আলু সংরক্ষণের ভাড়া কমানোর দাবিতে হিমাগার থেকে আলু বেচাকেনা বন্ধ রেখেছেন আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা। এর ফলে রাজশাহী জেলার ৩৬টি হিমাগারে গত দুই দিন ধরে আলু বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে, যার কারণে জেলার আলু সরবরাহ ও বিপণন ব্যবস্থায় এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
ব্যবসায়ী ও চাষিদের দাবি, হিমাগারের প্রকৃত খরচ বিবেচনা করে যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ করতে হবে। তা না হলে উৎপাদন ও সংরক্ষণ খরচ বৃদ্ধির কারণে ভোক্তা পর্যায়ে আলুর বাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। অন্যদিকে, হিমাগার মালিকদের দাবি—বিদ্যুৎ, শ্রমিক ও পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাড়া বাড়ানো ছাড়া তাদের উপায় ছিল না।
আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে রাজশাহীর পবা উপজেলার 'সরকার কোল্ড স্টোরেজ' ও 'উত্তরা কোল্ড স্টোরেজ'-এ গিয়ে দেখা যায়, হিমাগার থেকে আলু বের করার সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে যেখানে আলু কেনাবেচা, লোড-আনলোড ও পরিবহনের ব্যস্ততা থাকে, সেখানে আন্দোলনের কারণে এখন সুনসান নীরবতা ও স্থবিরতা বিরাজ করছে।
আলুচাষিদের এই আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছে রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি। আগের দিন এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তারা এই আলু বর্জনের কর্মসূচি ঘোষণা করে।
রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি আহাদ আলী শাহ বলেন, "এক বস্তা আলু হিমাগারে রাখতে মালিকপক্ষের সর্বোচ্চ খরচ হয় ১০০ টাকা। কিন্তু চাষি ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৪৭৫ টাকা, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। জেলায় ৩৬টি হিমাগার থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩৬ হাজার বস্তা আলু বাজারে যাওয়ার কথা থাকলেও আন্দোলনের কারণে সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।" সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম ডনি জানান, ২০২৪ সালে যে ভাড়া ছিল ২৫০ টাকা, তা এখন বাড়িয়ে প্রায় ৫০০ টাকা করা হয়েছে। তারা আলোচনার মাধ্যমে যৌক্তিক ভাড়া চান।
আসমা কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য খন্দকার আউলিয়া রাজিব ওয়াহিদ জানান, গত বছরও ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে আন্দোলনের পর সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে ছাড় দিয়ে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে এবার বিদ্যুৎ বিল ও শ্রমিক খরচসহ সামগ্রিক পরিচালন ব্যয় অনেক বেড়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়েই ভাড়া বাড়াতে হয়েছে।
রাজশাহী জেলা মার্কেটিং অফিসার সানোয়ার হোসেন বলেন, "ব্যবসায়ীরা সরকারি প্রজ্ঞাপনের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম ভাড়ায় আলু রাখতে চান। সরকার এখনো এই মৌসুমের জন্য আলুর মূল্য নির্ধারণ করে দেয়নি। মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে কে বেচাকেনা করবে বা করবে না, তা প্রশাসনিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।"
ব্যবসায়ীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, হিমাগারের ভাড়া যৌক্তিক পর্যায়ে না নামানো পর্যন্ত তাদের এই আন্দোলন ও আলু বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬
আলু সংরক্ষণের ভাড়া কমানোর দাবিতে হিমাগার থেকে আলু বেচাকেনা বন্ধ রেখেছেন আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা। এর ফলে রাজশাহী জেলার ৩৬টি হিমাগারে গত দুই দিন ধরে আলু বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে, যার কারণে জেলার আলু সরবরাহ ও বিপণন ব্যবস্থায় এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
ব্যবসায়ী ও চাষিদের দাবি, হিমাগারের প্রকৃত খরচ বিবেচনা করে যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ করতে হবে। তা না হলে উৎপাদন ও সংরক্ষণ খরচ বৃদ্ধির কারণে ভোক্তা পর্যায়ে আলুর বাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। অন্যদিকে, হিমাগার মালিকদের দাবি—বিদ্যুৎ, শ্রমিক ও পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাড়া বাড়ানো ছাড়া তাদের উপায় ছিল না।
আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে রাজশাহীর পবা উপজেলার 'সরকার কোল্ড স্টোরেজ' ও 'উত্তরা কোল্ড স্টোরেজ'-এ গিয়ে দেখা যায়, হিমাগার থেকে আলু বের করার সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে যেখানে আলু কেনাবেচা, লোড-আনলোড ও পরিবহনের ব্যস্ততা থাকে, সেখানে আন্দোলনের কারণে এখন সুনসান নীরবতা ও স্থবিরতা বিরাজ করছে।
আলুচাষিদের এই আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছে রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি। আগের দিন এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তারা এই আলু বর্জনের কর্মসূচি ঘোষণা করে।
রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি আহাদ আলী শাহ বলেন, "এক বস্তা আলু হিমাগারে রাখতে মালিকপক্ষের সর্বোচ্চ খরচ হয় ১০০ টাকা। কিন্তু চাষি ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৪৭৫ টাকা, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। জেলায় ৩৬টি হিমাগার থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩৬ হাজার বস্তা আলু বাজারে যাওয়ার কথা থাকলেও আন্দোলনের কারণে সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।" সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম ডনি জানান, ২০২৪ সালে যে ভাড়া ছিল ২৫০ টাকা, তা এখন বাড়িয়ে প্রায় ৫০০ টাকা করা হয়েছে। তারা আলোচনার মাধ্যমে যৌক্তিক ভাড়া চান।
আসমা কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য খন্দকার আউলিয়া রাজিব ওয়াহিদ জানান, গত বছরও ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে আন্দোলনের পর সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে ছাড় দিয়ে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে এবার বিদ্যুৎ বিল ও শ্রমিক খরচসহ সামগ্রিক পরিচালন ব্যয় অনেক বেড়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়েই ভাড়া বাড়াতে হয়েছে।
রাজশাহী জেলা মার্কেটিং অফিসার সানোয়ার হোসেন বলেন, "ব্যবসায়ীরা সরকারি প্রজ্ঞাপনের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম ভাড়ায় আলু রাখতে চান। সরকার এখনো এই মৌসুমের জন্য আলুর মূল্য নির্ধারণ করে দেয়নি। মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে কে বেচাকেনা করবে বা করবে না, তা প্রশাসনিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।"
ব্যবসায়ীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, হিমাগারের ভাড়া যৌক্তিক পর্যায়ে না নামানো পর্যন্ত তাদের এই আন্দোলন ও আলু বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন