পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকার আব্দুল্লাহপুর ও আজমপুরের বাস কাউন্টারগুলোতে অভিনব কৌশলে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী যাত্রীরা জানান, টিকিটের গায়ে সরকার নির্ধারিত সঠিক মূল্য লিখে রাখা হলেও কৌশলে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে প্রতিটি কাউন্টার। উত্তরা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নিয়মিত ভাড়া ৮৫০ টাকা হলেও টিকিটের গায়ে তা লিখে যাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত। কোনো যাত্রী বাড়তি টাকার বিষয়ে প্রশ্ন তুললে কাউন্টার থেকে সরাসরি বলে দেওয়া হচ্ছে 'আসন খালি নেই'। ফলে বাধ্য হয়ে নিরুপায় যাত্রীরা মুখ বুজে বাড়তি ভাড়া দিয়েই টিকিট কাটছেন।
মঙ্গলবার (২৬ মে) রাতে রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর, আজমপুর ও এয়ারপোর্ট বাস টার্মিনাল ঘুরে ঈদযাত্রায় এমন অনিয়মের চিত্রই দেখা গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঈদযাত্রার তৃতীয় দিনেও ঘরমুখো মানুষের ভিড় চোখে পড়ার মতো। কাউন্টারের ভেতরে জায়গা না পেয়ে অনেক যাত্রীই মালপত্র নিয়ে বাইরে রাস্তায় ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করছেন। বাসের শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে দীর্ঘ অপেক্ষায় ক্ষোভ ও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন অনেকেই। কোনো গাড়ি কাউন্টারে আসার সাথে সাথেই যাত্রীদের তাড়াহুড়ো করে বাসে উঠতে দেখা গেছে।
রাজধানীর আজমপুর বাস কাউন্টারে গ্রামীণ পরিবহনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন ওবায়দুল মিঞাঁ নামে এক রাজমিস্ত্রি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "এবার ঈদযাত্রায় অভিনব কায়দায় বাস কাউন্টারের মালিকরা বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন। আমি দুইটা টিকিট নিয়েছি ২ হাজার টাকা দিয়ে। কিন্তু টিকিটের গায়ে লেখা ১ হাজার ৭০০ টাকা। জোর করেই ৩০০ টাকা বেশি রাখা হয়েছে। শুধু গ্রামীণ পরিবহনই নয়, একতা, চাঁপাই এক্সপ্রেস, ন্যাশনাল ট্রাভেলসসহ প্রায় প্রতিটি কাউন্টারেই এভাবে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।"
ন্যাশনাল ট্রাভেলসের আরেক যাত্রী জানান, "আপনি সাংবাদিক হিসেবে জিজ্ঞাসা করলে কোনো কাউন্টারই বেশি ভাড়ার কথা স্বীকার করবে না। তবে ভেতরে ভেতরে প্রতিটি বাস কাউন্টারেই বাড়তি টাকা নেওয়া হচ্ছে। তবে ভাড়া বেশি নিলেও ন্যাশনাল ট্রাভেলসের বাসের শিডিউল মোটামুটি ঠিক আছে।"
বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে ন্যাশনাল ট্রাভেলসের ম্যানেজার মুমিন হোসেন বলেন, "বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আপনি গাড়িতে অপেক্ষমাণ প্রতিটি যাত্রীকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারেন, আমরা যদি বাড়তি ভাড়া নিয়ে থাকি তবে তাদের টাকা ফেরত দেব।" একই সাথে তিনি দাবি করেন, এই রুটে অন্যান্য পরিবহনের শিডিউল বিপর্যয় ঘটলেও তাদের বাসের শিডিউল ঠিক রয়েছে।
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ ঈদযাত্রা ২০২৬, বাস ভাড়া, বাড়তি ভাড়া, আব্দুল্লাহপুর, আজমপুর, উত্তরা, বাস কাউন্টার, ঈদুল আজহা, যাত্রী ভোগান্তি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পরিবহন সেক্টর Eid Journey 2026, Bus Fare, Extra Fare, Abdullahpur, Azampur, Uttara, Bus Counter, Eid ul Adha, Passenger Harassment, Chapainawabganj, Transport Sector

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ মে ২০২৬
পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকার আব্দুল্লাহপুর ও আজমপুরের বাস কাউন্টারগুলোতে অভিনব কৌশলে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী যাত্রীরা জানান, টিকিটের গায়ে সরকার নির্ধারিত সঠিক মূল্য লিখে রাখা হলেও কৌশলে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে প্রতিটি কাউন্টার। উত্তরা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নিয়মিত ভাড়া ৮৫০ টাকা হলেও টিকিটের গায়ে তা লিখে যাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত। কোনো যাত্রী বাড়তি টাকার বিষয়ে প্রশ্ন তুললে কাউন্টার থেকে সরাসরি বলে দেওয়া হচ্ছে 'আসন খালি নেই'। ফলে বাধ্য হয়ে নিরুপায় যাত্রীরা মুখ বুজে বাড়তি ভাড়া দিয়েই টিকিট কাটছেন।
মঙ্গলবার (২৬ মে) রাতে রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর, আজমপুর ও এয়ারপোর্ট বাস টার্মিনাল ঘুরে ঈদযাত্রায় এমন অনিয়মের চিত্রই দেখা গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঈদযাত্রার তৃতীয় দিনেও ঘরমুখো মানুষের ভিড় চোখে পড়ার মতো। কাউন্টারের ভেতরে জায়গা না পেয়ে অনেক যাত্রীই মালপত্র নিয়ে বাইরে রাস্তায় ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করছেন। বাসের শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে দীর্ঘ অপেক্ষায় ক্ষোভ ও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন অনেকেই। কোনো গাড়ি কাউন্টারে আসার সাথে সাথেই যাত্রীদের তাড়াহুড়ো করে বাসে উঠতে দেখা গেছে।
রাজধানীর আজমপুর বাস কাউন্টারে গ্রামীণ পরিবহনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন ওবায়দুল মিঞাঁ নামে এক রাজমিস্ত্রি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "এবার ঈদযাত্রায় অভিনব কায়দায় বাস কাউন্টারের মালিকরা বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন। আমি দুইটা টিকিট নিয়েছি ২ হাজার টাকা দিয়ে। কিন্তু টিকিটের গায়ে লেখা ১ হাজার ৭০০ টাকা। জোর করেই ৩০০ টাকা বেশি রাখা হয়েছে। শুধু গ্রামীণ পরিবহনই নয়, একতা, চাঁপাই এক্সপ্রেস, ন্যাশনাল ট্রাভেলসসহ প্রায় প্রতিটি কাউন্টারেই এভাবে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।"
ন্যাশনাল ট্রাভেলসের আরেক যাত্রী জানান, "আপনি সাংবাদিক হিসেবে জিজ্ঞাসা করলে কোনো কাউন্টারই বেশি ভাড়ার কথা স্বীকার করবে না। তবে ভেতরে ভেতরে প্রতিটি বাস কাউন্টারেই বাড়তি টাকা নেওয়া হচ্ছে। তবে ভাড়া বেশি নিলেও ন্যাশনাল ট্রাভেলসের বাসের শিডিউল মোটামুটি ঠিক আছে।"
বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে ন্যাশনাল ট্রাভেলসের ম্যানেজার মুমিন হোসেন বলেন, "বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আপনি গাড়িতে অপেক্ষমাণ প্রতিটি যাত্রীকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারেন, আমরা যদি বাড়তি ভাড়া নিয়ে থাকি তবে তাদের টাকা ফেরত দেব।" একই সাথে তিনি দাবি করেন, এই রুটে অন্যান্য পরিবহনের শিডিউল বিপর্যয় ঘটলেও তাদের বাসের শিডিউল ঠিক রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন