শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় বিষধর সাপের কামড়ে ইফাত মিয়া (১৩) নামে এক মাদরাসাছাত্রের করুণ মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) জুমার নামাজের আগে পুকুরে গোসল করতে গিয়ে এই ঘটনা ঘটে। সাপে কাটার পর সময়মতো হাসপাতালে না নিয়ে প্রথমে স্থানীয়ভাবে ওঝার কাছে ঝাড়ফুঁক ও পাথরের মাধ্যমে অপচিকিৎসা দেওয়ায় সময় নষ্ট হয়। আর এই অসচেতনতার কারণেই ছেলেটির মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ ও চিকিৎসকেরা।
মৃত ইফাত মিয়া উপজেলার নয়াবিল ইউনিয়নের নামা হাতিপাগাড় এলাকার দেলোয়ার হোসেন দেলু মিয়ার ছেলে। সে স্থানীয় আরাইআনি মাখরজুল কিবলা ইসলামিয়া মাদরাসার ছাত্র ছিল।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের আগে ইফাত তার বন্ধুদের সঙ্গে বাড়ির পাশের পুকুরে গোসল করতে যায়। পুকুর ঘাটে নামার সময় হঠাৎ একটি বিষধর সাপ তার পায়ে কামড় দেয়। ইফাত দ্রুত বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায়।
ইফাতের বাবা দেলোয়ার হোসেন দেলু বলেন, “ছেলে এসে সাপে কাটার কথা বললে আমি প্রথমে তার পায়ে একটি বাঁধ দেই। এরপর দ্রুত নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে না নিয়ে আমাদের এলাকার একটি মিশনে নিয়ে যাই। সেখানে ওঝা বা কবিরাজ পাথর দিয়ে বিষ নামানোর অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসা শুরু করে।”
তিনি আরও বলেন, “কিছুক্ষণ পর ছেলে বলে সে ভালো অনুভব করছে। ওঝার কথায় তখন পায়ের বাঁধনটি খুলে দেওয়া হয়। এরপর তাকে ভর্তি করানোর জন্য আমি কিছু সময়ের জন্য বাড়িতে যাই। প্রায় এক ঘণ্টা পর এসে দেখি তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। পরে দ্রুত তাকে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।”
নালিতাবাড়ী থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ও নয়াবিল ইউনিয়নের সহকারী বিট অফিসার হাসিম বলেন, “দুপুরে সাপে কাটার পর ছেলেটিকে সরাসরি হাসপাতালে না নিয়ে ঝাড়ফুঁকের জন্য অন্যত্র নেওয়া হয়েছে। অপচিকিৎসায় মূল্যবান সময় নষ্ট করার কারণেই শেষ পর্যন্ত বিষ শরীরে ছড়িয়ে তার মৃত্যু হয়।”
নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. হুমায়ুন নূর বলেন, “রোগীকে আমাদের হাসপাতালে আনার অনেক আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। সাপে কাটার পর ওঝা-কবিরাজের কাছে গিয়ে সময় নষ্ট না করে সরাসরি হাসপাতালে নিয়ে ‘অ্যান্টিভেনম’ দিলে হয়তো ছেলেটিকে বাঁচানো যেত। আমরা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছি।
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ সাপে কাটা রোগী, সাপের কামড়ে মৃত্যু, শেরপুর নিউজ, নালিতাবাড়ী, মাদরাসাছাত্রের মৃত্যু, ঝাড়ফুঁক অপচিকিৎসা, ওঝার ঝাড়ফুঁক, নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সচেতনতামূলক সংবাদ, রাসেলস ভাইপার Snake bite death, Madrasa student dies, Sherpur news, Nalitabari, Superstition snake bite, Ojhajhar fuk, Nalitabari hospital, Anti venom Bangladesh, Snake bite awareness

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় বিষধর সাপের কামড়ে ইফাত মিয়া (১৩) নামে এক মাদরাসাছাত্রের করুণ মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) জুমার নামাজের আগে পুকুরে গোসল করতে গিয়ে এই ঘটনা ঘটে। সাপে কাটার পর সময়মতো হাসপাতালে না নিয়ে প্রথমে স্থানীয়ভাবে ওঝার কাছে ঝাড়ফুঁক ও পাথরের মাধ্যমে অপচিকিৎসা দেওয়ায় সময় নষ্ট হয়। আর এই অসচেতনতার কারণেই ছেলেটির মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ ও চিকিৎসকেরা।
মৃত ইফাত মিয়া উপজেলার নয়াবিল ইউনিয়নের নামা হাতিপাগাড় এলাকার দেলোয়ার হোসেন দেলু মিয়ার ছেলে। সে স্থানীয় আরাইআনি মাখরজুল কিবলা ইসলামিয়া মাদরাসার ছাত্র ছিল।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের আগে ইফাত তার বন্ধুদের সঙ্গে বাড়ির পাশের পুকুরে গোসল করতে যায়। পুকুর ঘাটে নামার সময় হঠাৎ একটি বিষধর সাপ তার পায়ে কামড় দেয়। ইফাত দ্রুত বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায়।
ইফাতের বাবা দেলোয়ার হোসেন দেলু বলেন, “ছেলে এসে সাপে কাটার কথা বললে আমি প্রথমে তার পায়ে একটি বাঁধ দেই। এরপর দ্রুত নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে না নিয়ে আমাদের এলাকার একটি মিশনে নিয়ে যাই। সেখানে ওঝা বা কবিরাজ পাথর দিয়ে বিষ নামানোর অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসা শুরু করে।”
তিনি আরও বলেন, “কিছুক্ষণ পর ছেলে বলে সে ভালো অনুভব করছে। ওঝার কথায় তখন পায়ের বাঁধনটি খুলে দেওয়া হয়। এরপর তাকে ভর্তি করানোর জন্য আমি কিছু সময়ের জন্য বাড়িতে যাই। প্রায় এক ঘণ্টা পর এসে দেখি তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। পরে দ্রুত তাকে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।”
নালিতাবাড়ী থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ও নয়াবিল ইউনিয়নের সহকারী বিট অফিসার হাসিম বলেন, “দুপুরে সাপে কাটার পর ছেলেটিকে সরাসরি হাসপাতালে না নিয়ে ঝাড়ফুঁকের জন্য অন্যত্র নেওয়া হয়েছে। অপচিকিৎসায় মূল্যবান সময় নষ্ট করার কারণেই শেষ পর্যন্ত বিষ শরীরে ছড়িয়ে তার মৃত্যু হয়।”
নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. হুমায়ুন নূর বলেন, “রোগীকে আমাদের হাসপাতালে আনার অনেক আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। সাপে কাটার পর ওঝা-কবিরাজের কাছে গিয়ে সময় নষ্ট না করে সরাসরি হাসপাতালে নিয়ে ‘অ্যান্টিভেনম’ দিলে হয়তো ছেলেটিকে বাঁচানো যেত। আমরা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছি।

আপনার মতামত লিখুন