খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অন্যতম মেগা উদ্যোগ 'পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস-২০২৬'।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন 'প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (PARTNER)' প্রকল্পের অধীনে আজ রবিবার (৭ জুন) সকাল ১১টায় ডুমুরিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই বর্ণাঢ্য কংগ্রেস ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
ডুমুরিয়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের প্রগতিশীল চাষি, কৃষি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা এই মিলনমেলায় অংশ নেন।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. নাজমুল হুদার সভাপতিত্বে কংগ্রেসে বক্তারা উপকূলীয় অঞ্চলের লবণাক্ততা মোকাবিলা করে কীভাবে ফসলের নিবিড়তা বাড়ানো যায় এবং সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনার জেলা প্রশিক্ষক মহাদেব চন্দ্র সানা। তিনি তার বক্তব্যে বলেন,
"পার্টনার প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা আগামী ৫ বছরে দেশজুড়ে ৩ লাখ হেক্টর জমি উত্তম কৃষি চর্চার (GAP) আওতায় নিয়ে আসব। এর একটি বড় অংশ থাকবে এই অঞ্চলের লবণাক্ত ও পতিত জমি।
আমরা চাষিদের আধুনিক উচ্চফলনশীল জাত চাষে উদ্বুদ্ধ করছি। এছাড়া কৃষকদের আধুনিকায়ন করতে দেশজুড়ে প্রায় ২.৮৭ কোটি কৃষককে 'স্মার্ট এগ্রিকালচারাল কার্ড' প্রদান করা হবে এবং মাটি ও পানির স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বিশেষায়িত ল্যাব স্থাপন করা হচ্ছে।"
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্যান) মো. আব্দুস সামাদ টেকসই খাদ্য নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, "নিরাপদ ও টেকসই খাদ্য উৎপাদন বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
পার্টনার ফিল্ড স্কুলের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে দলগতভাবে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যা নিরাপদ খাদ্যের জোগান বাড়াতে এবং কৃষকদের উদ্যোক্তা হিসেবে রূপান্তর করতে বড় ভূমিকা রাখবে।"
কংগ্রেসে অংশ নিয়ে ডুমুরিয়ার স্থানীয় সফল চাষী মো. হাবিবুর রহমান নিজের অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে গিয়ে বলেন, "আমাদের ডুমুরিয়ার বেশিরভাগ জমির মূল সমস্যা হলো মাটি ও পানির লবণাক্ততা। আগে লবণ ধরা পড়লে আমরা চাষ করা বন্ধ করে দিতাম।
কিন্তু এই পার্টনার ফিল্ড স্কুলে এসে আমরা শিখতে পেরেছি কীভাবে লবণাক্ত সহনশীল জাত ব্যবহার করে এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে সঠিক উপায়ে চাষাবাদ করা যায়। এখন আমাদের পতিত জমিগুলো আবাদের আওতায় আসছে এবং ফলনও আগের চেয়ে অনেক ভালো হচ্ছে।"
কংগ্রেসে বিশেষজ্ঞরা আরও উল্লেখ করেন, উপকূলীয় এই অঞ্চলে বিষমুক্ত সবজি, ফল ও মাছ চাষের মাধ্যমে গ্রামীণ বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে। এর মাধ্যমে কৃষকেরা শুধুমাত্র পণ্য উৎপাদনকারী হিসেবেই থাকবেন না, বরং তারা সরাসরি বাজারজাতকরণের মাধ্যমে টেকসই উদ্যোক্তা হয়ে উঠবেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন— জেলা কৃষক দলের সভাপতি করির হোসেন, অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইভা মল্লিক, ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হামিদুর রহমান ও অজয় কুমার বিশ্বাস, খর্নিয়া ইউনিয়ন প্রশাক মোখছেদ আলী, ডুমুরিয়া উপজেলা উপসহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা আশিষ মন্ডল, চেয়ারম্যান গাজী হুমায়ুন কবির বুলু, ডুমুরিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর আলম, সিনিয়র সাংবাদিক কাজী আব্দুল্লাহ, ডুমুরিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শেখ মাহতাব হোসেন, দৈনিক যশোর বার্তার সাংবাদিক মো. আজহারুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপি নেতা গাজী আব্দুল হালিম, খান ইসমাইল হোসেন, শেখ ফহরাদ হোসেন, ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম এবং স্থানীয় কৃষক মফিজুল ইসলাম প্রমুখ।
দিনব্যাপী এই আয়োজনে সফল মাঠ স্কুলের কৃষকদের পুরস্কৃত করা হয়। সবশেষে আধুনিক কৃষি তথ্যসেবা কেন্দ্র ও চাষিদের জন্য ডিজিটাল সেবার একটি দিকনির্দেশনা প্রদর্শনের মাধ্যমে কংগ্রেসের সফল সমাপ্তি ঘটে।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অন্যতম মেগা উদ্যোগ 'পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস-২০২৬'।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন 'প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (PARTNER)' প্রকল্পের অধীনে আজ রবিবার (৭ জুন) সকাল ১১টায় ডুমুরিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই বর্ণাঢ্য কংগ্রেস ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
ডুমুরিয়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের প্রগতিশীল চাষি, কৃষি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা এই মিলনমেলায় অংশ নেন।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. নাজমুল হুদার সভাপতিত্বে কংগ্রেসে বক্তারা উপকূলীয় অঞ্চলের লবণাক্ততা মোকাবিলা করে কীভাবে ফসলের নিবিড়তা বাড়ানো যায় এবং সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনার জেলা প্রশিক্ষক মহাদেব চন্দ্র সানা। তিনি তার বক্তব্যে বলেন,
"পার্টনার প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা আগামী ৫ বছরে দেশজুড়ে ৩ লাখ হেক্টর জমি উত্তম কৃষি চর্চার (GAP) আওতায় নিয়ে আসব। এর একটি বড় অংশ থাকবে এই অঞ্চলের লবণাক্ত ও পতিত জমি।
আমরা চাষিদের আধুনিক উচ্চফলনশীল জাত চাষে উদ্বুদ্ধ করছি। এছাড়া কৃষকদের আধুনিকায়ন করতে দেশজুড়ে প্রায় ২.৮৭ কোটি কৃষককে 'স্মার্ট এগ্রিকালচারাল কার্ড' প্রদান করা হবে এবং মাটি ও পানির স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বিশেষায়িত ল্যাব স্থাপন করা হচ্ছে।"
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্যান) মো. আব্দুস সামাদ টেকসই খাদ্য নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, "নিরাপদ ও টেকসই খাদ্য উৎপাদন বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
পার্টনার ফিল্ড স্কুলের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে দলগতভাবে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যা নিরাপদ খাদ্যের জোগান বাড়াতে এবং কৃষকদের উদ্যোক্তা হিসেবে রূপান্তর করতে বড় ভূমিকা রাখবে।"
কংগ্রেসে অংশ নিয়ে ডুমুরিয়ার স্থানীয় সফল চাষী মো. হাবিবুর রহমান নিজের অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে গিয়ে বলেন, "আমাদের ডুমুরিয়ার বেশিরভাগ জমির মূল সমস্যা হলো মাটি ও পানির লবণাক্ততা। আগে লবণ ধরা পড়লে আমরা চাষ করা বন্ধ করে দিতাম।
কিন্তু এই পার্টনার ফিল্ড স্কুলে এসে আমরা শিখতে পেরেছি কীভাবে লবণাক্ত সহনশীল জাত ব্যবহার করে এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে সঠিক উপায়ে চাষাবাদ করা যায়। এখন আমাদের পতিত জমিগুলো আবাদের আওতায় আসছে এবং ফলনও আগের চেয়ে অনেক ভালো হচ্ছে।"
কংগ্রেসে বিশেষজ্ঞরা আরও উল্লেখ করেন, উপকূলীয় এই অঞ্চলে বিষমুক্ত সবজি, ফল ও মাছ চাষের মাধ্যমে গ্রামীণ বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে। এর মাধ্যমে কৃষকেরা শুধুমাত্র পণ্য উৎপাদনকারী হিসেবেই থাকবেন না, বরং তারা সরাসরি বাজারজাতকরণের মাধ্যমে টেকসই উদ্যোক্তা হয়ে উঠবেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন— জেলা কৃষক দলের সভাপতি করির হোসেন, অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইভা মল্লিক, ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হামিদুর রহমান ও অজয় কুমার বিশ্বাস, খর্নিয়া ইউনিয়ন প্রশাক মোখছেদ আলী, ডুমুরিয়া উপজেলা উপসহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা আশিষ মন্ডল, চেয়ারম্যান গাজী হুমায়ুন কবির বুলু, ডুমুরিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর আলম, সিনিয়র সাংবাদিক কাজী আব্দুল্লাহ, ডুমুরিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শেখ মাহতাব হোসেন, দৈনিক যশোর বার্তার সাংবাদিক মো. আজহারুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপি নেতা গাজী আব্দুল হালিম, খান ইসমাইল হোসেন, শেখ ফহরাদ হোসেন, ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম এবং স্থানীয় কৃষক মফিজুল ইসলাম প্রমুখ।
দিনব্যাপী এই আয়োজনে সফল মাঠ স্কুলের কৃষকদের পুরস্কৃত করা হয়। সবশেষে আধুনিক কৃষি তথ্যসেবা কেন্দ্র ও চাষিদের জন্য ডিজিটাল সেবার একটি দিকনির্দেশনা প্রদর্শনের মাধ্যমে কংগ্রেসের সফল সমাপ্তি ঘটে।

আপনার মতামত লিখুন