টাকা আর জমির লোভ মানুষকে কতটা পশুবানাতে পারে, তার এক নৃশংস প্রমাণ মিলল নেত্রকোনায়। নেত্রকোনা সদরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আপন মেজো ভাই ও ভাতিজা মিলে এক অসহায় সিএনজি চালককে রাস্তার ওপর ফেলে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করেছে।
বর্বরোচিত এই আঘাতে উপড়ে গেছে ওই চালকের মুখের সামনের ৪টি দাঁত এবং ভেঙে গেছে বাম হাতের হাড়।
লোমহর্ষক এই ঘটনাটি ঘটেছে নেত্রকোনা সদরের স্বাবলম্বী হাসপাতালের সামনের পাকা রাস্তার ওপর। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী সিএনজি চালক মোঃ সাইদুল ইসলাম (৪৫) বাদী হয়ে আপন মেজো ভাই মনসুর আলী ও ভাতিজা আনোয়ার হোসেনসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ করে নেত্রকোনা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। আহত সাইদুল ইসলাম আটপাড়া উপজেলার মাদল গ্রামের বাসিন্দা।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সাইদুল ইসলামের সাথে তাঁর মেজো ভাই মনসুর আলীর পৈতৃক ফসলি জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এই নিয়ে এলাকায় বহুবার সালিশ-বৈঠক হলেও মনসুর আলী ও তাঁর ছেলেরা কোনো সামাজিক সিদ্ধান্তের তোয়াক্কা করত না।
গত ২ জুন (২০২৬) বিকেলে সাইদুল ইসলাম প্রতিদিনের মতো সিএনজি চালিয়ে যাত্রী নামিয়ে দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। তিনি সদরের স্বাবলম্বী হাসপাতালের সামনে আসতেই ওত পেতে থাকা একদল হামলাকারী দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে তাঁর গাড়ির গতি রোধ করে।
গাড়ি থামানো মাত্রই ১ নম্বর আসামি মনসুর আলীর নির্দেশে তাঁর ছেলে আনোয়ার হোসেন লোহার রড উঁচিয়ে সরাসরি সাইদুলের মাথায় আঘাত করতে যায়। সাইদুল প্রাণ বাঁচাতে মাথা সরালে রডের আঘাতটি সরাসরি তাঁর মুখে এসে লাগে। মুহূর্তের মধ্যে তাঁর মুখের সামনের সারির ৪টি দাঁত ভেঙে রক্তে ভেসে যায় চারপাশ।
তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আবারও মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়, যা ঠেকাতে গিয়ে তাঁর বাম হাতের আঙুল ও হাড় মটকে যায়। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, সাইদুলকে যখন পেটানো হচ্ছিল, তখন মার্জিয়া, মনি ও ইসরাত নামের তিন নারীও বাঁশের লাঠি দিয়ে তাঁর সারা শরীর থেঁতলে দেয়। এই সুযোগে ভাতিজা আনোয়ার হোসেন রক্তাক্ত সাইদুলের পকেট থেকে সিএনজি চালিয়ে জমানো নগদ ২৩,০০০ (তেইশ হাজার) টাকা ছিনতাই করে নেয়।
সাইদুলের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এবং পথচারীরা বাঁচাতে ছুটে এলে, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র উঁচিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে রক্তাক্ত ও অজ্ঞান অবস্থায় সাইদুলকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা দ্রুত নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করান। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।
আপন ভাইয়ের এমন পৈশাচিক রূপ দেখে স্তম্ভিত এলাকাবাসী। এই খেটে খাওয়া মানুষটার ওপর যারা এমন বর্বরতা চালিয়েছে, তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সর্বস্তরের জনগণ।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম জানান, "আমরা এই সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ নেত্রকোনা সংবাদ, জমি নিয়ে বিরোধ, সিএনজি চালকের ওপর হামলা, নেত্রকোনা মডেল থানা, পারিবারিক সহিংসতা, রড দিয়ে পিটিয়ে জখম, নেত্রকোনা অপরাধ, আজকের খবর Netrokona News, Land Dispute Violence, Attack on CNG Driver, Netrokona Model Thana, Family Dispute Netrokona, Crime News Bangladesh, Netrokona Sadar

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুন ২০২৬
টাকা আর জমির লোভ মানুষকে কতটা পশুবানাতে পারে, তার এক নৃশংস প্রমাণ মিলল নেত্রকোনায়। নেত্রকোনা সদরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আপন মেজো ভাই ও ভাতিজা মিলে এক অসহায় সিএনজি চালককে রাস্তার ওপর ফেলে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করেছে।
বর্বরোচিত এই আঘাতে উপড়ে গেছে ওই চালকের মুখের সামনের ৪টি দাঁত এবং ভেঙে গেছে বাম হাতের হাড়।
লোমহর্ষক এই ঘটনাটি ঘটেছে নেত্রকোনা সদরের স্বাবলম্বী হাসপাতালের সামনের পাকা রাস্তার ওপর। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী সিএনজি চালক মোঃ সাইদুল ইসলাম (৪৫) বাদী হয়ে আপন মেজো ভাই মনসুর আলী ও ভাতিজা আনোয়ার হোসেনসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ করে নেত্রকোনা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। আহত সাইদুল ইসলাম আটপাড়া উপজেলার মাদল গ্রামের বাসিন্দা।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সাইদুল ইসলামের সাথে তাঁর মেজো ভাই মনসুর আলীর পৈতৃক ফসলি জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এই নিয়ে এলাকায় বহুবার সালিশ-বৈঠক হলেও মনসুর আলী ও তাঁর ছেলেরা কোনো সামাজিক সিদ্ধান্তের তোয়াক্কা করত না।
গত ২ জুন (২০২৬) বিকেলে সাইদুল ইসলাম প্রতিদিনের মতো সিএনজি চালিয়ে যাত্রী নামিয়ে দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। তিনি সদরের স্বাবলম্বী হাসপাতালের সামনে আসতেই ওত পেতে থাকা একদল হামলাকারী দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে তাঁর গাড়ির গতি রোধ করে।
গাড়ি থামানো মাত্রই ১ নম্বর আসামি মনসুর আলীর নির্দেশে তাঁর ছেলে আনোয়ার হোসেন লোহার রড উঁচিয়ে সরাসরি সাইদুলের মাথায় আঘাত করতে যায়। সাইদুল প্রাণ বাঁচাতে মাথা সরালে রডের আঘাতটি সরাসরি তাঁর মুখে এসে লাগে। মুহূর্তের মধ্যে তাঁর মুখের সামনের সারির ৪টি দাঁত ভেঙে রক্তে ভেসে যায় চারপাশ।
তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আবারও মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়, যা ঠেকাতে গিয়ে তাঁর বাম হাতের আঙুল ও হাড় মটকে যায়। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, সাইদুলকে যখন পেটানো হচ্ছিল, তখন মার্জিয়া, মনি ও ইসরাত নামের তিন নারীও বাঁশের লাঠি দিয়ে তাঁর সারা শরীর থেঁতলে দেয়। এই সুযোগে ভাতিজা আনোয়ার হোসেন রক্তাক্ত সাইদুলের পকেট থেকে সিএনজি চালিয়ে জমানো নগদ ২৩,০০০ (তেইশ হাজার) টাকা ছিনতাই করে নেয়।
সাইদুলের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এবং পথচারীরা বাঁচাতে ছুটে এলে, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র উঁচিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে রক্তাক্ত ও অজ্ঞান অবস্থায় সাইদুলকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা দ্রুত নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করান। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।
আপন ভাইয়ের এমন পৈশাচিক রূপ দেখে স্তম্ভিত এলাকাবাসী। এই খেটে খাওয়া মানুষটার ওপর যারা এমন বর্বরতা চালিয়েছে, তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সর্বস্তরের জনগণ।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম জানান, "আমরা এই সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

আপনার মতামত লিখুন