নজর বিডি

টঙ্গীর মাজার বস্তিতে ‘দাবারু’ ও ‘কিং বাবু’র সিন্ডিকেট

টঙ্গীর মাজার বস্তিতে ‘দাবারু’ ও ‘কিং বাবু’র সিন্ডিকেট

গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন ভরান এলাকার হাজী মাজার বস্তিতে আধিপত্য বিস্তার এবং হিরোইনসহ বিভিন্ন মাদকের প্রকাশ্য ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। 

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বস্তি এলাকায় এই সংঘবদ্ধ চক্রটি মাদকের সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করছে, যার ফলে এলাকায় তীব্র সামাজিক অস্থিরতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবণতি ঘটেছে।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের দাবি অনুযায়ী, এই মাদক সিন্ডিকেটের মূল হোতা যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ও একাধিক মামলার পলাতক আসামি মো. সাহাবুদ্দিন ওরফে ‘দাবারু’ এবং রবিউল ইসলাম বাবু ওরফে ‘কিং বাবু’। আইন-শৃঙ্খলার চোখ ফাঁকি দিয়ে এই দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী এলাকায় পুনরায় প্রভাব বিস্তার করে পুরো মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে।

অভিযোগ রয়েছে, তাদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ও স্থানীয় বেশ কয়েকজন সহযোগীর মাধ্যমে বস্তিতে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার হিরোইন, ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজা ও দেশীয় মদের অবৈধ বাণিজ্য চলছে।

এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তৈরি হওয়া ক্ষণস্থায়ী শূন্যতাকে কাজে লাগিয়ে এই চক্রটি বস্তিতে নতুন করে আরও ভয়ংকর রূপে সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি দখল, চাঁদাবাজি এবং নিরীহ বস্তিবাসীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। এছাড়া বেকার ও ছিন্নমূল কিছু স্থানীয় যুবককে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে এই মরণনেশায় জড়িয়ে ফেলা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

"ওদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস কারও নেই। রাজনৈতিক পরিচয়ের দাপট দেখিয়ে ওরা পুরো বস্তি জিম্মি করে রেখেছে। দিন-রাত এখানে মাদকের হাট বসে, যা আমাদের তরুণ সমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।"

অভিযোগে আরও জানা যায়, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও সাধারণ মানুষের চোখ রাঙানি এড়াতে চক্রের সদস্যরা নিজেদের বিভিন্ন প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের পরিচয়ে পরিচিত করার চেষ্টা করছে। তবে তাদের এই রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার দাবির কোনো সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এটি কেবলই অপরাধ আড়াল করার একটি কৌশল।

মাজার বস্তি এলাকার মাদক সিন্ডিকেটের কারণে সামাজিক নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তরুণ ও কিশোর গ্যাংয়ের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য এবং মাদকের এই স্বর্গরাজ্য গুঁড়িয়ে দিতে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ও র‍্যাবের কঠোর ও দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

এই বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া না গেলেও, পুলিশ সূত্রে জানা গেছে—মাদক ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে তাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিষয় : নজরবিডি সংবাদ টঙ্গী, গাজীপুর, মাজার বস্তি, মাদক ব্যবসা, হিরোইন, ইয়াবা, আধিপত্য বিস্তার, দাবারু, কিং বাবু, টঙ্গী পশ্চিম থানা, অপরাধ, গাজীপুর সংবাদ Tongi, Gazipur, Mazar Slum, Drug Trafficking, Heroin, Yaba, Crime News, Dabarru, King Babu, Tongi West Thana, Gazipur Crime, Drug Syndicate

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


টঙ্গীর মাজার বস্তিতে ‘দাবারু’ ও ‘কিং বাবু’র সিন্ডিকেট

প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬

featured Image

গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন ভরান এলাকার হাজী মাজার বস্তিতে আধিপত্য বিস্তার এবং হিরোইনসহ বিভিন্ন মাদকের প্রকাশ্য ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। 

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বস্তি এলাকায় এই সংঘবদ্ধ চক্রটি মাদকের সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করছে, যার ফলে এলাকায় তীব্র সামাজিক অস্থিরতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবণতি ঘটেছে।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের দাবি অনুযায়ী, এই মাদক সিন্ডিকেটের মূল হোতা যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ও একাধিক মামলার পলাতক আসামি মো. সাহাবুদ্দিন ওরফে ‘দাবারু’ এবং রবিউল ইসলাম বাবু ওরফে ‘কিং বাবু’। আইন-শৃঙ্খলার চোখ ফাঁকি দিয়ে এই দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী এলাকায় পুনরায় প্রভাব বিস্তার করে পুরো মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে।

অভিযোগ রয়েছে, তাদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ও স্থানীয় বেশ কয়েকজন সহযোগীর মাধ্যমে বস্তিতে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার হিরোইন, ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজা ও দেশীয় মদের অবৈধ বাণিজ্য চলছে।

এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তৈরি হওয়া ক্ষণস্থায়ী শূন্যতাকে কাজে লাগিয়ে এই চক্রটি বস্তিতে নতুন করে আরও ভয়ংকর রূপে সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি দখল, চাঁদাবাজি এবং নিরীহ বস্তিবাসীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। এছাড়া বেকার ও ছিন্নমূল কিছু স্থানীয় যুবককে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে এই মরণনেশায় জড়িয়ে ফেলা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

"ওদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস কারও নেই। রাজনৈতিক পরিচয়ের দাপট দেখিয়ে ওরা পুরো বস্তি জিম্মি করে রেখেছে। দিন-রাত এখানে মাদকের হাট বসে, যা আমাদের তরুণ সমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।"

অভিযোগে আরও জানা যায়, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও সাধারণ মানুষের চোখ রাঙানি এড়াতে চক্রের সদস্যরা নিজেদের বিভিন্ন প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের পরিচয়ে পরিচিত করার চেষ্টা করছে। তবে তাদের এই রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার দাবির কোনো সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এটি কেবলই অপরাধ আড়াল করার একটি কৌশল।

মাজার বস্তি এলাকার মাদক সিন্ডিকেটের কারণে সামাজিক নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তরুণ ও কিশোর গ্যাংয়ের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য এবং মাদকের এই স্বর্গরাজ্য গুঁড়িয়ে দিতে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ও র‍্যাবের কঠোর ও দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

এই বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া না গেলেও, পুলিশ সূত্রে জানা গেছে—মাদক ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে তাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত