নজর বিডি
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

কোরবানির হাট ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বাপার ১০ দফা দাবি

কোরবানির হাট ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বাপার ১০ দফা দাবি

যত্রতত্র কোরবানির পশুর হাট বসানো বন্ধ এবং কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণের দাবিতে নাগরিক সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)। 

বুধবার (২০ মে) সকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর ভবনের সামনে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে বাপার একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে।

সমাবেশে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিবছর কোরবানির সময় রাজধানীতে অপরিকল্পিত পশুর হাট, বর্জ্য অপসারণে ধীরগতি এবং ড্রেন-খালে বর্জ্য ফেলার কারণে মারাত্মক পরিবেশ দূষণ ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। দ্রুত বর্জ্য অপসারণের সরকারি ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায় না।

বাপার সহসভাপতি মহিদুল হক খান তার সভাপতির বক্তব্যে বলেন, "বর্তমান সিটি করপোরেশনগুলোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়। নাগরিক চাহিদা অনুযায়ী আধুনিক ও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে না পারলে জনসেবা ব্যাহত হবে।"

সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ আমিনুর রসুল আশা প্রকাশ করে বলেন, সিটি করপোরেশনগুলো যেন এবার আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো সেবা নিশ্চিত করে এবং বর্জ্য যেন কোনোভাবেই জনদুর্ভোগের কারণ না হয়। এছাড়া রাস্তা বা ড্রেনের পাশে কোরবানি বন্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে জীবাণুনাশক, বস্তা, পলিথিন ও ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ নিশ্চিত করার তাগিদ দেন বক্তারা।

পরিবেশ রক্ষা ও জনদুর্ভোগ লাঘবে সমাবেশ থেকে ১০টি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করা হয়:

১. নির্ধারিত স্থানের বাইরে পশুর হাট বসানো সম্পূর্ণ বন্ধ করা।

২. প্রতিদিনের হাটের বর্জ্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দ্রুত অপসারণ করা।

৩. যত্রতত্র কোরবানি না দিয়ে এলাকাভিত্তিক নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করা।

৪. প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় আধুনিক ও স্থায়ী পশু জবাইকেন্দ্র স্থাপন করা।

৫. ড্রেন, খাল কিংবা উন্মুক্ত রাস্তায় বর্জ্য ফেলা কঠোরভাবে বন্ধ করা।

৬. বর্জ্য সংক্রান্ত অভিযোগ ও যোগাযোগের জন্য সার্বক্ষণিক 'হটলাইন' চালু করা।

৭. মাঠপর্যায়ে সিটি করপোরেশনের তদারকি ও মনিটরিং জোরদার করা।

৮. সরকার নির্ধারিত মূল্যে চামড়া বিক্রি নিশ্চিত করা।

৯. পর্যাপ্ত পরিমাণে ব্লিচিং পাউডার ও জীবাণুনাশক সরবরাহ করা।

১০. পরিবেশ সচেতনতা তৈরিতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো।

বাপার সাংগঠনিক সম্পাদক মিহির বিশ্বাসের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন— বাপার যুগ্ম সম্পাদক হুমায়ুন কবির সুমন ও জাভেদ জাহান, অধ্যাপক ড. আহমেদ কামরুজ্জমান মজুমদার, বাপার নির্বাহী কমিটির সদস্য আশরাফ আমিরুল্লাহ, জাতীয় কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দীন, জীবন সদস্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এবং ঢাকা যুব ফাউন্ডেশনের মুখপাত্র মো. ইমরান হোসেন প্রমুখ।

বিষয় : নজরবিডি সংবাদ বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন, বাপা, কোরবানির বর্জ্য, পশুর হাট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, পরিবেশ দূষণ, স্মারকলিপি BAPA, Qurbani Waste Management, Cattle Market, Dhaka South City Corporation, Environmental Pollution, Memorandum, Dhaka

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


কোরবানির হাট ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বাপার ১০ দফা দাবি

প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬

featured Image

যত্রতত্র কোরবানির পশুর হাট বসানো বন্ধ এবং কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণের দাবিতে নাগরিক সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)। 

বুধবার (২০ মে) সকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর ভবনের সামনে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে বাপার একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে।

সমাবেশে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিবছর কোরবানির সময় রাজধানীতে অপরিকল্পিত পশুর হাট, বর্জ্য অপসারণে ধীরগতি এবং ড্রেন-খালে বর্জ্য ফেলার কারণে মারাত্মক পরিবেশ দূষণ ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। দ্রুত বর্জ্য অপসারণের সরকারি ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায় না।

বাপার সহসভাপতি মহিদুল হক খান তার সভাপতির বক্তব্যে বলেন, "বর্তমান সিটি করপোরেশনগুলোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়। নাগরিক চাহিদা অনুযায়ী আধুনিক ও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে না পারলে জনসেবা ব্যাহত হবে।"

সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ আমিনুর রসুল আশা প্রকাশ করে বলেন, সিটি করপোরেশনগুলো যেন এবার আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো সেবা নিশ্চিত করে এবং বর্জ্য যেন কোনোভাবেই জনদুর্ভোগের কারণ না হয়। এছাড়া রাস্তা বা ড্রেনের পাশে কোরবানি বন্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে জীবাণুনাশক, বস্তা, পলিথিন ও ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ নিশ্চিত করার তাগিদ দেন বক্তারা।

পরিবেশ রক্ষা ও জনদুর্ভোগ লাঘবে সমাবেশ থেকে ১০টি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করা হয়:

১. নির্ধারিত স্থানের বাইরে পশুর হাট বসানো সম্পূর্ণ বন্ধ করা।

২. প্রতিদিনের হাটের বর্জ্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দ্রুত অপসারণ করা।

৩. যত্রতত্র কোরবানি না দিয়ে এলাকাভিত্তিক নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করা।

৪. প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় আধুনিক ও স্থায়ী পশু জবাইকেন্দ্র স্থাপন করা।

৫. ড্রেন, খাল কিংবা উন্মুক্ত রাস্তায় বর্জ্য ফেলা কঠোরভাবে বন্ধ করা।

৬. বর্জ্য সংক্রান্ত অভিযোগ ও যোগাযোগের জন্য সার্বক্ষণিক 'হটলাইন' চালু করা।

৭. মাঠপর্যায়ে সিটি করপোরেশনের তদারকি ও মনিটরিং জোরদার করা।

৮. সরকার নির্ধারিত মূল্যে চামড়া বিক্রি নিশ্চিত করা।

৯. পর্যাপ্ত পরিমাণে ব্লিচিং পাউডার ও জীবাণুনাশক সরবরাহ করা।

১০. পরিবেশ সচেতনতা তৈরিতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো।

বাপার সাংগঠনিক সম্পাদক মিহির বিশ্বাসের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন— বাপার যুগ্ম সম্পাদক হুমায়ুন কবির সুমন ও জাভেদ জাহান, অধ্যাপক ড. আহমেদ কামরুজ্জমান মজুমদার, বাপার নির্বাহী কমিটির সদস্য আশরাফ আমিরুল্লাহ, জাতীয় কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দীন, জীবন সদস্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এবং ঢাকা যুব ফাউন্ডেশনের মুখপাত্র মো. ইমরান হোসেন প্রমুখ।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত