নজর বিডি

ফরিদপুরে দেশীয় অস্ত্র জমা দিলো ৩ গ্রামের মানুষ

ফরিদপুরে দেশীয় অস্ত্র জমা দিলো ৩ গ্রামের মানুষ

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় দাঙ্গা-কাইজ্জা পরিহার করে শান্তি, সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় নিজেদের ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র পুলিশ-প্রশাসনের কাছে জমা দিয়েছেন তিনটি গ্রামের বাসিন্দারা। 

গতকাল বুধবার (১০ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মাঝারদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ অস্ত্র জমা দেওয়া হয়।

উপজেলার মাঝারদিয়া, খলিশপট্টি ও মুরাটিয়া গ্রামের ২৫ জন বাসিন্দা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ২৩টি দেশীয় অস্ত্র জমা দেন। পরে অস্ত্র হস্তান্তরকারীদের প্রত্যেককে একটি করে রজনীগন্ধা ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায় সালথা থানা পুলিশ।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মুহাম্মদ আল ফাহাদ এবং সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন।

এছাড়াও মাঝারদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আফসার মাতুব্বর, সাবেক চেয়ারম্যান শাহিদুজ্জামান শাহিদ ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমানসহ স্থানীয় মাতব্বরেরা উপস্থিত ছিলেন।

ওসি মো. বাবলুর রহমান খান জানান, জমা পড়া অস্ত্রের মধ্যে ১০টি ঢাল ও ১৩টি সড়কি রয়েছে। যারা অস্ত্র জমা দিয়েছেন, তাঁদের কারও নামে কোনো মামলা নেই।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম বলেন:

"শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে জনগণের অংশগ্রহণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যারা স্বেচ্ছায় অস্ত্র জমা দিয়ে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছেন, তারা সমাজের জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।"

তিনি আরও উল্লেখ করেন, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার সমাজে সহিংসতা ও অস্থিরতা বাড়ায়। তাই নিরাপদ সমাজ গঠনে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

ওসি বাবলুর রহমান খান বলেন, "মূলত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের নির্দেশনায় ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আমরা এ কাজ করছি। এই এলাকায় আরও প্রচুর দেশীয় অস্ত্র রয়েছে, যা জমা পড়েছে তা খুবই নগণ্য। তবুও আমরা একটি প্রক্রিয়া শুরু করেছি। 

ধীরে ধীরে উপজেলার অন্য সংঘর্ষপ্রবণ ইউনিয়ন সোনাপুর ও গট্টি এলাকাতেও অস্ত্র উদ্ধারের এই কার্যক্রম চালানো হবে।" তবে এলাকার কিছু মাতব্বরের অসহযোগিতার কারণে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।

বিষয় : নজরবিডি সংবাদ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


ফরিদপুরে দেশীয় অস্ত্র জমা দিলো ৩ গ্রামের মানুষ

প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬

featured Image

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় দাঙ্গা-কাইজ্জা পরিহার করে শান্তি, সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় নিজেদের ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র পুলিশ-প্রশাসনের কাছে জমা দিয়েছেন তিনটি গ্রামের বাসিন্দারা। 

গতকাল বুধবার (১০ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মাঝারদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ অস্ত্র জমা দেওয়া হয়।

উপজেলার মাঝারদিয়া, খলিশপট্টি ও মুরাটিয়া গ্রামের ২৫ জন বাসিন্দা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ২৩টি দেশীয় অস্ত্র জমা দেন। পরে অস্ত্র হস্তান্তরকারীদের প্রত্যেককে একটি করে রজনীগন্ধা ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায় সালথা থানা পুলিশ।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মুহাম্মদ আল ফাহাদ এবং সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন।

এছাড়াও মাঝারদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আফসার মাতুব্বর, সাবেক চেয়ারম্যান শাহিদুজ্জামান শাহিদ ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমানসহ স্থানীয় মাতব্বরেরা উপস্থিত ছিলেন।

ওসি মো. বাবলুর রহমান খান জানান, জমা পড়া অস্ত্রের মধ্যে ১০টি ঢাল ও ১৩টি সড়কি রয়েছে। যারা অস্ত্র জমা দিয়েছেন, তাঁদের কারও নামে কোনো মামলা নেই।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম বলেন:

"শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে জনগণের অংশগ্রহণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যারা স্বেচ্ছায় অস্ত্র জমা দিয়ে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছেন, তারা সমাজের জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।"

তিনি আরও উল্লেখ করেন, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার সমাজে সহিংসতা ও অস্থিরতা বাড়ায়। তাই নিরাপদ সমাজ গঠনে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

ওসি বাবলুর রহমান খান বলেন, "মূলত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের নির্দেশনায় ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আমরা এ কাজ করছি। এই এলাকায় আরও প্রচুর দেশীয় অস্ত্র রয়েছে, যা জমা পড়েছে তা খুবই নগণ্য। তবুও আমরা একটি প্রক্রিয়া শুরু করেছি। 

ধীরে ধীরে উপজেলার অন্য সংঘর্ষপ্রবণ ইউনিয়ন সোনাপুর ও গট্টি এলাকাতেও অস্ত্র উদ্ধারের এই কার্যক্রম চালানো হবে।" তবে এলাকার কিছু মাতব্বরের অসহযোগিতার কারণে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত