নজর বিডি

কিশোরগঞ্জে মাকে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখলো ছেলে

কিশোরগঞ্জে মাকে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখলো ছেলে

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় নিজ গর্ভধারিণী মাকে নির্মমভাবে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখার এক লোমহর্ষক ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে বড় ছেলের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ছেলে জুয়েল মিয়া পলাতক রয়েছে।

বুধবার (০৩ জুন, ২০২৬ খ্রিঃ) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের উত্তর বড়ভিটা ময়দান পাড়া গ্রামে এই নৃশংস ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে ঘরের মেঝে খুঁড়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। নিহত মারুফা বেগম ওই এলাকার মৃত আশরাফ আলীর স্ত্রী।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার পর্যন্ত মারুফা বেগমকে এলাকায় দেখা গেলেও এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। নিহতের ছোট ছেলে লাভিন মিয়া জানান, গত ৩০ মে ঈদের ছুটিতে তিনি বাড়িতে আসেন। একই সময়ে পারিবারিক কলহের জেরে বড় ভাই জুয়েল মিয়ার স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে লাভিন নিজেও শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যান। বুধবার দুপুরে লাভিন বাড়িতে ফিরে মাকে না পেয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

একপর্যায়ে বিকেলে লাভিনের স্ত্রী ঘরের বিছানার তোশক ঠিক করতে গিয়ে রক্তের দাগ দেখতে পান। এতে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে বড় ভাই জুয়েলের ঘরের মেঝেতে কাঁচা মাটি ও ফাটল দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের জানান লাভিন। প্রতিবেশীরা এসে একই সন্দেহ প্রকাশ করলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। পরে গভীর রাতে সন্দেহভাজন জুয়েল মিয়ার ঘরের মেঝে খুঁড়ে মারুফা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত মরদেহের মাথার সামনের বাম পাশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত দুই দিন আগে মাথায় আঘাত করে তাকে খুন করা হয় এবং অপরাধ ঢাকতে ঘরের মেঝে খুঁড়ে লাশ গোপনে পুঁতে রাখা হয়।

কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আব্দুল কুদ্দুস জানান, ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের জন্য পলাতক জুয়েলের স্ত্রী হাসি বেগম ও ছেলে গোলাম রাব্বীকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হচ্ছে যে অভিযুক্ত জুয়েল মিয়াই তার মাকে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে লুকিয়ে রেখেছিল। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এই ঘটনায় নিহতের ছোট ছেলে বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

এদিকে, নিজ সন্তানের হাতে মায়ের এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় শোক, ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় এলাকাবাসী এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘাতক ছেলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বিষয় : নজরবিডি সংবাদ নীলফামারী নিউজ, কিশোরগঞ্জ নীলফামারী, মাকে হত্যা, ঘরের মেঝেতে লাশ, চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড, ঘাতক ছেলে পলাতক, কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশ, লাশ উদ্ধার, অপরাধ জগৎ, রংপুর বিভাগীয় নিউজ, পারিবারিক কলহ Nilphamari News, Mother Murdered, Body Recovered from Floor, Son Kills Mother, Kishorganj Nilphamari, Crime News Bangladesh, Police Investigation, Shocking Murder Case, Bangladesh Police Drive

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


কিশোরগঞ্জে মাকে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখলো ছেলে

প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬

featured Image

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় নিজ গর্ভধারিণী মাকে নির্মমভাবে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখার এক লোমহর্ষক ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে বড় ছেলের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ছেলে জুয়েল মিয়া পলাতক রয়েছে।

বুধবার (০৩ জুন, ২০২৬ খ্রিঃ) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের উত্তর বড়ভিটা ময়দান পাড়া গ্রামে এই নৃশংস ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে ঘরের মেঝে খুঁড়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। নিহত মারুফা বেগম ওই এলাকার মৃত আশরাফ আলীর স্ত্রী।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার পর্যন্ত মারুফা বেগমকে এলাকায় দেখা গেলেও এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। নিহতের ছোট ছেলে লাভিন মিয়া জানান, গত ৩০ মে ঈদের ছুটিতে তিনি বাড়িতে আসেন। একই সময়ে পারিবারিক কলহের জেরে বড় ভাই জুয়েল মিয়ার স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে লাভিন নিজেও শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যান। বুধবার দুপুরে লাভিন বাড়িতে ফিরে মাকে না পেয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

একপর্যায়ে বিকেলে লাভিনের স্ত্রী ঘরের বিছানার তোশক ঠিক করতে গিয়ে রক্তের দাগ দেখতে পান। এতে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে বড় ভাই জুয়েলের ঘরের মেঝেতে কাঁচা মাটি ও ফাটল দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের জানান লাভিন। প্রতিবেশীরা এসে একই সন্দেহ প্রকাশ করলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। পরে গভীর রাতে সন্দেহভাজন জুয়েল মিয়ার ঘরের মেঝে খুঁড়ে মারুফা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত মরদেহের মাথার সামনের বাম পাশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত দুই দিন আগে মাথায় আঘাত করে তাকে খুন করা হয় এবং অপরাধ ঢাকতে ঘরের মেঝে খুঁড়ে লাশ গোপনে পুঁতে রাখা হয়।

কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আব্দুল কুদ্দুস জানান, ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের জন্য পলাতক জুয়েলের স্ত্রী হাসি বেগম ও ছেলে গোলাম রাব্বীকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হচ্ছে যে অভিযুক্ত জুয়েল মিয়াই তার মাকে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে লুকিয়ে রেখেছিল। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এই ঘটনায় নিহতের ছোট ছেলে বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

এদিকে, নিজ সন্তানের হাতে মায়ের এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় শোক, ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় এলাকাবাসী এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘাতক ছেলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত