নজর বিডি

দশমিনায় গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে প্রকাশ্যে নির্যাতন; স্বামী ও শ্বশুর গ্রেপ্তার

দশমিনায় গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে প্রকাশ্যে নির্যাতন; স্বামী ও শ্বশুর গ্রেপ্তার

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় লিপি আক্তার (২৭) নামে এক গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে প্রকাশ্যে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও শ্বশুরের বিরুদ্ধে। নির্যাতনের সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। 

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূর দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত স্বামী শাহ জামাল (৩৫) ও শ্বশুর মোসলেম মৃধাকে (৭০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গত বুধবার (১০ জুন) উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের চরহোসনাবাদ গ্রামে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, চলন্ত একটি ইঞ্জিনচালিত টমটমের ওপর লিপি আক্তারের হাত-পা বেঁধে নির্মমভাবে মারধর করা হচ্ছে। নির্যাতনের তীব্রতায় ওই নারী চিৎকার করছিলেন। তা দেখে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি টমটমটি থামিয়ে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলে অভিযুক্তদের সঙ্গে তাদের তুমুল বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা হেলাল মৃধা জানান, নারীর চিৎকার শুনে তারা কয়েকজন এগিয়ে গিয়ে টমটমটি আটকে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শাহ জামাল ও তার বাবা মোসলেম মৃধা তাদের ওপর চড়াও হন এবং মারধর করেন। এতে হেলাল মৃধা নিজেও মাথায় আঘাত পান। পরে স্থানীয়রা অভিযুক্ত পিতা-পুত্রকে আটকে রেখে পুলিশে সোপর্দ করে এবং গুরুতর আহত লিপি আক্তারকে উদ্ধার করে দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

ভুক্তভোগী লিপি আক্তারের অভিযোগ, তাদের সংসারে দুই ছেলে ও তিন মেয়ে সন্তান রয়েছে। এর মধ্যেই তার স্বামী শাহ জামাল দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুর মিলে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান: "প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকেই শাহ জামাল প্রথম স্ত্রীর ওপর নির্যাতন চালাচ্ছিলেন। ঘটনার দিনও তাকে মারধর করে, হাত-পা বেঁধে স্বামী ও শ্বশুর কোথাও নিয়ে যাচ্ছিলেন। 

খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তদের আটক এবং নির্যাতনের শিকার নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।"

বিষয় : নজরবিডি সংবাদ পটুয়াখালী, দশমিনা, গৃহবধূ নির্যাতন, ভাইরাল ভিডিও, গ্রেপ্তার, পুলিশ, পারিবারিক সহিংসতা, Patuakhali, Dashmina, Housewife Torture, Viral Video, Arrested, Police, Domestic Violence

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


দশমিনায় গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে প্রকাশ্যে নির্যাতন; স্বামী ও শ্বশুর গ্রেপ্তার

প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬

featured Image

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় লিপি আক্তার (২৭) নামে এক গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে প্রকাশ্যে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও শ্বশুরের বিরুদ্ধে। নির্যাতনের সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। 

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূর দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত স্বামী শাহ জামাল (৩৫) ও শ্বশুর মোসলেম মৃধাকে (৭০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গত বুধবার (১০ জুন) উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের চরহোসনাবাদ গ্রামে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, চলন্ত একটি ইঞ্জিনচালিত টমটমের ওপর লিপি আক্তারের হাত-পা বেঁধে নির্মমভাবে মারধর করা হচ্ছে। নির্যাতনের তীব্রতায় ওই নারী চিৎকার করছিলেন। তা দেখে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি টমটমটি থামিয়ে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলে অভিযুক্তদের সঙ্গে তাদের তুমুল বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা হেলাল মৃধা জানান, নারীর চিৎকার শুনে তারা কয়েকজন এগিয়ে গিয়ে টমটমটি আটকে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শাহ জামাল ও তার বাবা মোসলেম মৃধা তাদের ওপর চড়াও হন এবং মারধর করেন। এতে হেলাল মৃধা নিজেও মাথায় আঘাত পান। পরে স্থানীয়রা অভিযুক্ত পিতা-পুত্রকে আটকে রেখে পুলিশে সোপর্দ করে এবং গুরুতর আহত লিপি আক্তারকে উদ্ধার করে দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

ভুক্তভোগী লিপি আক্তারের অভিযোগ, তাদের সংসারে দুই ছেলে ও তিন মেয়ে সন্তান রয়েছে। এর মধ্যেই তার স্বামী শাহ জামাল দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুর মিলে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান: "প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকেই শাহ জামাল প্রথম স্ত্রীর ওপর নির্যাতন চালাচ্ছিলেন। ঘটনার দিনও তাকে মারধর করে, হাত-পা বেঁধে স্বামী ও শ্বশুর কোথাও নিয়ে যাচ্ছিলেন। 

খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তদের আটক এবং নির্যাতনের শিকার নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।"


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত