রাজধানীর মিরপুরে চাঞ্চল্যকর শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল ও তার সহযোগী স্ত্রীকে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং মূল আসামি ইতোমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
সম্ভাব্য সংক্ষিপ্ততম সময়ের মধ্যে এ মামলার সুষ্ঠু তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সমসাময়িক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিষয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশে সংঘটিত প্রতিটি জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অপরাধ দমনে পুলিশ ‘প্রো-অ্যাক্টিভ’ (প্রতিরোধমূলক) ও ‘রি-অ্যাক্টিভ’ (প্রতিকারমূলক) উভয় পদ্ধতিতে কাজ করছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দীর্ঘ দিন ধরে বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে থাকা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলা বর্তমান সরকার নতুন করে তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে।
কুমিল্লায় ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী তনু হত্যা মামলার একজন আসামিকে গ্রেফতার করে ডিএনএ ম্যাচিংয়ের প্রক্রিয়া চলমান এবং আরও একজন আসামিকে শনাক্ত করা গেছে।
কুমিল্লায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, বগুড়ায় তরুণী ধর্ষণ, কাপাসিয়ায় পাঁচ খুন এবং ঢাকার মান্ডায় প্রবাসী হত্যাকাণ্ডের মতো প্রতিটি ঘটনায় জড়িত সকল আসামিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এছাড়াও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) চলমান বিশেষ চিরুনি অভিযানের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, মোহাম্মদপুর, শেরেবাংলা নগর ও আদাবর এলাকায় ব্লক রেইড চলছে। পাশাপাশি গত ১৮ ও ১৯ মে যাত্রাবাড়ী ও তেজগাঁও এলাকা থেকে ১০৪ জন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ও ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আইন সংস্কার ও বিশেষ আদালত গঠন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "আইন সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং সময়ের চাহিদা অনুযায়ী সকল আইনকে যুগোপযোগী করা হবে।" তবে কোনো সাময়িক ক্ষোভ মেটাতে গিয়ে আবেগতাড়িত হয়ে চটজলদি আইন প্রণয়ন বা বিশেষ আদালত গঠন করা সমীচীন নয়। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে গিয়ে যেন কোনো 'অবিচার' না হয়। নতুন আদালত সৃষ্টির চেয়ে বিদ্যমান নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের সংখ্যা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা বেশি যৌক্তিক।
ভারতে ‘সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট’ (সিএএ) কার্যকর এবং পুশব্যাকের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন—
"এটি সম্পূর্ণভাবে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। ভারতের 'সিএএ' বা আসামের 'এনআরসি' তাদের নাগরিকদের জন্য নিজস্ব আইন-কানুন। সেখানে আমাদের কোনো বক্তব্য থাকার অবকাশ নেই। তবে বাংলাদেশের সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে যেন কোনো প্রকার অবৈধ অনুপ্রবেশ (Push-in) না ঘটে।"
বিগত সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফিরে আসার গুঞ্জন সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, "আমরা তাকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই দেশে ফেরত চাই। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এবং বিদ্যমান এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুযায়ী তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করা হয়েছে, যেন তিনি বাংলাদেশে মামলার মুখোমুখি হন।"
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, রামিসা হত্যা মামলা, তনু হত্যা মামলা, সিএএ ভারত, ডিএমপি ব্লক রেইড, অপরাধ ও বিচার, বাংলাদেশ সচিবালয়, আইন সংস্কার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ঢাকা সংবাদ Home Minister Salahuddin Ahmed, Ramisa Murder Case, Tonu Murder Case, CAA India, DMP Block Raid, Law and Order Bangladesh, Border Security BGB, Bangladesh Secretariat, Dhaka News

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬
রাজধানীর মিরপুরে চাঞ্চল্যকর শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল ও তার সহযোগী স্ত্রীকে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং মূল আসামি ইতোমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
সম্ভাব্য সংক্ষিপ্ততম সময়ের মধ্যে এ মামলার সুষ্ঠু তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সমসাময়িক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিষয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশে সংঘটিত প্রতিটি জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অপরাধ দমনে পুলিশ ‘প্রো-অ্যাক্টিভ’ (প্রতিরোধমূলক) ও ‘রি-অ্যাক্টিভ’ (প্রতিকারমূলক) উভয় পদ্ধতিতে কাজ করছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দীর্ঘ দিন ধরে বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে থাকা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলা বর্তমান সরকার নতুন করে তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে।
কুমিল্লায় ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী তনু হত্যা মামলার একজন আসামিকে গ্রেফতার করে ডিএনএ ম্যাচিংয়ের প্রক্রিয়া চলমান এবং আরও একজন আসামিকে শনাক্ত করা গেছে।
কুমিল্লায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, বগুড়ায় তরুণী ধর্ষণ, কাপাসিয়ায় পাঁচ খুন এবং ঢাকার মান্ডায় প্রবাসী হত্যাকাণ্ডের মতো প্রতিটি ঘটনায় জড়িত সকল আসামিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এছাড়াও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) চলমান বিশেষ চিরুনি অভিযানের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, মোহাম্মদপুর, শেরেবাংলা নগর ও আদাবর এলাকায় ব্লক রেইড চলছে। পাশাপাশি গত ১৮ ও ১৯ মে যাত্রাবাড়ী ও তেজগাঁও এলাকা থেকে ১০৪ জন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ও ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আইন সংস্কার ও বিশেষ আদালত গঠন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "আইন সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং সময়ের চাহিদা অনুযায়ী সকল আইনকে যুগোপযোগী করা হবে।" তবে কোনো সাময়িক ক্ষোভ মেটাতে গিয়ে আবেগতাড়িত হয়ে চটজলদি আইন প্রণয়ন বা বিশেষ আদালত গঠন করা সমীচীন নয়। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে গিয়ে যেন কোনো 'অবিচার' না হয়। নতুন আদালত সৃষ্টির চেয়ে বিদ্যমান নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের সংখ্যা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা বেশি যৌক্তিক।
ভারতে ‘সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট’ (সিএএ) কার্যকর এবং পুশব্যাকের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন—
"এটি সম্পূর্ণভাবে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। ভারতের 'সিএএ' বা আসামের 'এনআরসি' তাদের নাগরিকদের জন্য নিজস্ব আইন-কানুন। সেখানে আমাদের কোনো বক্তব্য থাকার অবকাশ নেই। তবে বাংলাদেশের সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে যেন কোনো প্রকার অবৈধ অনুপ্রবেশ (Push-in) না ঘটে।"
বিগত সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফিরে আসার গুঞ্জন সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, "আমরা তাকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই দেশে ফেরত চাই। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এবং বিদ্যমান এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুযায়ী তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করা হয়েছে, যেন তিনি বাংলাদেশে মামলার মুখোমুখি হন।"

আপনার মতামত লিখুন