নজর বিডি

ভুয়া কাজী 'লম্পট' রয়েল গ্রেপ্তার, এলাকাবাসীর সন্তোষ

ভুয়া কাজী 'লম্পট' রয়েল গ্রেপ্তার, এলাকাবাসীর সন্তোষ

বিয়ের ভুয়া প্রলোভন ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে দিনাজপুরের বীরগঞ্জে মো. রয়েল (৩৮) নামের এক কথিত কাজীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

গতকাল ৪ জুন (বৃহস্পতিবার) দুপুরে উপজেলার নিজপাড়া ইউনিয়নের ঢেপা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত রয়েল ওই এলাকার মৃত সানাউল্লাহ ওরফে সোনা মিয়ার ছেলে। এলাকায় সে দীর্ঘ দিন ধরে ভুয়া কাজী এবং উশৃঙ্খল যুবক হিসেবে পরিচিত।

মামলার আরজি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মামলার বাদী পারভীন খাতুন (ছদ্মনাম) স্থানীয় প্রেম বাজারের এক চা দোকানদারের মেয়ে। তিনি একই এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক মেম্বারের স্ত্রী হিসেবে সংসার করে আসছিলেন। কিন্তু এর মধ্যে কুদৃষ্টি পড়ে লম্পট রয়েলের। সে পারভীনকে বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব ও ফুসলিয়ে প্রলুব্ধ করে এবং একপর্যায়ে তার সংসার ভাঙতে বাধ্য করে।

অভিযোগে জানা যায়, রয়েল দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নিকাহ রেজিস্ট্রার বা কাজীর সহকারী (সহকারী কাজী) হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিল। এই পরিচয়ের আড়ালে সে গোপনে বিভিন্ন অবৈধ ও জাল বিবাহ রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করত।

পারভীন খাতুনকে আগের সংসার থেকে ভাগিয়ে আনার পর রয়েল নিজেই কাজী সেজে জালিয়াতির মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন করে। এরপর সে পারভীনকে জানায় যে তাদের আইনগত বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। এই ভুয়া বিয়ের ওপর ভিত্তি করে রয়েল কখনো ভাড়া বাসায়, আবার কখনো নিজের বাড়িতে পারভীনের সাথে দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক বজায় রাখে।

সম্প্রতি পারভীন খাতুন তার স্ত্রীর অধিকার ও সামাজিক স্বীকৃতির দাবি জানালে প্রতারক রয়েল খোলস বদলে ফেলে। সে পারভীনকে স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে সে তাকে আদৌ কোনো বিয়ে করেনি এবং তাকে বাড়ি থেকে জোরপূর্বক তাড়িয়ে দেয়।

এই চরম প্রতারণার শিকার হয়ে পারভীন খাতুন ন্যায়বিচারের আশায় দিনাজপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হন। আদালতের নির্দেশে গত ১ জুন বীরগঞ্জ থানায় রয়েলের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ ও প্রতারণার মামলা (মামলা নং-১) রেকর্ড করা হয়।

বিতর্কিত ও লম্পট রয়েলের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি নেমে আসে। এলাকাবাসী জানান, রয়েলের মতো প্রতারকদের কারণে বহু নারীর জীবন ধ্বংস হচ্ছে। তারা এই লম্পটের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বীরগঞ্জ থানা পুলিশ জানায়, আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার পর পরই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হয়েছে। মামলার পর থেকেই আসামি পলাতক থাকার চেষ্টা করলেও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৪ জুন দুপুরে তাকে ঢেপা ব্রিজ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

বিষয় : নজরবিডি সংবাদ দিনাজপুর, বীরগঞ্জ, ধর্ষণ মামলা, ভুয়া কাজী, লম্পট রয়েল গ্রেপ্তার, বীরগঞ্জ থানা, নারী ও শিশু নির্যাতন, প্রতারণা, অপরাধ সংবাদ, দিনাজপুর সংবাদ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


ভুয়া কাজী 'লম্পট' রয়েল গ্রেপ্তার, এলাকাবাসীর সন্তোষ

প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬

featured Image

বিয়ের ভুয়া প্রলোভন ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে দিনাজপুরের বীরগঞ্জে মো. রয়েল (৩৮) নামের এক কথিত কাজীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

গতকাল ৪ জুন (বৃহস্পতিবার) দুপুরে উপজেলার নিজপাড়া ইউনিয়নের ঢেপা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত রয়েল ওই এলাকার মৃত সানাউল্লাহ ওরফে সোনা মিয়ার ছেলে। এলাকায় সে দীর্ঘ দিন ধরে ভুয়া কাজী এবং উশৃঙ্খল যুবক হিসেবে পরিচিত।

মামলার আরজি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মামলার বাদী পারভীন খাতুন (ছদ্মনাম) স্থানীয় প্রেম বাজারের এক চা দোকানদারের মেয়ে। তিনি একই এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক মেম্বারের স্ত্রী হিসেবে সংসার করে আসছিলেন। কিন্তু এর মধ্যে কুদৃষ্টি পড়ে লম্পট রয়েলের। সে পারভীনকে বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব ও ফুসলিয়ে প্রলুব্ধ করে এবং একপর্যায়ে তার সংসার ভাঙতে বাধ্য করে।

অভিযোগে জানা যায়, রয়েল দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নিকাহ রেজিস্ট্রার বা কাজীর সহকারী (সহকারী কাজী) হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিল। এই পরিচয়ের আড়ালে সে গোপনে বিভিন্ন অবৈধ ও জাল বিবাহ রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করত।

পারভীন খাতুনকে আগের সংসার থেকে ভাগিয়ে আনার পর রয়েল নিজেই কাজী সেজে জালিয়াতির মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন করে। এরপর সে পারভীনকে জানায় যে তাদের আইনগত বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। এই ভুয়া বিয়ের ওপর ভিত্তি করে রয়েল কখনো ভাড়া বাসায়, আবার কখনো নিজের বাড়িতে পারভীনের সাথে দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক বজায় রাখে।

সম্প্রতি পারভীন খাতুন তার স্ত্রীর অধিকার ও সামাজিক স্বীকৃতির দাবি জানালে প্রতারক রয়েল খোলস বদলে ফেলে। সে পারভীনকে স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে সে তাকে আদৌ কোনো বিয়ে করেনি এবং তাকে বাড়ি থেকে জোরপূর্বক তাড়িয়ে দেয়।

এই চরম প্রতারণার শিকার হয়ে পারভীন খাতুন ন্যায়বিচারের আশায় দিনাজপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হন। আদালতের নির্দেশে গত ১ জুন বীরগঞ্জ থানায় রয়েলের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ ও প্রতারণার মামলা (মামলা নং-১) রেকর্ড করা হয়।

বিতর্কিত ও লম্পট রয়েলের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি নেমে আসে। এলাকাবাসী জানান, রয়েলের মতো প্রতারকদের কারণে বহু নারীর জীবন ধ্বংস হচ্ছে। তারা এই লম্পটের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বীরগঞ্জ থানা পুলিশ জানায়, আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার পর পরই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হয়েছে। মামলার পর থেকেই আসামি পলাতক থাকার চেষ্টা করলেও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৪ জুন দুপুরে তাকে ঢেপা ব্রিজ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত