ঢাকার খিলক্ষেতের মধ্যপাড়া এলাকায় একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। ধর্ষণের অভিযোগে জান, বয়স আনু:(১৩), এক কিশোরকে উত্তেজিত জনতা গণপিটুনি দিয়েছে।আশংকাজনক অবস্থায় বর্তমানে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছে ছেলেটি।
কিন্তু ঘটনার রহস্যের গভীরে রয়েছে একটি গুরুতর প্রশ্ন - শিশুটির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ সত্য ছিল কিনা? কিংবা ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছিল, নাকি শুধু ভিত্তিহীন গুজবের কারণে এত বড় একটি ঘটনা ঘটল? অভিযুক্ত ছেলেটি মারা গেলে সে দায়ভারই বা কার?এইসব প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি তবে উত্তেজিত জনতা তাদের রাগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি এবং আইন নিজেদের হাতে তুলে নিয়ে এক তরুণকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে।
মব-জাস্টিস বা জনতার হাতে বিচারের এই ধরনের প্রবণতা কোনোভাবেই ন্যায্য হতে পারে না। আইন অনুযায়ী যে কোনো অপরাধের বিচার আদালতে হওয়া উচিত জনগণের হাতে নয়। এটি একটি বিপজ্জনক দৃষ্টিভঙ্গি যেখানে আইন ও নিয়ম ভেঙে মানুষ-হত্যার মতো গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে কোনও অভিযোগের ভিত্তিতে মানুষকে হত্যা করা বা হত্যার উদ্দেশ্যে নির্যাতন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। জানা যায়, থানা-পুলিশ কর্তৃক ধর্ষককে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যাওয়ার পথে খিলক্ষেত বাজারে আসলে উত্তেজিত জনতা পুলিশের গাড়ি ভাংচুর করে ও
পুলিশের গাড়ি থেকে ধর্ষককে ছিনিয়ে নেবার চেষ্টা করে। এতে ঘটনাস্থলে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয় এবং অভিযুক্ত ধর্ষক জান (আনু:১৩),পিতা: অজ্ঞাত, থানা অষ্টগ্রাম জেলাঃ কিশোরগঞ্জের রক্তাক্ত দেহ মাটিতে পড়ে থাকে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,ক্ষুব্ধ জনতা এক কিশোরকে ধর্ষণের অভিযোগে মারধর শুরু করে এবং পুলিশ তাকে উদ্ধার করতে গেলে উত্তেজিত জনতা পুলিশের গাড়ি ও সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। যদিও পুলিশ তাকে থানা নিয়ে আসার চেষ্টা করছিল কিন্তু বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে গণপিটুনি দেয়। তবে এই ঘটনাটি কি সত্যিই ধর্ষণের ঘটনা ছিল, নাকি ছিল শুধু গুজব বা বিভ্রান্তি? ঘটনার সার্বিক বিষয় মাথায় নিয়ে ইতিমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও তদন্ত শুরু হয়েছে বলে সুত্রে জানা যায়।
এই ধরনের ঘটনা শুধু খিলক্ষেতের জন্য নয়, পুরো সমাজের জন্য এক মারাত্মক অশনি সংকেত। যেকোনো অভিযোগে উত্তেজিত জনতার এমন আচরণ, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া, শুধু অপরাধীকে শাস্তি দেওয়ার বিষয় নয় বরং পুরো সমাজের কাঠামো এবং নৈতিকতার জন্যও বিপজ্জনক।
যে সমাজে এভাবে মব-জাস্টিসের প্রভাব প্রতিষ্ঠিত হয়, সেখানে আইনের শাসন দুর্বল হয়ে পড়ে এবং অপরাধপ্রবণতা বেড়ে যায়। আমরা যতই সমাজে উন্নয়ন কিংবা আইনশৃঙ্খলা প্রসারের কথা বলি, যদি জনগণ নিজের হাতে বিচার প্রতিষ্ঠা করতে থাকে, তাহলে সমাজে বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা তৈরি হবে। এ ঘটনার পর প্রশাসনকে আরো দৃঢ়ভাবে এই ধরনের অপরাধের মোকাবিলা করতে হবে এবং জনগণকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করতে হবে।
আপনার মতামত লিখুন