নজর বিডি

রাতে না পারলে দিনে এসো, আমি রোজা থাকিনা

রাতে না পারলে দিনে এসো, আমি রোজা থাকিনা
পঞ্চাশোর্ধ অধ্যক্ষ মুখভর্তি পাকা দাঁড়ি। দেখতে অনেকটা ছোট খাটো। হাসি মুখে কথা বলেন সব সময়। তিনি তার ছাত্রীকে বললেন “রাতে তার চেম্বারে আসতে, আর রাতে আসতে না পারলেও কোন সমস্যা নাই!! দিনে আসলে হবে যখন তিনি একা থাকেন। কারণ তিনি রোজা থাকেন না”।। এমনি একটি ঘটনা ঘটেছে লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের রবিউল আলম নামে এক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। তিনি তার কলেজের এক ছাত্রীকে এইচএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপের টাকা মওকুফ করার কথা বলে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা ওই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। রবিউল আলম জেলার আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী একজন গরিব ও অসহায় পরিবারের সন্তান। তিনি মহিষখোচা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। তার বাবা তিস্তা নদী ভাঙ্গন কবলিত একজন অসহায় দিনমুজুর। এইচএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপ করতে অনেক টাকার প্রয়োজন। যা ওই ছাত্রীর বাবার পক্ষে দেওয়া অসম্ভব। তাই এইচএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপে টাকা কম নেয়ার জন্য অধ্যক্ষ বরাবর একটি আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে অধ্যক্ষ রবিউল আলম তাকে ফোনে যোগাযোগ করতে বলেন। গত ৯ মার্চ ইফতারের পর ওই ছাত্রী তার পরিবারের উপস্থিতিতে অধ্যক্ষ রবিউল আলমকে ফোন দেন। ফোন রিসিভ করে অধ্যক্ষ রবিউল আলম তাকে রাতে একা তার চেম্বারে আসতে বলেন। এ সময় ছাত্রী বলেন, “স্যার আমি একজন মেয়ে। আর মেয়ে হয়ে কীভাবে রাতে আপনার সঙ্গে দেখা করবো?’’ তখন অধ্যক্ষ তাকে বলেন- ‘আমি তো রোজা থাকি না। তাই রাতে আসতে না পারলে কলেজে যখন একা থাকি তখন চলে এসো।’ এ সময় অপর পক্ষ থেকে অধ্যক্ষ আরো বলেন- ‘আমি এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান। আমার কথা না শুনলে তোমার হয়তো এবার পরীক্ষা দেওয়া হবে না। তাই আমি যা বলি সেটাই করো। আর বিষয়টা যেন কেউ জানতে না পারে।’ অধ্যক্ষ এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে ওই ছাত্রী ফোন কেটে দেন এবং বিষয়টি তার বন্ধুবান্ধব ও কলেজের অন্যান্য শিক্ষকদের বিষয়টি অবগত করেন। ছাত্রীর বাবা এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিকে বিষয়টি জানালে, তারা জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দেওয়ার কথা বলেন। পরে ১৩ মার্চ ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীর বাবা লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্ত অধ্যক্ষ রবিউল আলমের ফোন নম্বরে(017******76) একাধিকবার ফোন করে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এইচএম রকিব হায়দার জানান, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। যেহেতু এটি আইনশৃঙ্খলার বিষয় তাই অভিযোগটি পুলিশ সুপার বরাবর পাঠানো হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনেই বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন। আদিমতমারী থানার ওসি আকবর আলী বলেন, এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


রাতে না পারলে দিনে এসো, আমি রোজা থাকিনা

প্রকাশের তারিখ : ১৬ মার্চ ২০২৫

featured Image
পঞ্চাশোর্ধ অধ্যক্ষ মুখভর্তি পাকা দাঁড়ি। দেখতে অনেকটা ছোট খাটো। হাসি মুখে কথা বলেন সব সময়। তিনি তার ছাত্রীকে বললেন “রাতে তার চেম্বারে আসতে, আর রাতে আসতে না পারলেও কোন সমস্যা নাই!! দিনে আসলে হবে যখন তিনি একা থাকেন। কারণ তিনি রোজা থাকেন না”।। এমনি একটি ঘটনা ঘটেছে লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের রবিউল আলম নামে এক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। তিনি তার কলেজের এক ছাত্রীকে এইচএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপের টাকা মওকুফ করার কথা বলে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা ওই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। রবিউল আলম জেলার আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী একজন গরিব ও অসহায় পরিবারের সন্তান। তিনি মহিষখোচা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। তার বাবা তিস্তা নদী ভাঙ্গন কবলিত একজন অসহায় দিনমুজুর। এইচএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপ করতে অনেক টাকার প্রয়োজন। যা ওই ছাত্রীর বাবার পক্ষে দেওয়া অসম্ভব। তাই এইচএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপে টাকা কম নেয়ার জন্য অধ্যক্ষ বরাবর একটি আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে অধ্যক্ষ রবিউল আলম তাকে ফোনে যোগাযোগ করতে বলেন। গত ৯ মার্চ ইফতারের পর ওই ছাত্রী তার পরিবারের উপস্থিতিতে অধ্যক্ষ রবিউল আলমকে ফোন দেন। ফোন রিসিভ করে অধ্যক্ষ রবিউল আলম তাকে রাতে একা তার চেম্বারে আসতে বলেন। এ সময় ছাত্রী বলেন, “স্যার আমি একজন মেয়ে। আর মেয়ে হয়ে কীভাবে রাতে আপনার সঙ্গে দেখা করবো?’’ তখন অধ্যক্ষ তাকে বলেন- ‘আমি তো রোজা থাকি না। তাই রাতে আসতে না পারলে কলেজে যখন একা থাকি তখন চলে এসো।’ এ সময় অপর পক্ষ থেকে অধ্যক্ষ আরো বলেন- ‘আমি এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান। আমার কথা না শুনলে তোমার হয়তো এবার পরীক্ষা দেওয়া হবে না। তাই আমি যা বলি সেটাই করো। আর বিষয়টা যেন কেউ জানতে না পারে।’ অধ্যক্ষ এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে ওই ছাত্রী ফোন কেটে দেন এবং বিষয়টি তার বন্ধুবান্ধব ও কলেজের অন্যান্য শিক্ষকদের বিষয়টি অবগত করেন। ছাত্রীর বাবা এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিকে বিষয়টি জানালে, তারা জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দেওয়ার কথা বলেন। পরে ১৩ মার্চ ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীর বাবা লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্ত অধ্যক্ষ রবিউল আলমের ফোন নম্বরে(017******76) একাধিকবার ফোন করে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এইচএম রকিব হায়দার জানান, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। যেহেতু এটি আইনশৃঙ্খলার বিষয় তাই অভিযোগটি পুলিশ সুপার বরাবর পাঠানো হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনেই বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন। আদিমতমারী থানার ওসি আকবর আলী বলেন, এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত