নজর বিডি

ভুক্তভোগীকে ‘তুলে নেওয়ার’ অভিযোগ,

কুমিল্লায় শিবির নেতার নিখোঁজ ও ধর্ষণ মামলা

কুমিল্লায় শিবির নেতার নিখোঁজ ও ধর্ষণ মামলা

ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি জিসান মিয়া প্রধানের নিখোঁজ হওয়া এবং বিয়ের প্রলোভনে এক বিধবাকে ধর্ষণের ঘটনা ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন রহস্য। 

ধর্ষণের অভিযোগ তোলা ওই নারীকে (২৫) গতকাল শুক্রবার বিকেলে বাড়ি থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন তার বোন। তবে পুলিশ এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।

শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে ভুক্তভোগী নারীর বোন সংবাদমাধ্যমকে জানান, শুক্রবার বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে ১৫-২০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে তার বোন ও তাঁর শিশুকে তুলে নিয়ে যায়।

তিনি বলেন, "আমার বাবা একজন স্ট্রোকের রোগী। লোকগুলো এসে মোবাইল কেড়ে নেয় এবং আমাদের পরিবারের কাউকে সঙ্গে যেতে দেয়নি। তারা কারা ছিল, কোথায় নিয়ে যাচ্ছিল কিছুই বলেনি। পরে রাত ৮টার দিকে আমরা খবর পাই আমার বোন ও তার ছেলেকে থানায় নেওয়া হয়েছে। তখন আমার বাবা ও চাচা থানায় যান এবং আমরা আইনের আশ্রয় নিই।"

এদিকে, শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান ভুক্তভোগীকে তুলে নেওয়ার অভিযোগটি নাকচ করে দেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "আমরা কোনো মেয়েকে তুলি নাই। মেয়েটা থানায় অভিযোগ করতে এসেছিল এবং সে অভিযোগ দিয়েছে।" এই বক্তব্য দিয়েই তিনি সংবাদ সম্মেলন সমাপ্ত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আরও জানান, উদ্ধার হওয়া শিবির নেতা জিসান মিয়া প্রধান বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী তিনি পুরোপুরি সুস্থ আছেন এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেলেই তাকে আদালতে তোলা হবে। বর্তমানে তার নিরাপত্তায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

তবে শনিবার সন্ধ্যায় জিসানের ভাই রাসেল রাফি দাবি করেন, "জিসান বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। আমরা অনুমতি নিয়ে দেখা করতে গিয়ে দেখি তিনি ঘুমাচ্ছেন। আমাদের ধারণা, তাকে ঘুমের ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে তার সঙ্গে সরাসরি কথা না বলা পর্যন্ত আমরা কিছুই বলতে পারছি না।"

এ বিষয়ে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. শাহজাহানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত থেকে শিবির নেতা জিসান মিয়া প্রধান নিখোঁজ হন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় জিডি করা হয়েছিল। পরে শুক্রবার রাতে লাকসাম জংশন এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ সুপার জানান, ২৫ বছর বয়সী এক বিধবা নারী বাদী হয়ে জিসানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ৫-৬ মাস আগে ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে জিসানের সঙ্গে ওই নারীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ২০ মে দাউদকান্দির একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে ওই নারীকে ধর্ষণ করেন জিসান। পরবর্তীতে ওই নারী গর্ভবতী হয়ে পড়লে জিসান ও তার চাচাতো ভাই সজীবের পাঠানো ওষুধ খেয়ে ভুক্তভোগীর ভ্রূণ নষ্ট হয়।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, গতকাল শুক্রবার (১২ জুন) জিসানের সঙ্গে ওই নারীর বিয়ের কথা ছিল। কিন্তু বিয়ে এড়াতেই বৃহস্পতিবার রাতে জিসান নিজের 'নিখোঁজ' হওয়ার নাটক সাজিয়ে আত্মগোপন করেছিলেন বলে দাবি পুলিশের।

বিষয় : নজরবিডি সংবাদ কুমিল্লা সংবাদ, শিবির নেতা জিসান, জিসান মিয়া প্রধান, ধর্ষণ মামলা কুমিল্লা, পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান, নিখোঁজ নাটক, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ, লাকসাম জংশন Cumilla News, Shibir Leader Zisan, Zisan Miah Prodhan, Cumilla Rape Case, SP Anisuzzaman, Islamic Chhatra Shibir, Cumilla Crime News, Shibir Leader Arrested

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


কুমিল্লায় শিবির নেতার নিখোঁজ ও ধর্ষণ মামলা

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬

featured Image

ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি জিসান মিয়া প্রধানের নিখোঁজ হওয়া এবং বিয়ের প্রলোভনে এক বিধবাকে ধর্ষণের ঘটনা ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন রহস্য। 

ধর্ষণের অভিযোগ তোলা ওই নারীকে (২৫) গতকাল শুক্রবার বিকেলে বাড়ি থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন তার বোন। তবে পুলিশ এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।

শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে ভুক্তভোগী নারীর বোন সংবাদমাধ্যমকে জানান, শুক্রবার বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে ১৫-২০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে তার বোন ও তাঁর শিশুকে তুলে নিয়ে যায়।

তিনি বলেন, "আমার বাবা একজন স্ট্রোকের রোগী। লোকগুলো এসে মোবাইল কেড়ে নেয় এবং আমাদের পরিবারের কাউকে সঙ্গে যেতে দেয়নি। তারা কারা ছিল, কোথায় নিয়ে যাচ্ছিল কিছুই বলেনি। পরে রাত ৮টার দিকে আমরা খবর পাই আমার বোন ও তার ছেলেকে থানায় নেওয়া হয়েছে। তখন আমার বাবা ও চাচা থানায় যান এবং আমরা আইনের আশ্রয় নিই।"

এদিকে, শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান ভুক্তভোগীকে তুলে নেওয়ার অভিযোগটি নাকচ করে দেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "আমরা কোনো মেয়েকে তুলি নাই। মেয়েটা থানায় অভিযোগ করতে এসেছিল এবং সে অভিযোগ দিয়েছে।" এই বক্তব্য দিয়েই তিনি সংবাদ সম্মেলন সমাপ্ত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আরও জানান, উদ্ধার হওয়া শিবির নেতা জিসান মিয়া প্রধান বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী তিনি পুরোপুরি সুস্থ আছেন এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেলেই তাকে আদালতে তোলা হবে। বর্তমানে তার নিরাপত্তায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

তবে শনিবার সন্ধ্যায় জিসানের ভাই রাসেল রাফি দাবি করেন, "জিসান বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। আমরা অনুমতি নিয়ে দেখা করতে গিয়ে দেখি তিনি ঘুমাচ্ছেন। আমাদের ধারণা, তাকে ঘুমের ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে তার সঙ্গে সরাসরি কথা না বলা পর্যন্ত আমরা কিছুই বলতে পারছি না।"

এ বিষয়ে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. শাহজাহানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত থেকে শিবির নেতা জিসান মিয়া প্রধান নিখোঁজ হন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় জিডি করা হয়েছিল। পরে শুক্রবার রাতে লাকসাম জংশন এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ সুপার জানান, ২৫ বছর বয়সী এক বিধবা নারী বাদী হয়ে জিসানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ৫-৬ মাস আগে ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে জিসানের সঙ্গে ওই নারীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ২০ মে দাউদকান্দির একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে ওই নারীকে ধর্ষণ করেন জিসান। পরবর্তীতে ওই নারী গর্ভবতী হয়ে পড়লে জিসান ও তার চাচাতো ভাই সজীবের পাঠানো ওষুধ খেয়ে ভুক্তভোগীর ভ্রূণ নষ্ট হয়।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, গতকাল শুক্রবার (১২ জুন) জিসানের সঙ্গে ওই নারীর বিয়ের কথা ছিল। কিন্তু বিয়ে এড়াতেই বৃহস্পতিবার রাতে জিসান নিজের 'নিখোঁজ' হওয়ার নাটক সাজিয়ে আত্মগোপন করেছিলেন বলে দাবি পুলিশের।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত