ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীর গুলিস্তানে সারি সারি সাজানো রয়েছে নতুন টাকার চকচকে বান্ডিল। তবে বিক্রেতাদের হাঁকডাক থাকলেও বাজারে দেখা নেই প্রত্যাশিত ক্রেতার। মাঝে মধ্যে দুই-একজন ক্রেতা এলেও নতুন নোটের বান্ডিলের অতিরিক্ত মূল্যের কারণে আগ্রহ হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ফলে বেচাকেনা নিয়ে চরম হতাশায় দিন কাটছে মৌসুমী ব্যবসায়ীদের।
আজ সোমবার (২৫ মে) রাজধানীর গুলিস্তানের সুন্দরবন স্কয়ার মার্কেটের সামনে নতুন টাকা বিক্রির অস্থায়ী দোকানগুলো ঘুরে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সুন্দরবন স্কয়ার মার্কেটের ফুটপাত জুড়ে বসেছে নতুন টাকা বিক্রির দোকান। কোনো ক্রেতা ওই পথ দিয়ে গেলেই একসঙ্গে হাঁকডাক শুরু করছেন বিক্রেতারা। তবে বাজারে আসা ক্রেতাদের মূল অভিযোগ—নোটের বান্ডিল প্রতি অতিরিক্ত টাকা দাবি করছেন দোকানিরা।
বাজার দর ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি ৫ টাকার বান্ডিলে (১০০টি নোট) রয়েছে ৫০০ টাকা। এই এক বান্ডিল নতুন টাকা নিতে ক্রেতাকে অতিরিক্ত ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। এছাড়া ১০ টাকার বান্ডিল (১ হাজার টাকা) বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ টাকায়। ২০ টাকার বান্ডিলে (২ হাজার টাকা) অতিরিক্ত গুনতে হচ্ছে ৪০০ টাকা। ৫০ টাকার বান্ডিল (৫ হাজার টাকা) বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৩০০ টাকায় এবং ১০০ টাকার নোটের ১টি বান্ডিল নিতেও অতিরিক্ত ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বাড়তি দিতে হচ্ছে।
চরম মন্দা বাজারের কথা জানিয়ে নতুন নোট বিক্রেতা রজব আলী বলেন,
"অন্যান্য বছর এই সময়ে ভালো বিক্রি হতো। কিন্তু এবার হাটে ক্রেতাই নেই। দুই-একজন এলেও দাম শুনে চলে যাচ্ছে। বেচা-বিক্রি একদম নেই বললেই চলে। সামনে বিক্রি বাড়ার খুব একটা সম্ভাবনাও দেখছি না।"
লোকমান হোসেন নামের আরেক বিক্রেতা তাঁর অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে বলেন, "সবাই দাম জিজ্ঞেস করে চলে যায়, বিক্রি হয় না। আমরা তো এগুলো বেশি দামে কিনে আনি, তাই বিক্রিও করতে হয় একটু বেশি দামে। আমাদের কিছু করার নেই। এই ব্যবসা করেই তো আমাদের সংসার চালাতে হয়, বউ-বাচ্চার মুখে খাবার দিতে হয়।"
এদিকে নতুন টাকার অতিরিক্ত দাম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। বাড়ি ফেরার আগে বাচ্চাদের জন্য নতুন নোট কিনতে আসা জুবায়ের আহমেদ বলেন, "বাড়িতে ছোট বাচ্চাদের ঈদ সেলামি দেওয়ার জন্য নতুন নোট কিনতে এসেছিলাম। কিন্তু দাম শুনে তো তাজ্জব বনে গেলাম! ১ হাজার টাকার বান্ডিল নিলে কীভাবে অতিরিক্ত ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা নেয়, আমার মাথায় আসে না। এটা সম্পূর্ণ অন্যায্য।"
সুমন নামের আরেক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "নতুন নোটের যে দাম চাচ্ছে, তাতে আর কেনা হবে না। এরা রীতিমতো গলাকাটা দাম নিচ্ছে।"
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ নতুন টাকা বিক্রি, গুলিস্তান সুন্দরবন স্কয়ার, ঈদের নতুন নোট, গুলিস্তানের টাকার বাজার, নতুন টাকার দাম, ঈদুল আজহা ২০২৬, ঈদ সেলামি, ঢাকা খবর New Currency Notes, Gulistan Money Market, Eid New Banknotes, Sundarban Square Market, New Note Price, Eid-ul-Adha 2026, Eid Selami, Dhaka News

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীর গুলিস্তানে সারি সারি সাজানো রয়েছে নতুন টাকার চকচকে বান্ডিল। তবে বিক্রেতাদের হাঁকডাক থাকলেও বাজারে দেখা নেই প্রত্যাশিত ক্রেতার। মাঝে মধ্যে দুই-একজন ক্রেতা এলেও নতুন নোটের বান্ডিলের অতিরিক্ত মূল্যের কারণে আগ্রহ হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ফলে বেচাকেনা নিয়ে চরম হতাশায় দিন কাটছে মৌসুমী ব্যবসায়ীদের।
আজ সোমবার (২৫ মে) রাজধানীর গুলিস্তানের সুন্দরবন স্কয়ার মার্কেটের সামনে নতুন টাকা বিক্রির অস্থায়ী দোকানগুলো ঘুরে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সুন্দরবন স্কয়ার মার্কেটের ফুটপাত জুড়ে বসেছে নতুন টাকা বিক্রির দোকান। কোনো ক্রেতা ওই পথ দিয়ে গেলেই একসঙ্গে হাঁকডাক শুরু করছেন বিক্রেতারা। তবে বাজারে আসা ক্রেতাদের মূল অভিযোগ—নোটের বান্ডিল প্রতি অতিরিক্ত টাকা দাবি করছেন দোকানিরা।
বাজার দর ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি ৫ টাকার বান্ডিলে (১০০টি নোট) রয়েছে ৫০০ টাকা। এই এক বান্ডিল নতুন টাকা নিতে ক্রেতাকে অতিরিক্ত ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। এছাড়া ১০ টাকার বান্ডিল (১ হাজার টাকা) বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ টাকায়। ২০ টাকার বান্ডিলে (২ হাজার টাকা) অতিরিক্ত গুনতে হচ্ছে ৪০০ টাকা। ৫০ টাকার বান্ডিল (৫ হাজার টাকা) বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৩০০ টাকায় এবং ১০০ টাকার নোটের ১টি বান্ডিল নিতেও অতিরিক্ত ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বাড়তি দিতে হচ্ছে।
চরম মন্দা বাজারের কথা জানিয়ে নতুন নোট বিক্রেতা রজব আলী বলেন,
"অন্যান্য বছর এই সময়ে ভালো বিক্রি হতো। কিন্তু এবার হাটে ক্রেতাই নেই। দুই-একজন এলেও দাম শুনে চলে যাচ্ছে। বেচা-বিক্রি একদম নেই বললেই চলে। সামনে বিক্রি বাড়ার খুব একটা সম্ভাবনাও দেখছি না।"
লোকমান হোসেন নামের আরেক বিক্রেতা তাঁর অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে বলেন, "সবাই দাম জিজ্ঞেস করে চলে যায়, বিক্রি হয় না। আমরা তো এগুলো বেশি দামে কিনে আনি, তাই বিক্রিও করতে হয় একটু বেশি দামে। আমাদের কিছু করার নেই। এই ব্যবসা করেই তো আমাদের সংসার চালাতে হয়, বউ-বাচ্চার মুখে খাবার দিতে হয়।"
এদিকে নতুন টাকার অতিরিক্ত দাম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। বাড়ি ফেরার আগে বাচ্চাদের জন্য নতুন নোট কিনতে আসা জুবায়ের আহমেদ বলেন, "বাড়িতে ছোট বাচ্চাদের ঈদ সেলামি দেওয়ার জন্য নতুন নোট কিনতে এসেছিলাম। কিন্তু দাম শুনে তো তাজ্জব বনে গেলাম! ১ হাজার টাকার বান্ডিল নিলে কীভাবে অতিরিক্ত ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা নেয়, আমার মাথায় আসে না। এটা সম্পূর্ণ অন্যায্য।"
সুমন নামের আরেক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "নতুন নোটের যে দাম চাচ্ছে, তাতে আর কেনা হবে না। এরা রীতিমতো গলাকাটা দাম নিচ্ছে।"

আপনার মতামত লিখুন