নজর বিডি

পুরনো ব্যাটারি পুড়িয়ে শিশা তৈরী!ছড়াচ্ছে ধোঁয়া ও মিথেন গ্যাস

পুরনো ব্যাটারি পুড়িয়ে শিশা তৈরী!ছড়াচ্ছে ধোঁয়া ও মিথেন গ্যাস
গ্রীন মডেল টাউনের দক্ষিণ পাশে অবস্থান মাতুয়াইল ময়লা ডাম্পিং । এখানে ঢাকা শহরের দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সমস্ত ময়লা ডাম্পিং করা হয় , ‌যার তীব্র দুর্গন্ধে অতিষ্ট গ্রীন মডেল টাউনবাসী। পাশাপাশি বিস্তৃত মুগদার মান্ডা ও ডেমরার কোনাপাড়া, উত্তরযাত্রাবাড়ীর বাসিন্দারা। তার উপরে মরার উপর খাড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে উক্ত ডাম্পিংয়ে পুরনো ব্যাটারি পোড়ানোর বিষাক্ত ধোঁয়া ও মিথেন গ্যাস । অনুসন্ধানে জানা যায়, যানবাহনের পুরনো ব্যাটারি সংগ্রহ করে রাতের বেলায় এসব ব্যাটারি আগুনের উচ্চতাপে পুড়িয়ে বের করা হয় শিশা। পরে ব্যাটারির ভাঙা অংশ ও অ্যাসিডসহ উচ্ছিষ্ট অংশ আশপাশের এলাকায় যত্রতত্র ফেলে দেয়া হচ্ছে। মাতুয়াইল ডাম্পিং এ এমন অনেকগুলো শিশা তৈরির কারখানা রয়েছে অসাধু কিছু ব্যবসায়ীর । কারখানাগুলোতে রাত ১০টায় ব্যাটারি পুড়িয়ে শিশা বের করার কাজ শুরু হয়‌, ভোর ৫ টায় পোড়ানো বন্ধ হয়। এরপর ট্রাকে করে শিশা নিয়ে যাওয়া হয়। ব্যাটারি পোড়ানোয় এলাকায় বিশেষ করে গ্রীন মডেল টাউনে মারাত্মক ক্ষতিকর দূষণ ছড়িয়ে পড়ছে প্রতিনিয়ত। কালো ধোঁয়া ও ছাইয়ে এলাকার গাছপালা, লতাপাতা কালো বর্ণ ধারণ করেছে। আশাপাশের জমির ফসল ও সবুজ ঘাস কালচে রং ধারণ করেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ভাষ্যমতে, এই ব্যাটারি পোড়ানো ধোঁয়া মানব ও প্রাণিদেহ এবং উদ্ভিদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এ ব্যাপারে গ্রীন মডেল টাউনবাসী অনেকেই মুঠোফোনে বা সরাসরি কথা বলেছেন কিছু একটা করা যায় কি না ? ভেবে দেখার জন্য। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী স্থানীয় একটি চক্রকে ম্যানেজ করে ব্যাটারি পোড়ানোর কারখানা স্থাপন করেছেন। সেখানে অনেকগুলো চুলা বসিয়েছেন। এসব চুলায় উচ্চ আগুনের তাপে ব্যাটারি পোড়ানো হয়ে থাকে। যানবাহনের বহু অকেজো ব্যাটারি স্তূপ করে রাখা হয়েছে। ব্যাটারি ভেঙে শিশা বের করে পানি ও এসিড আশপাশে যত্রতত্র ফেলে দেয়া হচ্ছে। কারখানার আশপাশে যাওয়ামাত্র ব্যাটরি পোড়ানোর উৎকট দুর্গন্ধ পেটের নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে আসার উপক্রম হয়। কারখানা গুলোতে রাতে ব্যাটারি পোড়ানো হয়, দিনের আলো ফোটার আগেিই আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়। “ব্যাটারি পোড়ানোর সময় আগুন ৩০ ফুট উপরে ওঠে। কালো ধোঁয়ায় গোটা গ্রীন মডেল টাউন এলাকা আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। বাতাস যেদিকে প্রবাহিত হয় সেদিকেই দুর্গন্ধ ছড়ায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাটারি পোড়ানোর ধোঁয়ায় মানুষের শ্বাসকষ্ট, ফুসফুস ক্যান্সারসহ শরীরে বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি হয়। ওই কারখানার আশপাশে উৎপাদিত শাক-সবজি খেলে মানবদেহে বিষক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। গরু ছাগল ওই এলাকার ঘাস, লতা-পাতা খেলে বিষক্রিয়ায় মারা যেতে পারে। ওই কারখানার ধোঁয়া ও ছাই যতদূরে যাবে, সেই পর্যন্ত পরিবেশ মারাত্মক দূষিত হবে। তাই পরিবেশ সুরক্ষায় ব্যাটারি পোড়ানো কারখানা উচ্ছেদের কোনো বিকল্প নেই ।এলাকার পরিবেশ রক্ষায় ওই কারখানা উচ্ছেদের জন্য শীঘ্রই একটা পদক্ষেপ নেয়া দরকার। পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের মধ্যে জনবসতি এলাকায় কিভাবে একটি ময়লার ডাম্পিং স্টেশন থাকতে পারে সে বিষয়টিও ভেবে দেখার সময় এসেছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


পুরনো ব্যাটারি পুড়িয়ে শিশা তৈরী!ছড়াচ্ছে ধোঁয়া ও মিথেন গ্যাস

প্রকাশের তারিখ : ১০ মার্চ ২০২৫

featured Image
গ্রীন মডেল টাউনের দক্ষিণ পাশে অবস্থান মাতুয়াইল ময়লা ডাম্পিং । এখানে ঢাকা শহরের দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সমস্ত ময়লা ডাম্পিং করা হয় , ‌যার তীব্র দুর্গন্ধে অতিষ্ট গ্রীন মডেল টাউনবাসী। পাশাপাশি বিস্তৃত মুগদার মান্ডা ও ডেমরার কোনাপাড়া, উত্তরযাত্রাবাড়ীর বাসিন্দারা। তার উপরে মরার উপর খাড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে উক্ত ডাম্পিংয়ে পুরনো ব্যাটারি পোড়ানোর বিষাক্ত ধোঁয়া ও মিথেন গ্যাস । অনুসন্ধানে জানা যায়, যানবাহনের পুরনো ব্যাটারি সংগ্রহ করে রাতের বেলায় এসব ব্যাটারি আগুনের উচ্চতাপে পুড়িয়ে বের করা হয় শিশা। পরে ব্যাটারির ভাঙা অংশ ও অ্যাসিডসহ উচ্ছিষ্ট অংশ আশপাশের এলাকায় যত্রতত্র ফেলে দেয়া হচ্ছে। মাতুয়াইল ডাম্পিং এ এমন অনেকগুলো শিশা তৈরির কারখানা রয়েছে অসাধু কিছু ব্যবসায়ীর । কারখানাগুলোতে রাত ১০টায় ব্যাটারি পুড়িয়ে শিশা বের করার কাজ শুরু হয়‌, ভোর ৫ টায় পোড়ানো বন্ধ হয়। এরপর ট্রাকে করে শিশা নিয়ে যাওয়া হয়। ব্যাটারি পোড়ানোয় এলাকায় বিশেষ করে গ্রীন মডেল টাউনে মারাত্মক ক্ষতিকর দূষণ ছড়িয়ে পড়ছে প্রতিনিয়ত। কালো ধোঁয়া ও ছাইয়ে এলাকার গাছপালা, লতাপাতা কালো বর্ণ ধারণ করেছে। আশাপাশের জমির ফসল ও সবুজ ঘাস কালচে রং ধারণ করেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ভাষ্যমতে, এই ব্যাটারি পোড়ানো ধোঁয়া মানব ও প্রাণিদেহ এবং উদ্ভিদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এ ব্যাপারে গ্রীন মডেল টাউনবাসী অনেকেই মুঠোফোনে বা সরাসরি কথা বলেছেন কিছু একটা করা যায় কি না ? ভেবে দেখার জন্য। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী স্থানীয় একটি চক্রকে ম্যানেজ করে ব্যাটারি পোড়ানোর কারখানা স্থাপন করেছেন। সেখানে অনেকগুলো চুলা বসিয়েছেন। এসব চুলায় উচ্চ আগুনের তাপে ব্যাটারি পোড়ানো হয়ে থাকে। যানবাহনের বহু অকেজো ব্যাটারি স্তূপ করে রাখা হয়েছে। ব্যাটারি ভেঙে শিশা বের করে পানি ও এসিড আশপাশে যত্রতত্র ফেলে দেয়া হচ্ছে। কারখানার আশপাশে যাওয়ামাত্র ব্যাটরি পোড়ানোর উৎকট দুর্গন্ধ পেটের নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে আসার উপক্রম হয়। কারখানা গুলোতে রাতে ব্যাটারি পোড়ানো হয়, দিনের আলো ফোটার আগেিই আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়। “ব্যাটারি পোড়ানোর সময় আগুন ৩০ ফুট উপরে ওঠে। কালো ধোঁয়ায় গোটা গ্রীন মডেল টাউন এলাকা আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। বাতাস যেদিকে প্রবাহিত হয় সেদিকেই দুর্গন্ধ ছড়ায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাটারি পোড়ানোর ধোঁয়ায় মানুষের শ্বাসকষ্ট, ফুসফুস ক্যান্সারসহ শরীরে বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি হয়। ওই কারখানার আশপাশে উৎপাদিত শাক-সবজি খেলে মানবদেহে বিষক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। গরু ছাগল ওই এলাকার ঘাস, লতা-পাতা খেলে বিষক্রিয়ায় মারা যেতে পারে। ওই কারখানার ধোঁয়া ও ছাই যতদূরে যাবে, সেই পর্যন্ত পরিবেশ মারাত্মক দূষিত হবে। তাই পরিবেশ সুরক্ষায় ব্যাটারি পোড়ানো কারখানা উচ্ছেদের কোনো বিকল্প নেই ।এলাকার পরিবেশ রক্ষায় ওই কারখানা উচ্ছেদের জন্য শীঘ্রই একটা পদক্ষেপ নেয়া দরকার। পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের মধ্যে জনবসতি এলাকায় কিভাবে একটি ময়লার ডাম্পিং স্টেশন থাকতে পারে সে বিষয়টিও ভেবে দেখার সময় এসেছে।

নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত