নজর বিডি
প্রকাশ : সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

র‍্যাবকে শক্তিশালী করতে হচ্ছে নতুন আইন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

র‍্যাবকে শক্তিশালী করতে হচ্ছে নতুন আইন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জননিরাপত্তা রক্ষায় দেশে একটি এলিট ফোর্স বা বিশেষায়িত বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, এতদিন র‍্যাব একটি অ্যাডহক ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে আসছিল, যা মোটেও ঠিক নয়। 

তাই র‍্যাবকে আইনি কাঠামোর মধ্যে এনে আরও শক্তিশালী করতে একটি সম্পূর্ণ নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৮ মে) দুপুরে র‍্যাব সদর দপ্তরে বাহিনীর ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "আগামী দিনে সম্পূর্ণভাবে মানবাধিকারকে সমুন্নত রেখে আমরা একটি নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছি, যার অধীনে এলিট ফোর্স হিসেবে একটি বাহিনী থাকবে। আমরা র‍্যাবের নাম পরিবর্তন (রিনেম) করব নাকি নতুন কোনো এলিট ফোর্স গঠন (রেইজ) করব, তা এখনো সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। তবে নতুন আইনের মাধ্যমে বাহিনীর কর্তৃত্ব ও দায়িত্বের পাশাপাশি স্বচ্ছতা (ট্রান্সপারেন্সি) এবং জবাবদিহিতা (অ্যাকাউন্ট্যাবিলিটি) নিশ্চিত করা হবে।"

তিনি আরও জানান, বর্তমানে র‍্যাব আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের একটি ধারার অধীনে অ্যাডহক ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। ১০-১২ বছর আগে থেকেই এটি এভাবে চলে আসছিল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টিকে নিয়মতান্ত্রিক মনে না হওয়ায় তিনি আইন প্রণয়নের জন্য একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। কমিটি বর্তমানে আইনটি পর্যালোচনার কাজ করছে। নতুন আইনে এই এলিট ফোর্সের লজিস্টিকস, ট্রেইনিং ফ্যাসিলিটি ও সম্পদসহ সবকিছুর সুনির্দিষ্ট বিবরণ থাকবে।

র‍্যাবের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে সরকারের কোনো উদ্যোগ আছে কিনা জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিগত পতিত স্বৈরাচারী শাসন আমলে শেখ হাসিনা তাঁর রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে, একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েমের উগ্র বাসনা চরিতার্থ করতে র‍্যাবকে ব্যবহার করেছিলেন। সেই সময় র‍্যাব এমন কিছু কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল বলেই আমেরিকা এই নিষেধাজ্ঞা (স্যাংশন) দিয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, "বিগত আমলগুলোতে পুলিশ, সেনাবাহিনী, র‍্যাব, বিজিবিসহ প্রতিটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কয়েকজন কর্মকর্তার অন্যায়ের দায় পুরো প্রতিষ্ঠান নিতে পারে না। যারা বিপথগামী হয়েছিলেন, তাদের নিজস্ব আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করতে আমরা অলরেডি অনুশাসন দিয়েছি। আমরা যখন এলিট ফোর্স হিসেবে এটিকে নতুন নামে বা নতুনভাবে পুনর্গঠন করব, তখন আশা করা যায় আমেরিকা তাদের এই নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনা করবে।"

ভবিষ্যতে এই বাহিনীকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে না—এমন নিশ্চয়তার প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, "মর্নিং শোজ দ্য ডে (সকাল দেখলেই বোঝা যায় দিনটি কেমন যাবে)। আমাদের সরকারের তিন মাস চলছে। এই সময়ে র‍্যাব, পুলিশ বা অন্য কোনো বাহিনীকে কি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে? সুতরাং আমাদের কর্মকাণ্ডই প্রমাণ করে।"

বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর গুম ও মিলিটারি ইন্টারনাল ইনকোয়ারি বোর্ডের তদন্ত বন্ধের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, প্রশ্নটি সঠিক নয়। ইলিয়াস আলীর স্ত্রী এবং তিনি নিজে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) মামলা করেছেন। আইসিটি আইনটি অত্যন্ত শক্তিশালী। পূর্বের গুম কমিশনে কিছু আইনি সীমাবদ্ধতা ও অস্পষ্টতা ছিল, যেখানে ভিকটিম নিজে মামলা করার ক্ষেত্রে কিছু বিতর্ক ছিল। সরকার এখন আইসিটি আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার চেষ্টা করছে, যেন গুমের শিকার হওয়া, গুমের হুমকি পাওয়া কিংবা গুম হয়ে ফিরে আসা—সব ধরনের ঘটনার সুনির্দিষ্ট ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার এই একটি আদালতেই নিশ্চিত করা যায়।

র‌্যাবের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এবং র‍্যাব মহাপরিচালক (অতিরিক্ত আইজিপি) মো. আহসান হাবীব পলাশসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বিষয় : নজরবিডি সংবাদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, র‍্যাব, নতুন আইন, এলিট ফোর্স, র‍্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, ইলিয়াস আলী গুম, আইসিটি কোর্ট Home Minister Salahuddin Ahmed, RAB, New Law, Elite Force, RAB Raising Day, US Sanctions on RAB, Ilias Ali Disappearance, ICT Court, Law and Order

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


র‍্যাবকে শক্তিশালী করতে হচ্ছে নতুন আইন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ১৮ মে ২০২৬

featured Image

জননিরাপত্তা রক্ষায় দেশে একটি এলিট ফোর্স বা বিশেষায়িত বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, এতদিন র‍্যাব একটি অ্যাডহক ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে আসছিল, যা মোটেও ঠিক নয়। 

তাই র‍্যাবকে আইনি কাঠামোর মধ্যে এনে আরও শক্তিশালী করতে একটি সম্পূর্ণ নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৮ মে) দুপুরে র‍্যাব সদর দপ্তরে বাহিনীর ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "আগামী দিনে সম্পূর্ণভাবে মানবাধিকারকে সমুন্নত রেখে আমরা একটি নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছি, যার অধীনে এলিট ফোর্স হিসেবে একটি বাহিনী থাকবে। আমরা র‍্যাবের নাম পরিবর্তন (রিনেম) করব নাকি নতুন কোনো এলিট ফোর্স গঠন (রেইজ) করব, তা এখনো সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। তবে নতুন আইনের মাধ্যমে বাহিনীর কর্তৃত্ব ও দায়িত্বের পাশাপাশি স্বচ্ছতা (ট্রান্সপারেন্সি) এবং জবাবদিহিতা (অ্যাকাউন্ট্যাবিলিটি) নিশ্চিত করা হবে।"

তিনি আরও জানান, বর্তমানে র‍্যাব আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের একটি ধারার অধীনে অ্যাডহক ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। ১০-১২ বছর আগে থেকেই এটি এভাবে চলে আসছিল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টিকে নিয়মতান্ত্রিক মনে না হওয়ায় তিনি আইন প্রণয়নের জন্য একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। কমিটি বর্তমানে আইনটি পর্যালোচনার কাজ করছে। নতুন আইনে এই এলিট ফোর্সের লজিস্টিকস, ট্রেইনিং ফ্যাসিলিটি ও সম্পদসহ সবকিছুর সুনির্দিষ্ট বিবরণ থাকবে।

র‍্যাবের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে সরকারের কোনো উদ্যোগ আছে কিনা জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিগত পতিত স্বৈরাচারী শাসন আমলে শেখ হাসিনা তাঁর রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে, একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েমের উগ্র বাসনা চরিতার্থ করতে র‍্যাবকে ব্যবহার করেছিলেন। সেই সময় র‍্যাব এমন কিছু কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল বলেই আমেরিকা এই নিষেধাজ্ঞা (স্যাংশন) দিয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, "বিগত আমলগুলোতে পুলিশ, সেনাবাহিনী, র‍্যাব, বিজিবিসহ প্রতিটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কয়েকজন কর্মকর্তার অন্যায়ের দায় পুরো প্রতিষ্ঠান নিতে পারে না। যারা বিপথগামী হয়েছিলেন, তাদের নিজস্ব আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করতে আমরা অলরেডি অনুশাসন দিয়েছি। আমরা যখন এলিট ফোর্স হিসেবে এটিকে নতুন নামে বা নতুনভাবে পুনর্গঠন করব, তখন আশা করা যায় আমেরিকা তাদের এই নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনা করবে।"

ভবিষ্যতে এই বাহিনীকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে না—এমন নিশ্চয়তার প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, "মর্নিং শোজ দ্য ডে (সকাল দেখলেই বোঝা যায় দিনটি কেমন যাবে)। আমাদের সরকারের তিন মাস চলছে। এই সময়ে র‍্যাব, পুলিশ বা অন্য কোনো বাহিনীকে কি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে? সুতরাং আমাদের কর্মকাণ্ডই প্রমাণ করে।"

বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর গুম ও মিলিটারি ইন্টারনাল ইনকোয়ারি বোর্ডের তদন্ত বন্ধের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, প্রশ্নটি সঠিক নয়। ইলিয়াস আলীর স্ত্রী এবং তিনি নিজে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) মামলা করেছেন। আইসিটি আইনটি অত্যন্ত শক্তিশালী। পূর্বের গুম কমিশনে কিছু আইনি সীমাবদ্ধতা ও অস্পষ্টতা ছিল, যেখানে ভিকটিম নিজে মামলা করার ক্ষেত্রে কিছু বিতর্ক ছিল। সরকার এখন আইসিটি আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার চেষ্টা করছে, যেন গুমের শিকার হওয়া, গুমের হুমকি পাওয়া কিংবা গুম হয়ে ফিরে আসা—সব ধরনের ঘটনার সুনির্দিষ্ট ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার এই একটি আদালতেই নিশ্চিত করা যায়।

র‌্যাবের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এবং র‍্যাব মহাপরিচালক (অতিরিক্ত আইজিপি) মো. আহসান হাবীব পলাশসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত