিয় ব্যাক্তি হতে পারে না।নিজ স্বার্থের বাইরে সাধারণ নিরীহ আম-জনতার পাশে থাকেনা বলেই তারা কোন গনমানুষের নেতা হতে পারেনা,কোন রাজনৈতিক দলের পরিচয় বহন করতে পারে না। তাই এখন থেকে সাধারণ মানুষের অধিকার শোষণকারী নামসর্বস্ব এইসব নেতা পরিচয়ের মুখোশধারীদের পরিচয় জনগণের সামনে উন্মোচন সময়ের দাবি।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


সম্ভাবনার খিলক্ষেতে পকেট ভরতেই ব্যস্ত স্থানীয় সিন্ডিকেট

প্রকাশের তারিখ : ০৩ মার্চ ২০২৫

featured Image
খিলক্ষেত, রাজধানীর একটি সম্ভাবনাময় এলাকা যেখানে উন্নতির সমস্ত প্রাকৃতিক ও মানবিক সুযোগ ছিল, তা এখন স্থানীয় সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে ক্রমাগত অন্ধকারে নিমজ্জিত হচ্ছে। খিলক্ষেতের পূর্বে পূর্বাচল উপশহর, পশ্চিমে নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকা, উত্তরে কাওলার সিভিল এভিয়েশন কোয়ার্টার, এবং দক্ষিনে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থাকলেও এখানকার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এ উন্নত এলাকা আজ অবহেলিত, যেখানে বসবাসকারী জনগণ নানা সমস্যায় জর্জরিত, কিন্তু এসব সমস্যার সমাধান নিয়ে কেউ কাজ করছে না। সড়ক, যানবাহন, বায়ু দূষণ, সড়ক দখল, কাঁচাবাজার সংকট, ফুটপাতে দোকান বসানো, এসব সমস্ত সমস্যা প্রতিদিন খিলক্ষেতবাসীকে ভোগাচ্ছে। অথচ স্থানীয় নেতারা যাদের দায়িত্ব ছিল এই সমস্যা সমাধান করা, তারা জনগণের এই সংকটের কোনো প্রতিকার নিয়ে এগিয়ে আসছেন না। অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে, এই নেতাদের নিজস্ব ব্যবসা বাড়ানোর জন্য জনগণের দুর্দশা তারা গোপনে উপভোগ করছে।এলাকার উন্নয়ন এবং জনগণের সুখ-শান্তির জন্য কোনো পরিকল্পনা নেই, বরং স্থানীয় কিছু নেতার ধান্দাবাজির শিকার হচ্ছেন খিলক্ষেতের বাসিন্দারা। কুর্মিটোলা স্কুলের টাকা আত্মসাৎ, রেলের জায়গা দখল, বালু ব্যবসায় ড্রেজার লাগিয়ে স্বার্থসিদ্ধি - এই ধরনের ঘটনার সাথে স্থানীয় নেতাদের নাম যুক্ত হচ্ছে। এসব দখলবাজি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্রশাসনের কোন কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। স্থানীয় কতিপয় নেতা ফ্যাসিবাদ হাসিনার দোসর এলাকার সাবেক আ.লীগ নেতাদের রক্ষা করে মোটা অংকের অর্থ আদায় করছে, আবার ফুটপাত, কাঁচাবাজার, অটোরিকশা স্ট্যান্ড থেকেও চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। স্থানীয় সমিতির নামে জনগণের টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে, ভূয়া কাগজে জমিঅধিগ্রহণের ৫৬কোটি টাকা আত্মসাৎ করেও গা ঢাকা দিয়েছে এই খিলক্ষেতের রাজনৈতিক নেতারা।তবে এটি স্পষ্ট যে, খিলক্ষেতের উন্নয়ন তথা জনগণের মঙ্গল ও শান্তি এখন স্থানীয় নেতাদের কাছে এক প্রকার ব্যবসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের জন্য জনগণের কোনো মূল্য নেই, তারা শুধু তাদের পকেট ভারী করতে ব্যস্ত। আর এভাবে চলতে থাকলে খিলক্ষেতের সাধারণ জনগণের জন্য একদিন বড় বিপদ অপেক্ষা করছে। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান, দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক এইসব ধান্দাবাজ মুখোশধারী নেতাদের বিরুদ্ধে, অন্যথায় এই ধ্বংসাত্মক প্রক্রিয়া চলতে থাকবে এবং খিলক্ষেতের উন্নয়নের স্বপ্ন চিরকাল অন্ধকারে রয়ে যাবে। সর্বোপরি ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে যারা নিজের ফায়দা ও নিজ নিজ দলের নেতাকর্মীদের অবৈধ ও অনৈতিক কাজ করার সুযোগ করে দেয়, সুখে-দুঃখে তারা কখনোই গনমানুষের প্রিয় ব্যাক্তি হতে পারে না।নিজ স্বার্থের বাইরে সাধারণ নিরীহ আম-জনতার পাশে থাকেনা বলেই তারা কোন গনমানুষের নেতা হতে পারেনা,কোন রাজনৈতিক দলের পরিচয় বহন করতে পারে না। তাই এখন থেকে সাধারণ মানুষের অধিকার শোষণকারী নামসর্বস্ব এইসব নেতা পরিচয়ের মুখোশধারীদের পরিচয় জনগণের সামনে উন্মোচন সময়ের দাবি।

নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত