সড়ক, রেল ও নৌপথে দেড় কোটি মানুষের ঈদযাত্রা এবং প্রায় ৮০ লাখ কোরবানির পশু পরিবহনের বিশাল চাপের মধ্যেও সার্বিক পরিস্থিতি সন্তোষজনক বলে দাবি করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
তিনি বলেছেন, নির্ধারিত ভাড়ায় ও শৃঙ্খলার সঙ্গে যাত্রীরা গন্তব্যে যেতে পারছেন। নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও সবকিছু মিলিয়ে সরকার একটা ভালো ঈদযাত্রা ম্যানেজ করতে সক্ষম হয়েছে।
আজ বুধবার (২৭ মে) দুপুরে রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শেখ রবিউল আলম জানান, সরকার সার্বক্ষণিকভাবে ঈদযাত্রা মনিটরিং করছে। যমুনা সেতুর আগে চন্দ্রা এলাকায় কিছু যানজট বা ধীরগতির খবর পাওয়া গেলেও সেটিকে স্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, "সাত লেনের যানবাহন যখন দুই লেনে প্রবেশ করে, তখন সেখানে গাড়ির গতি কিছুটা কমে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে আমাদের ব্যবস্থাপনায় কোনো সমস্যা নেই।"
মন্ত্রী আরও বলেন, "বিআরটিএর কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলে বসে সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। যাত্রীদের সাথে কথা বলে আমি নিজে নিশ্চিত হয়েছি যে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা নির্ধারিত ভাড়ায় বাড়ি যাচ্ছেন। মাত্র দুই-তিন দিনের মধ্যে দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়ছে, সাথে প্রায় ৮০ লাখ কোরবানিযোগ্য পশুও পরিবহন করতে হচ্ছে। পরিবহন খাতের সামর্থ্যের শতভাগ দিয়ে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।"
কাউন্টারগুলোতে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, "কাউন্টার ও বাসস্ট্যান্ডের বাইরে কিছু অসাধু ব্যক্তি সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। যাত্রীদের বাড়ি যাওয়ার তাড়াহুড়োকে পুঁজি করে কেউ কেউ বেশি ভাড়া নিচ্ছে। তবে আমরা অভিযোগ পেলেই কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং জরিমানাও করছি। কোনোভাবেই যেন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা না যায়, সে জন্য মাঠে কঠোর নজরদারি চলছে।"
রেলপথে নারীদের জন্য বিশেষ কোচ সংযোজনের ব্যাপারে শেখ রবিউল আলম বলেন, "ইতিমধ্যে তিনটি আন্তঃনগর ট্রেনে নারীদের জন্য বিশেষ কোচ যুক্ত করা হয়েছে। ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। তবে সব ট্রেনে এখনই এটি করা সম্ভব হয়নি, কারণ অধিকাংশ টিকিট আগেই বিক্রি হয়ে গেছে এবং আমাদের হাতে পর্যাপ্ত কোচও নেই। এরপরও ঈদ উপলক্ষ্যে অতিরিক্ত ৫১টি কোচ রেলবহরে যুক্ত করা হয়েছে।"
সবশেষে, উত্তরার দিয়াবাড়িতে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পশুর হাট বসানো নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পশুর হাট বসানোর কোনো সিদ্ধান্ত আমাদের ছিল না। এ ব্যাপারে সিটি কর্পোরেশনকে জিজ্ঞেস করুন। যারা এখানে ইজারা দিয়েছে এবং টাকা নিয়েছে, দায় সম্পূর্ণ তাদের।"
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ সড়কমন্ত্রী, শেখ রবিউল আলম, ঈদযাত্রা ২০২৬, ঈদুল আজহা, মহাখালী বাস টার্মিনাল, চন্দ্রা যানজট, অতিরিক্ত ভাড়া, বাংলাদেশ রেলওয়ে, মেট্রোরেল পশুর হাট Road Transport Minister, Sheikh Robiul Alam, Eid Journey 2026, Eid-ul-Azha, Mohakhali Bus Terminal, Chandra Traffic, Extra Fare, Bangladesh Railway, Metro Rail Cattle Market

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ মে ২০২৬
সড়ক, রেল ও নৌপথে দেড় কোটি মানুষের ঈদযাত্রা এবং প্রায় ৮০ লাখ কোরবানির পশু পরিবহনের বিশাল চাপের মধ্যেও সার্বিক পরিস্থিতি সন্তোষজনক বলে দাবি করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
তিনি বলেছেন, নির্ধারিত ভাড়ায় ও শৃঙ্খলার সঙ্গে যাত্রীরা গন্তব্যে যেতে পারছেন। নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও সবকিছু মিলিয়ে সরকার একটা ভালো ঈদযাত্রা ম্যানেজ করতে সক্ষম হয়েছে।
আজ বুধবার (২৭ মে) দুপুরে রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শেখ রবিউল আলম জানান, সরকার সার্বক্ষণিকভাবে ঈদযাত্রা মনিটরিং করছে। যমুনা সেতুর আগে চন্দ্রা এলাকায় কিছু যানজট বা ধীরগতির খবর পাওয়া গেলেও সেটিকে স্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, "সাত লেনের যানবাহন যখন দুই লেনে প্রবেশ করে, তখন সেখানে গাড়ির গতি কিছুটা কমে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে আমাদের ব্যবস্থাপনায় কোনো সমস্যা নেই।"
মন্ত্রী আরও বলেন, "বিআরটিএর কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলে বসে সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। যাত্রীদের সাথে কথা বলে আমি নিজে নিশ্চিত হয়েছি যে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা নির্ধারিত ভাড়ায় বাড়ি যাচ্ছেন। মাত্র দুই-তিন দিনের মধ্যে দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়ছে, সাথে প্রায় ৮০ লাখ কোরবানিযোগ্য পশুও পরিবহন করতে হচ্ছে। পরিবহন খাতের সামর্থ্যের শতভাগ দিয়ে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।"
কাউন্টারগুলোতে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, "কাউন্টার ও বাসস্ট্যান্ডের বাইরে কিছু অসাধু ব্যক্তি সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। যাত্রীদের বাড়ি যাওয়ার তাড়াহুড়োকে পুঁজি করে কেউ কেউ বেশি ভাড়া নিচ্ছে। তবে আমরা অভিযোগ পেলেই কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং জরিমানাও করছি। কোনোভাবেই যেন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা না যায়, সে জন্য মাঠে কঠোর নজরদারি চলছে।"
রেলপথে নারীদের জন্য বিশেষ কোচ সংযোজনের ব্যাপারে শেখ রবিউল আলম বলেন, "ইতিমধ্যে তিনটি আন্তঃনগর ট্রেনে নারীদের জন্য বিশেষ কোচ যুক্ত করা হয়েছে। ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। তবে সব ট্রেনে এখনই এটি করা সম্ভব হয়নি, কারণ অধিকাংশ টিকিট আগেই বিক্রি হয়ে গেছে এবং আমাদের হাতে পর্যাপ্ত কোচও নেই। এরপরও ঈদ উপলক্ষ্যে অতিরিক্ত ৫১টি কোচ রেলবহরে যুক্ত করা হয়েছে।"
সবশেষে, উত্তরার দিয়াবাড়িতে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পশুর হাট বসানো নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পশুর হাট বসানোর কোনো সিদ্ধান্ত আমাদের ছিল না। এ ব্যাপারে সিটি কর্পোরেশনকে জিজ্ঞেস করুন। যারা এখানে ইজারা দিয়েছে এবং টাকা নিয়েছে, দায় সম্পূর্ণ তাদের।"

আপনার মতামত লিখুন