নজর বিডি
আপডেট : বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

পরিবার খুঁজতে নাকি পাসপোর্ট জালিয়াতির মিশন! রহিঙ্গা আটক

পরিবার খুঁজতে নাকি পাসপোর্ট জালিয়াতির মিশন! রহিঙ্গা আটক

নেত্রকোনা পৌর শহর থেকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মো. কারিম নামে এক সন্দেহভাজন রোহিঙ্গা যুবককে আটক করেছে পুলিশ। তার কাছ থেকে সৌদি আরবের একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং চট্টগ্রাম থেকে নেত্রকোনাগামী বাসের টিকিট উদ্ধার হওয়ায় তার পরিচয় ও বাংলাদেশে আসার উদ্দেশ্য নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।


পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (৬ জুন) চট্টগ্রাম থেকে ‘সোনার তরী’ পরিবহনের একটি বাসে নেত্রকোনায় আসেন ওই যুবক। পরে তিনি শহরের কোর্ট স্টেশন এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থান নেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তার গতিবিধির ওপর নজরদারি শুরু করে পুলিশ। সোমবার (৮ জুন) রাত ১০টার দিকে শহরের বড়বাজার এলাকার একটি চায়ের দোকান থেকে তাকে আটক করা হয়।


প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, কোনো দালাল চক্রের সহায়তায় ভুয়া পরিচয়ে বাংলাদেশি জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্ট তৈরির উদ্দেশ্যে তিনি নেত্রকোনায় এসেছিলেন। পরবর্তীতে ওই পাসপোর্ট ব্যবহার করে সৌদি আরব যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।


আটক মো. কারিম পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, তিনি পরিবারের সদস্যদের খোঁজে বাংলাদেশে এসেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, তার মা রোকিয়া সৌদি আরবে মারা গেছেন এবং বাবার নাম রফি। ছোটবেলা থেকে তিনি শুনে এসেছেন, তার মায়ের বাড়ি চট্টগ্রাম অঞ্চলে। সেই সূত্র ধরেই নিজের শিকড় ও আত্মীয়-স্বজনদের খুঁজে বের করতে বাংলাদেশে আসেন।


কারিম বলেন, “আমি চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও চকরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় পরিবারের খোঁজ করেছি। কিন্তু কাউকে খুঁজে পাইনি। নিজের প্রকৃত পরিচয় জানার জন্যই বাংলাদেশে এসেছি। পরিবারের কোনো তথ্য পেলে ভবিষ্যতে আইনগতভাবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের জন্য আবেদন করার সুযোগ হতে পারে।”


তিনি আরও দাবি করেন, সৌদি আরবে তাকে মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে অস্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়া হলেও তিনি কখনো মিয়ানমারে যাননি।


তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, একটি দালাল চক্রের মাধ্যমে ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে পাসপোর্ট তৈরির পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো দালাল চক্রের সদস্যকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।


এ বিষয়ে নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন সরকার বলেন, “আটক যুবককে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি বাংলাদেশের নাগরিক নন এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সদস্য হতে পারেন। তার দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


বর্তমানে আটক যুবকের প্রকৃত পরিচয়, বাংলাদেশে আসার উদ্দেশ্য এবং কোনো দালাল চক্রের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করছে পুলিশ। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই করা হচ্ছে।

বিষয় : পরিবার খুঁজতে নাকি পাসপোর্ট জালিয়াতির মিশন! রহিঙ্গা আটক

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


পরিবার খুঁজতে নাকি পাসপোর্ট জালিয়াতির মিশন! রহিঙ্গা আটক

প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬

featured Image

নেত্রকোনা পৌর শহর থেকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মো. কারিম নামে এক সন্দেহভাজন রোহিঙ্গা যুবককে আটক করেছে পুলিশ। তার কাছ থেকে সৌদি আরবের একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং চট্টগ্রাম থেকে নেত্রকোনাগামী বাসের টিকিট উদ্ধার হওয়ায় তার পরিচয় ও বাংলাদেশে আসার উদ্দেশ্য নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।


পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (৬ জুন) চট্টগ্রাম থেকে ‘সোনার তরী’ পরিবহনের একটি বাসে নেত্রকোনায় আসেন ওই যুবক। পরে তিনি শহরের কোর্ট স্টেশন এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থান নেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তার গতিবিধির ওপর নজরদারি শুরু করে পুলিশ। সোমবার (৮ জুন) রাত ১০টার দিকে শহরের বড়বাজার এলাকার একটি চায়ের দোকান থেকে তাকে আটক করা হয়।


প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, কোনো দালাল চক্রের সহায়তায় ভুয়া পরিচয়ে বাংলাদেশি জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্ট তৈরির উদ্দেশ্যে তিনি নেত্রকোনায় এসেছিলেন। পরবর্তীতে ওই পাসপোর্ট ব্যবহার করে সৌদি আরব যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।


আটক মো. কারিম পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, তিনি পরিবারের সদস্যদের খোঁজে বাংলাদেশে এসেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, তার মা রোকিয়া সৌদি আরবে মারা গেছেন এবং বাবার নাম রফি। ছোটবেলা থেকে তিনি শুনে এসেছেন, তার মায়ের বাড়ি চট্টগ্রাম অঞ্চলে। সেই সূত্র ধরেই নিজের শিকড় ও আত্মীয়-স্বজনদের খুঁজে বের করতে বাংলাদেশে আসেন।


কারিম বলেন, “আমি চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও চকরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় পরিবারের খোঁজ করেছি। কিন্তু কাউকে খুঁজে পাইনি। নিজের প্রকৃত পরিচয় জানার জন্যই বাংলাদেশে এসেছি। পরিবারের কোনো তথ্য পেলে ভবিষ্যতে আইনগতভাবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের জন্য আবেদন করার সুযোগ হতে পারে।”


তিনি আরও দাবি করেন, সৌদি আরবে তাকে মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে অস্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়া হলেও তিনি কখনো মিয়ানমারে যাননি।


তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, একটি দালাল চক্রের মাধ্যমে ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে পাসপোর্ট তৈরির পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো দালাল চক্রের সদস্যকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।


এ বিষয়ে নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন সরকার বলেন, “আটক যুবককে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি বাংলাদেশের নাগরিক নন এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সদস্য হতে পারেন। তার দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


বর্তমানে আটক যুবকের প্রকৃত পরিচয়, বাংলাদেশে আসার উদ্দেশ্য এবং কোনো দালাল চক্রের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করছে পুলিশ। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই করা হচ্ছে।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত