নজর বিডি

লালমনিরহাটে আলোচিত উজ্জ্বল হত্যা মামলার ৩ আসামি গ্রেপ্তার

লালমনিরহাটে আলোচিত উজ্জ্বল হত্যা মামলার ৩ আসামি গ্রেপ্তার

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় দিনে-দুপুরে কুপিয়ে জখম করার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া যুবক মো. উজ্জ্বল মিয়া (২৮) হত্যাকাণ্ডের এজাহারভুক্ত ৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

শনিবার (১৩ জুন) আদিতমারী থানা পুলিশ ও র‍্যাবের একটি যৌথ দল বিশেষ অভিযান চালিয়ে রংপুর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন— মো. ফজলু হক (৪২), মোছা. ছকিনা বেগম (৩৮) ও মোছা. লাইলী বেগম (৫০)।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে লালমনিরহাট শহরের মিশন মোড়ে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে বিক্ষুব্ধ জনতা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়ে দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। ওই মানববন্ধনে অংশ নিয়েছিলেন নিহত উজ্জ্বলের ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধা মা রহিমা বেওয়া, তার দুই অবুঝ কন্যাসন্তান ও স্ত্রী। এ সময় নিহতের মা, সন্তান ও স্ত্রীর আহাজারিতে মিশন মোড় এলাকার বাতাস ভারী হয়ে ওঠে এবং দ্রুত অপরাধীদের ফাঁসির দাবি জানান এলাকাবাসী।

মামলার অভিযোগ ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুন সকাল আনুমানিক ৯টার সময় আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের তালুক দুলালী বারোঘড়ি গ্রামে নিজ বসতবাড়ির গেটের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন উজ্জ্বল মিয়া। এ সময় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তার চাচাতো ভাই মো. আলমগীর হোসেন (আনন্দ) রামদা নিয়ে এসে পেছন থেকে হঠাৎ উজ্জ্বলকে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন। ধারালো অস্ত্রের নির্মম আঘাতে উজ্জ্বলের বাম হাত ও বাম পায়ের হাঁটুর ওপরের অংশ গুরুতর জখম হয় এবং রগ কেটে যায়। এরপর আরও কয়েকজন আসামি লাঠিসোঁটা ও ধারালো ছোরা নিয়ে উজ্জ্বলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তার শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করার চেষ্টা চালায়।

পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় উজ্জ্বলকে উদ্ধার করে প্রথমে আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরবর্তীতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে অবস্থার আরও অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গত ৭ জুন দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ১০ মিনিটে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন উজ্জ্বল।

নিহতের মা রহিমা বেওয়া বলেন, "ঘটনার দিন বিকেলেই আমরা আদিতমারী থানায় হামলাকারীদের নাম বিস্তারিত জানিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছিলাম। আমরা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার ও মূল আসামিদের ফাঁসি চাই।"

আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "উজ্জ্বল হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীসহ মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের পুলিশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে।"

বিষয় : নজরবিডি সংবাদ উজ্জ্বল হত্যা মামলা, লালমনিরহাট অপরাধ, আদিতমারী থানা, র‍্যাব অভিযান, আসামি গ্রেপ্তার, মানববন্ধন, হত্যাকাণ্ড, জেলা সংবাদ Ujjwal Murder Case, Lalmonirhat Crime, Aditmari Thana, RAB Drive, Arrested, Human Chain, Murder News, Local News Bangladesh

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


লালমনিরহাটে আলোচিত উজ্জ্বল হত্যা মামলার ৩ আসামি গ্রেপ্তার

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬

featured Image

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় দিনে-দুপুরে কুপিয়ে জখম করার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া যুবক মো. উজ্জ্বল মিয়া (২৮) হত্যাকাণ্ডের এজাহারভুক্ত ৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

শনিবার (১৩ জুন) আদিতমারী থানা পুলিশ ও র‍্যাবের একটি যৌথ দল বিশেষ অভিযান চালিয়ে রংপুর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন— মো. ফজলু হক (৪২), মোছা. ছকিনা বেগম (৩৮) ও মোছা. লাইলী বেগম (৫০)।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে লালমনিরহাট শহরের মিশন মোড়ে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে বিক্ষুব্ধ জনতা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়ে দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। ওই মানববন্ধনে অংশ নিয়েছিলেন নিহত উজ্জ্বলের ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধা মা রহিমা বেওয়া, তার দুই অবুঝ কন্যাসন্তান ও স্ত্রী। এ সময় নিহতের মা, সন্তান ও স্ত্রীর আহাজারিতে মিশন মোড় এলাকার বাতাস ভারী হয়ে ওঠে এবং দ্রুত অপরাধীদের ফাঁসির দাবি জানান এলাকাবাসী।

মামলার অভিযোগ ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুন সকাল আনুমানিক ৯টার সময় আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের তালুক দুলালী বারোঘড়ি গ্রামে নিজ বসতবাড়ির গেটের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন উজ্জ্বল মিয়া। এ সময় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তার চাচাতো ভাই মো. আলমগীর হোসেন (আনন্দ) রামদা নিয়ে এসে পেছন থেকে হঠাৎ উজ্জ্বলকে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন। ধারালো অস্ত্রের নির্মম আঘাতে উজ্জ্বলের বাম হাত ও বাম পায়ের হাঁটুর ওপরের অংশ গুরুতর জখম হয় এবং রগ কেটে যায়। এরপর আরও কয়েকজন আসামি লাঠিসোঁটা ও ধারালো ছোরা নিয়ে উজ্জ্বলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তার শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করার চেষ্টা চালায়।

পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় উজ্জ্বলকে উদ্ধার করে প্রথমে আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরবর্তীতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে অবস্থার আরও অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গত ৭ জুন দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ১০ মিনিটে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন উজ্জ্বল।

নিহতের মা রহিমা বেওয়া বলেন, "ঘটনার দিন বিকেলেই আমরা আদিতমারী থানায় হামলাকারীদের নাম বিস্তারিত জানিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছিলাম। আমরা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার ও মূল আসামিদের ফাঁসি চাই।"

আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "উজ্জ্বল হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীসহ মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের পুলিশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে।"


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত