আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীর পশুর হাট ঘিরে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তায় কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
রাস্তা দখল, যানজট, অবৈধ হাট এবং পশুবাহী ট্রাকে জোরপূর্বক টানাটানি রোধে এবার ডিএমপি সদর দপ্তরের সমন্বয় সভায় একগুচ্ছ কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে সরাসরি মামলার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
এবার হাট ব্যবস্থাপনায় ৫টি বিষয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে: ১. অবৈধ হাট নিয়ন্ত্রণ: নির্ধারিত সীমানার বাইরে হাট বসালে ‘জিরো টলারেন্স’। ২. পশুবাহী গাড়ির নির্বিঘ্ন চলাচল: কোনো পশুবাহী গাড়িকে বিনা কারণে পথে আটকানো যাবে না। ৩. চাঁদাবাজি ও ছিনতাই প্রতিরোধ: এক হাটের পশু জোরপূর্বক অন্য হাটে নিলে ‘ছিনতাই মামলা’ হবে। ৪. প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি: বড় হাটগুলোতে ওয়াচ টাওয়ার, সিসিটিভি ক্যামেরা ও জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিন থাকবে। ৫. ভোগান্তি হ্রাস: ঈদের এই সময়ে সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি না করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
পশু ও খামারিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্রাফিক ও হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে, ব্যাপারীদের পশুবাহী গাড়িতে অবশ্যই ব্যানার এবং গন্তব্যের হাটের নাম স্পষ্ট অক্ষরে লিখে রাখতে হবে।
ব্যাপারীরা তাদের পশুবাহী ট্রাক যেখানে খুশি নিয়ে যেতে পারবেন, কেউ বাধা দিতে পারবে না। কোনো প্রতিবন্ধকতার শিকার হলে তাৎক্ষণিকভাবে ডিএমপির কন্ট্রোল রুম বা হাইওয়ে পুলিশের নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
গাবতলী, যাত্রাবাড়ী, আব্দুল্লাহপুরসহ প্রধান প্রবেশপথগুলোর মূল সড়কে বা ফ্লাইওভারে পশুবাহী ট্রাক দাঁড় করিয়ে পশু নামানো যাবে না। সরাসরি হাটের চৌহদ্দিতে নিয়ে পশু নামাতে হবে।
ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) এবং অপরাধ শাখার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঈদ ঘিরে সক্রিয় হওয়া অপরাধী চক্রগুলোর তালিকা ধরে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।
"এবার ছিনতাইকারী চক্র, অজ্ঞানপার্টি, মলমপার্টি, জাল টাকা চক্র ও পশু ছিনিয়ে নেওয়া সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া মাত্রই সরাসরি অ্যাকশন নেওয়া হবে। শুধু রাতে নয়, দিনেও সার্বক্ষণিক সড়ক ও হাটে টহল পুলিশ সতর্ক থাকবে।"— মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম, যুগ্ম কমিশনার (ডিবি-দক্ষিণ)
ডিএমপি কমিশনার (অতিরিক্ত আইজিপি) মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমন্বয় সভায় দুই সিটি কর্পোরেশন, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, বাংলাদেশ ব্যাংক, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস, জেলা প্রশাসন এবং ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সিটি কর্পোরেশনের অনুমোদিত হাট ছাড়া অন্য কোথাও বাজার বসলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটরা পুলিশের সহায়তায় তাৎক্ষণিক উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করবেন বলে নিশ্চিত করেছেন উত্তর সিটি কর্পোরেশনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী। এছাড়া পশুর চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিপণনের ক্ষেত্রেও বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীর পশুর হাট ঘিরে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তায় কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
রাস্তা দখল, যানজট, অবৈধ হাট এবং পশুবাহী ট্রাকে জোরপূর্বক টানাটানি রোধে এবার ডিএমপি সদর দপ্তরের সমন্বয় সভায় একগুচ্ছ কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে সরাসরি মামলার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
এবার হাট ব্যবস্থাপনায় ৫টি বিষয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে: ১. অবৈধ হাট নিয়ন্ত্রণ: নির্ধারিত সীমানার বাইরে হাট বসালে ‘জিরো টলারেন্স’। ২. পশুবাহী গাড়ির নির্বিঘ্ন চলাচল: কোনো পশুবাহী গাড়িকে বিনা কারণে পথে আটকানো যাবে না। ৩. চাঁদাবাজি ও ছিনতাই প্রতিরোধ: এক হাটের পশু জোরপূর্বক অন্য হাটে নিলে ‘ছিনতাই মামলা’ হবে। ৪. প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি: বড় হাটগুলোতে ওয়াচ টাওয়ার, সিসিটিভি ক্যামেরা ও জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিন থাকবে। ৫. ভোগান্তি হ্রাস: ঈদের এই সময়ে সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি না করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
পশু ও খামারিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্রাফিক ও হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে, ব্যাপারীদের পশুবাহী গাড়িতে অবশ্যই ব্যানার এবং গন্তব্যের হাটের নাম স্পষ্ট অক্ষরে লিখে রাখতে হবে।
ব্যাপারীরা তাদের পশুবাহী ট্রাক যেখানে খুশি নিয়ে যেতে পারবেন, কেউ বাধা দিতে পারবে না। কোনো প্রতিবন্ধকতার শিকার হলে তাৎক্ষণিকভাবে ডিএমপির কন্ট্রোল রুম বা হাইওয়ে পুলিশের নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
গাবতলী, যাত্রাবাড়ী, আব্দুল্লাহপুরসহ প্রধান প্রবেশপথগুলোর মূল সড়কে বা ফ্লাইওভারে পশুবাহী ট্রাক দাঁড় করিয়ে পশু নামানো যাবে না। সরাসরি হাটের চৌহদ্দিতে নিয়ে পশু নামাতে হবে।
ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) এবং অপরাধ শাখার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঈদ ঘিরে সক্রিয় হওয়া অপরাধী চক্রগুলোর তালিকা ধরে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।
"এবার ছিনতাইকারী চক্র, অজ্ঞানপার্টি, মলমপার্টি, জাল টাকা চক্র ও পশু ছিনিয়ে নেওয়া সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া মাত্রই সরাসরি অ্যাকশন নেওয়া হবে। শুধু রাতে নয়, দিনেও সার্বক্ষণিক সড়ক ও হাটে টহল পুলিশ সতর্ক থাকবে।"— মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম, যুগ্ম কমিশনার (ডিবি-দক্ষিণ)
ডিএমপি কমিশনার (অতিরিক্ত আইজিপি) মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমন্বয় সভায় দুই সিটি কর্পোরেশন, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, বাংলাদেশ ব্যাংক, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস, জেলা প্রশাসন এবং ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সিটি কর্পোরেশনের অনুমোদিত হাট ছাড়া অন্য কোথাও বাজার বসলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটরা পুলিশের সহায়তায় তাৎক্ষণিক উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করবেন বলে নিশ্চিত করেছেন উত্তর সিটি কর্পোরেশনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী। এছাড়া পশুর চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিপণনের ক্ষেত্রেও বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন