রানা প্লাজা ভবন ধস এবং তাজরীন ফ্যাশনস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকেরা আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কনভেনশন-১২১ অনুযায়ী পূর্ণ ক্ষতিপূরণ, আজীবন সুচিকিৎসা, স্থায়ী পুনর্বাসন, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং ন্যায্য মজুরিসহ ৭ দফা দাবি জানিয়েছেন।
শনিবার (১৬ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক এবং শ্রমিক নেতারা এই দাবি তুলে ধরেন। তাজরীন ফ্যাশনসের আহত শ্রমিক জরিনা বেগমের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক কাজী রুহুল আমীন এবং আইন ও দরকষাকষি বিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টুসহ আহত শ্রমিকেরা।
বক্তারা অত্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দুই ভয়াবহ দুর্ঘটনার এক যুগেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও আহত বহু শ্রমিক এখনো মানবেতর জীবনযাপন করছেন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে অনেকে পঙ্গুত্ব নিয়ে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। ট্রাস্ট ফান্ড ও বিভিন্ন সংস্থার সহায়তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল হওয়ায় পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে রয়েছে।
তারা আরও মনে করিয়ে দেন, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ধসে ১ হাজার ১৩৮ জনেরও বেশি এবং ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর তাজরীনের অগ্নিকাণ্ডে ১১৪ জন শ্রমিক নিহত হন। ভবনে ফাটল দেখার পরও সেদিন শ্রমিকদের জোরপূর্বক কাজে বাধ্য করা হয়েছিল, যা একটি 'পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড'। এত বছর পরও অধিকাংশ আসামি জামিনে মুক্ত থাকায় বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ জানান তারা।
১. ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের বর্তমান পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়ন করে আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
২. বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন করে আহত শ্রমিকদের আজীবন সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।
৩. দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে।
৪. দুর্ঘটনার পর সংগৃহীত সব অনুদানের স্বচ্ছ ও সঠিক হিসাব প্রকাশ করতে হবে।
৫. দায়ী কারখানার মালিকদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে তা থেকে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের স্থায়ী পুনর্বাসন করতে হবে।
৬. শহীদ শ্রমিকদের স্মরণে সাভারে স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ এবং ২৪ এপ্রিলকে ‘শ্রমিক হত্যা দিবস’ ঘোষণা করতে হবে।
৭. পোশাক খাতের সঙ্গে জড়িত আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর নৈতিক ও আইনি দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬
রানা প্লাজা ভবন ধস এবং তাজরীন ফ্যাশনস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকেরা আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কনভেনশন-১২১ অনুযায়ী পূর্ণ ক্ষতিপূরণ, আজীবন সুচিকিৎসা, স্থায়ী পুনর্বাসন, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং ন্যায্য মজুরিসহ ৭ দফা দাবি জানিয়েছেন।
শনিবার (১৬ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক এবং শ্রমিক নেতারা এই দাবি তুলে ধরেন। তাজরীন ফ্যাশনসের আহত শ্রমিক জরিনা বেগমের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক কাজী রুহুল আমীন এবং আইন ও দরকষাকষি বিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টুসহ আহত শ্রমিকেরা।
বক্তারা অত্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দুই ভয়াবহ দুর্ঘটনার এক যুগেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও আহত বহু শ্রমিক এখনো মানবেতর জীবনযাপন করছেন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে অনেকে পঙ্গুত্ব নিয়ে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। ট্রাস্ট ফান্ড ও বিভিন্ন সংস্থার সহায়তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল হওয়ায় পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে রয়েছে।
তারা আরও মনে করিয়ে দেন, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ধসে ১ হাজার ১৩৮ জনেরও বেশি এবং ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর তাজরীনের অগ্নিকাণ্ডে ১১৪ জন শ্রমিক নিহত হন। ভবনে ফাটল দেখার পরও সেদিন শ্রমিকদের জোরপূর্বক কাজে বাধ্য করা হয়েছিল, যা একটি 'পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড'। এত বছর পরও অধিকাংশ আসামি জামিনে মুক্ত থাকায় বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ জানান তারা।
১. ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের বর্তমান পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়ন করে আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
২. বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন করে আহত শ্রমিকদের আজীবন সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।
৩. দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে।
৪. দুর্ঘটনার পর সংগৃহীত সব অনুদানের স্বচ্ছ ও সঠিক হিসাব প্রকাশ করতে হবে।
৫. দায়ী কারখানার মালিকদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে তা থেকে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের স্থায়ী পুনর্বাসন করতে হবে।
৬. শহীদ শ্রমিকদের স্মরণে সাভারে স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ এবং ২৪ এপ্রিলকে ‘শ্রমিক হত্যা দিবস’ ঘোষণা করতে হবে।
৭. পোশাক খাতের সঙ্গে জড়িত আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর নৈতিক ও আইনি দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন