রাজধানীতে টানা বৃষ্টিতে জমেছে পানি, সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে কোরবানির পশুর হাটগুলোতে। বিশেষ করে রাজধানীর শনির আখড়া পশুর হাটে পানি ও কাদা জমে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা।
শুধু মানুষই নয়, তীব্র ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে হাটে আনা পশুগুলোকেও। দীর্ঘ সময় পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে তাদের, কোথাও কোথাও আবার কাদার মধ্যেই শুয়ে থাকতে দেখা গেছে কোরবানির গরুগুলোকে।
আজ সোমবার (২৫ মে) বিকেলে শনির আখড়া পশুর হাট সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বৃষ্টির কারণে হাটের ভেতরের বেশির ভাগ অংশ কর্দমাক্ত হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও পানি জমে ছোটখাটো ডোবায় পরিণত হয়েছে। বিক্রেতারা নিজেদের উদ্যোগে খড় ও বালু ফেলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন, তবে তাতেও পুরোপুরি স্বস্তি মিলছে না।
জামালপুর থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী হাসেম জানান, তিনি ১৫টি গরু নিয়ে এই হাটে এসেছিলেন। এর মধ্যে সাতটি বিক্রি হলেও এখনও আটটি গরু অবিক্রীত রয়েছে। হাটের দুরাবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন,
"বৃষ্টির কারণে হাটের অবস্থা খুব খারাপ হয়ে গেছে। গরুগুলোকে পানির মধ্যে দাঁড় করিয়ে রাখতে হচ্ছে। এতে গরুগুলোও কষ্ট পাচ্ছে, আমরাও চরম সমস্যায় আছি।"
একই চিত্র দেখা গেল ফরিদপুর থেকে আসা ব্যবসায়ী সিদ্দিক মৃধার ক্ষেত্রেও। তিনি ও তাঁর ভাই মিলে ১২টি গরু নিয়ে এসেছেন, যার মধ্যে নিজেদের খামারে লালন-পালন করা কয়েকটি গরুও রয়েছে। কিন্তু হাটে আসার দুই দিন পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত একটি গরুও বিক্রি করতে পারেননি। সিদ্দিক বলেন, "বাজার এখনও জমেনি। বৃষ্টির কারণে মানুষ কম আসছে। তবে শেষ সময়ে বিক্রি বাড়বে বলে আশা করছি।"
হাটে আসা ক্রেতা আবদুল হামিদ তাঁর ভোগান্তির কথা জানিয়ে বলেন, "বৃষ্টির কারণে হাটে পানি আর কাদা থিকথিক করছে। ঠিকমতো হাঁটাচলা করা যাচ্ছে না, গরু দেখব কীভাবে? পা ফেলার জায়গা নেই।"
ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, বৃষ্টি যদি এভাবে টানা চলতে থাকে তবে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাবে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক দিনের টানা ভ্যাপসা গরমের পর রোববার বিকেলে রাজধানীতে স্বস্তির বৃষ্টি নামে। তবে আজ সোমবারও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় মুষলধারে বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, আজ দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে কেবল রাজধানীতেই ৪৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ শনির আখড়া পশুর হাট, কোরবানি হাট ২০২৬, ঢাকা পশুর হাট, জলাবদ্ধতা, ঢাকা পোস্ট, কোরবানির গরু, পশুর হাট ভোগান্তি, ঢাকা আবহাওয়া, মুষলধারে বৃষ্টি Shonir Akhra Gorur Hat, Qurbani Cow Market 2026, Dhaka Cattle Market, Waterlogging in Dhaka, Dhaka Post, Eid-ul-Adha 2026, Cattle Market Sufferings, Dhaka Weather, Heavy Rainfall Dhaka

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬
রাজধানীতে টানা বৃষ্টিতে জমেছে পানি, সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে কোরবানির পশুর হাটগুলোতে। বিশেষ করে রাজধানীর শনির আখড়া পশুর হাটে পানি ও কাদা জমে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা।
শুধু মানুষই নয়, তীব্র ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে হাটে আনা পশুগুলোকেও। দীর্ঘ সময় পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে তাদের, কোথাও কোথাও আবার কাদার মধ্যেই শুয়ে থাকতে দেখা গেছে কোরবানির গরুগুলোকে।
আজ সোমবার (২৫ মে) বিকেলে শনির আখড়া পশুর হাট সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বৃষ্টির কারণে হাটের ভেতরের বেশির ভাগ অংশ কর্দমাক্ত হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও পানি জমে ছোটখাটো ডোবায় পরিণত হয়েছে। বিক্রেতারা নিজেদের উদ্যোগে খড় ও বালু ফেলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন, তবে তাতেও পুরোপুরি স্বস্তি মিলছে না।
জামালপুর থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী হাসেম জানান, তিনি ১৫টি গরু নিয়ে এই হাটে এসেছিলেন। এর মধ্যে সাতটি বিক্রি হলেও এখনও আটটি গরু অবিক্রীত রয়েছে। হাটের দুরাবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন,
"বৃষ্টির কারণে হাটের অবস্থা খুব খারাপ হয়ে গেছে। গরুগুলোকে পানির মধ্যে দাঁড় করিয়ে রাখতে হচ্ছে। এতে গরুগুলোও কষ্ট পাচ্ছে, আমরাও চরম সমস্যায় আছি।"
একই চিত্র দেখা গেল ফরিদপুর থেকে আসা ব্যবসায়ী সিদ্দিক মৃধার ক্ষেত্রেও। তিনি ও তাঁর ভাই মিলে ১২টি গরু নিয়ে এসেছেন, যার মধ্যে নিজেদের খামারে লালন-পালন করা কয়েকটি গরুও রয়েছে। কিন্তু হাটে আসার দুই দিন পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত একটি গরুও বিক্রি করতে পারেননি। সিদ্দিক বলেন, "বাজার এখনও জমেনি। বৃষ্টির কারণে মানুষ কম আসছে। তবে শেষ সময়ে বিক্রি বাড়বে বলে আশা করছি।"
হাটে আসা ক্রেতা আবদুল হামিদ তাঁর ভোগান্তির কথা জানিয়ে বলেন, "বৃষ্টির কারণে হাটে পানি আর কাদা থিকথিক করছে। ঠিকমতো হাঁটাচলা করা যাচ্ছে না, গরু দেখব কীভাবে? পা ফেলার জায়গা নেই।"
ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, বৃষ্টি যদি এভাবে টানা চলতে থাকে তবে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাবে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক দিনের টানা ভ্যাপসা গরমের পর রোববার বিকেলে রাজধানীতে স্বস্তির বৃষ্টি নামে। তবে আজ সোমবারও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় মুষলধারে বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, আজ দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে কেবল রাজধানীতেই ৪৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন