এ জেলার প্রায় ৪০ শতাংশ পোশাক কারখানা প্রথম ধাপে আজ ছুটি হওয়ায় দিনভর উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় ঘরমুখী মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এর ফলে চন্দ্রা বাস স্টেশনে তীব্র যানবাহনের চাপ সৃষ্টি হয়।
তবে রাতে যাত্রীদের চাপ কিছুটা কমলেও চন্দ্রা ত্রিমোড়কে কেন্দ্র করে গাজীপুর ও নবীনগরগামী সড়কের প্রায় ১০ কিলোমিটার জুড়ে এখনো তীব্র যানজট রয়েছে।
আজ সোমবার (২৫ মে ২০২৬) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, গাজীপুরের চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় তীব্র গণপরিবহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে মূল সড়কের ওপর এলোমেলোভাবে গাড়ি থামিয়ে দূরপাল্লার যাত্রীর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন পরিবহণ চালকরা। এতে সড়কে স্বাভাবিক যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়ে তা ধীরে ধীরে দীর্ঘ যানজটে রূপ নিয়েছে।
যদিও দিনের তুলনায় রাতে যাত্রীর উপস্থিতি কিছুটা কমেছে, তবুও উত্তরবঙ্গগামী সড়কে বেপরোয়া ও নিয়মবহির্ভূতভাবে যানবাহন চালানোর কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মৌচাক দোকানপাড় এলাকা থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত এবং নবীনগর-চন্দ্রা সড়কের বাড়ইপাড়া থেকে চন্দ্রা বাস স্টেশন পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার অংশ জুড়ে তীব্র যানজট লেগে আছে।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, ঈদের ছুটিতে এই জেলা থেকে কয়েক লাখ মানুষ চন্দ্রা হয়ে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় প্রবেশ করবে। এই বিপুল সংখ্যক যাত্রী ও যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণেই মূলত এই এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়ে থাকে। তবে যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশ ও জেলা ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি (BGB) এবং স্বেচ্ছাসেবক কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
চন্দ্রার উড়াল সড়কে (ফ্লাইওভার) দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা হানিফ পরিবহণের বাস চালক রুবেল মিয়া বলেন, "আমরা সরাসরি ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে এসেছি। চন্দ্রা এলাকায় আমাদের দাঁড়ানোর বা যাত্রী তোলার কোনো প্রয়োজন নেই। কিন্তু মোড়ের কয়েক কিলোমিটার আগে থেকেই রাস্তা লক হয়ে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছি।"
নুরুল ইসলাম নামের এক মাইক্রোবাস চালক ট্রাফিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগ এনে বলেন, "চন্দ্রা মোড়টা কোনোমতে পার হতে পারলে সামনে আর কোনো যানজট নেই। আবার ঢাকা থেকে চন্দ্রার ১০ কিলোমিটার আগ পর্যন্তও রাস্তা একদম ক্লিয়ার। শুধু এই চন্দ্রা পার হতেই এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় লেগে যাচ্ছে। এখানে সরাসরি লাইনে কোনো শক্ত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা দেখা যাচ্ছে না; যে যার মতো সড়কের ওপর গাড়ি থামিয়ে যাত্রী তুলছে আর জ্যাম বাড়াচ্ছে।"
এ বিষয়ে নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাউগাতুল আলম জানান, "আমরা দুই শতাধিক পুলিশ সদস্যকে নিয়ে সড়কের যানজট নিরসনে মাঠে রয়েছি। আমাদের টিম নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সড়কের অবকাঠামোগত বা নকশাজনিত কোনো সমস্যা থাকলে সেটি আমাদের দেখার বিষয় না। তবে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আমরা আমাদের সাধ্যমতো সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।"
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ চন্দ্রা ত্রিমোড়, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক, গাজীপুর যানজট, ঈদযাত্রা ২০২৬, উত্তরবঙ্গগামী সড়ক, হাইওয়ে পুলিশ, পোশাক শ্রমিক ছুটি, ট্রাফিক জ্যাম, গাজীপুর সংবাদ, ঘরমুখী মানুষ Chandra Trimoti, Dhaka-Tangail Highway, Gazipur Traffic Jam, Eid Journey 2026, Highway Police, Garments Worker Leave, Traffic Update, Gazipur News, Homebound Passengers, Bangladesh Traffic

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬
এ জেলার প্রায় ৪০ শতাংশ পোশাক কারখানা প্রথম ধাপে আজ ছুটি হওয়ায় দিনভর উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় ঘরমুখী মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এর ফলে চন্দ্রা বাস স্টেশনে তীব্র যানবাহনের চাপ সৃষ্টি হয়।
তবে রাতে যাত্রীদের চাপ কিছুটা কমলেও চন্দ্রা ত্রিমোড়কে কেন্দ্র করে গাজীপুর ও নবীনগরগামী সড়কের প্রায় ১০ কিলোমিটার জুড়ে এখনো তীব্র যানজট রয়েছে।
আজ সোমবার (২৫ মে ২০২৬) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, গাজীপুরের চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় তীব্র গণপরিবহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে মূল সড়কের ওপর এলোমেলোভাবে গাড়ি থামিয়ে দূরপাল্লার যাত্রীর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন পরিবহণ চালকরা। এতে সড়কে স্বাভাবিক যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়ে তা ধীরে ধীরে দীর্ঘ যানজটে রূপ নিয়েছে।
যদিও দিনের তুলনায় রাতে যাত্রীর উপস্থিতি কিছুটা কমেছে, তবুও উত্তরবঙ্গগামী সড়কে বেপরোয়া ও নিয়মবহির্ভূতভাবে যানবাহন চালানোর কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মৌচাক দোকানপাড় এলাকা থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত এবং নবীনগর-চন্দ্রা সড়কের বাড়ইপাড়া থেকে চন্দ্রা বাস স্টেশন পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার অংশ জুড়ে তীব্র যানজট লেগে আছে।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, ঈদের ছুটিতে এই জেলা থেকে কয়েক লাখ মানুষ চন্দ্রা হয়ে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় প্রবেশ করবে। এই বিপুল সংখ্যক যাত্রী ও যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণেই মূলত এই এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়ে থাকে। তবে যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশ ও জেলা ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি (BGB) এবং স্বেচ্ছাসেবক কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
চন্দ্রার উড়াল সড়কে (ফ্লাইওভার) দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা হানিফ পরিবহণের বাস চালক রুবেল মিয়া বলেন, "আমরা সরাসরি ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে এসেছি। চন্দ্রা এলাকায় আমাদের দাঁড়ানোর বা যাত্রী তোলার কোনো প্রয়োজন নেই। কিন্তু মোড়ের কয়েক কিলোমিটার আগে থেকেই রাস্তা লক হয়ে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছি।"
নুরুল ইসলাম নামের এক মাইক্রোবাস চালক ট্রাফিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগ এনে বলেন, "চন্দ্রা মোড়টা কোনোমতে পার হতে পারলে সামনে আর কোনো যানজট নেই। আবার ঢাকা থেকে চন্দ্রার ১০ কিলোমিটার আগ পর্যন্তও রাস্তা একদম ক্লিয়ার। শুধু এই চন্দ্রা পার হতেই এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় লেগে যাচ্ছে। এখানে সরাসরি লাইনে কোনো শক্ত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা দেখা যাচ্ছে না; যে যার মতো সড়কের ওপর গাড়ি থামিয়ে যাত্রী তুলছে আর জ্যাম বাড়াচ্ছে।"
এ বিষয়ে নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাউগাতুল আলম জানান, "আমরা দুই শতাধিক পুলিশ সদস্যকে নিয়ে সড়কের যানজট নিরসনে মাঠে রয়েছি। আমাদের টিম নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সড়কের অবকাঠামোগত বা নকশাজনিত কোনো সমস্যা থাকলে সেটি আমাদের দেখার বিষয় না। তবে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আমরা আমাদের সাধ্যমতো সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।"

আপনার মতামত লিখুন