৩০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত বন্দি জলিল উদ্দিন মোল্যার বয়স এখন ৯৫ বছর। বার্ধক্যের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন তিনি। জলিলের মতো বয়স্ক ও অসুস্থ বন্দিদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে ব্যতিক্রমী এক মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে মাগুরা জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ।
প্রথমবারের মতো কারাগারের অভ্যন্তরে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষা কর্মসূচি।
গত মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে শুরু হওয়া এই বিশেষ কর্মসূচিতে প্রথম দফায় ৪৫ জন বন্দির বিভিন্ন ধরনের জটিল স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়া হয়।
কারা সূত্রে জানা গেছে, কর্মসূচির আওতায় বন্দিদের রক্তের লিপিড প্রোফাইল, সিরাম ক্রিয়েটিনিন, র্যান্ডম ব্লাড সুগার (আরবিএস), ইসিজিসহ (ECG) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা প্রতিটি বন্দির স্বাস্থ্যগত অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপত্র ও পরামর্শ প্রদান করেন।
চিকিৎসকদের মতে, কারাগারে থাকা অনেক বন্দি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুযোগ পান না। ফলে অনেক সময় ছোটখাটো শারীরিক সমস্যাও পরবর্তীতে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিণত হয়। এ ধরনের উদ্যোগ বন্দিদের গোপন বা জটিল রোগ দ্রুত শনাক্তকরণ ও সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কারাগারের এই বিশেষ স্বাস্থ্য কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মাগুরার সিভিল সার্জন ডা. শামীম কবির। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহসনি উদ্দিন ফকির, কারা হাসপাতালের সহকারী সার্জন ডা. এজাজ আহম্মেদ রোচি এবং নার্স বদিউজ্জামান।
উদ্বোধনকালে সিভিল সার্জন ডা. শামীম কবির বলেন, "স্বাস্থ্যসেবা প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার। একজন ব্যক্তি অপরাধের কারণে কারাগারে থাকলেও তিনি এই অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন না। বিশেষ করে বয়স্ক বন্দিদের ক্ষেত্রে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি, যাতে জটিল রোগ দ্রুত শনাক্ত করে সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া যায়।"
মাগুরা জেলা কারাগারের জেল সুপার শেখ মো. মহিউদ্দিন হায়দার জানান, এই কারাগারে অফিশিয়াল ধারণক্ষমতা মাত্র ১৭২ জন হলেও বর্তমানে এর দ্বিগুণেরও বেশি বন্দি এখানে অবস্থান করছেন। ফলে অতিরিক্ত বন্দির ভিড়ে বয়স্ক ও অসুস্থদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা কারা কর্তৃপক্ষের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরও বলেন, "মাননীয় কারা মহাপরিদর্শকের (আইজি প্রিজন) বিশেষ নির্দেশনায় এই স্বাস্থ্য পরীক্ষা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। বন্দিদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করছি। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালনা করার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।"
সংশ্লিষ্ট ও মানবাধিকার কর্মীদের মতে, কারাগারে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম জোরদার করা গেলে বন্দিদের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি কারাগারগুলো প্রকৃত অর্থেই সংশোধনাগার হিসেবে গড়ে উঠবে।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬
৩০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত বন্দি জলিল উদ্দিন মোল্যার বয়স এখন ৯৫ বছর। বার্ধক্যের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন তিনি। জলিলের মতো বয়স্ক ও অসুস্থ বন্দিদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে ব্যতিক্রমী এক মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে মাগুরা জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ।
প্রথমবারের মতো কারাগারের অভ্যন্তরে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষা কর্মসূচি।
গত মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে শুরু হওয়া এই বিশেষ কর্মসূচিতে প্রথম দফায় ৪৫ জন বন্দির বিভিন্ন ধরনের জটিল স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়া হয়।
কারা সূত্রে জানা গেছে, কর্মসূচির আওতায় বন্দিদের রক্তের লিপিড প্রোফাইল, সিরাম ক্রিয়েটিনিন, র্যান্ডম ব্লাড সুগার (আরবিএস), ইসিজিসহ (ECG) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা প্রতিটি বন্দির স্বাস্থ্যগত অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপত্র ও পরামর্শ প্রদান করেন।
চিকিৎসকদের মতে, কারাগারে থাকা অনেক বন্দি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুযোগ পান না। ফলে অনেক সময় ছোটখাটো শারীরিক সমস্যাও পরবর্তীতে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিণত হয়। এ ধরনের উদ্যোগ বন্দিদের গোপন বা জটিল রোগ দ্রুত শনাক্তকরণ ও সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কারাগারের এই বিশেষ স্বাস্থ্য কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মাগুরার সিভিল সার্জন ডা. শামীম কবির। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহসনি উদ্দিন ফকির, কারা হাসপাতালের সহকারী সার্জন ডা. এজাজ আহম্মেদ রোচি এবং নার্স বদিউজ্জামান।
উদ্বোধনকালে সিভিল সার্জন ডা. শামীম কবির বলেন, "স্বাস্থ্যসেবা প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার। একজন ব্যক্তি অপরাধের কারণে কারাগারে থাকলেও তিনি এই অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন না। বিশেষ করে বয়স্ক বন্দিদের ক্ষেত্রে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি, যাতে জটিল রোগ দ্রুত শনাক্ত করে সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া যায়।"
মাগুরা জেলা কারাগারের জেল সুপার শেখ মো. মহিউদ্দিন হায়দার জানান, এই কারাগারে অফিশিয়াল ধারণক্ষমতা মাত্র ১৭২ জন হলেও বর্তমানে এর দ্বিগুণেরও বেশি বন্দি এখানে অবস্থান করছেন। ফলে অতিরিক্ত বন্দির ভিড়ে বয়স্ক ও অসুস্থদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা কারা কর্তৃপক্ষের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরও বলেন, "মাননীয় কারা মহাপরিদর্শকের (আইজি প্রিজন) বিশেষ নির্দেশনায় এই স্বাস্থ্য পরীক্ষা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। বন্দিদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করছি। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালনা করার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।"
সংশ্লিষ্ট ও মানবাধিকার কর্মীদের মতে, কারাগারে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম জোরদার করা গেলে বন্দিদের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি কারাগারগুলো প্রকৃত অর্থেই সংশোধনাগার হিসেবে গড়ে উঠবে।

আপনার মতামত লিখুন