সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা কথিত মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার, শেখ তুহিনের অবৈধ সম্পদের উৎস অনুসন্ধানে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্তৃক জরুরি তদন্ত এবং তাকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে গোপালগঞ্জে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত বুধবার (১০ জুন) দুপুরে ‘প্রেসক্লাব গোপালগঞ্জ’-এর সামনের প্রধান সড়কে জেলার বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
প্রেসক্লাব গোপালগঞ্জের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে গণমাধ্যমকর্মীদের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন সামাজিক, পেশাজীবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও অংশ নিয়ে সংহতি প্রকাশ করেন।
মানববন্ধনে উপস্থিত ক্ষুব্ধ বক্তারা বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতা ও সত্য প্রকাশের কণ্ঠরোধ করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পরিকল্পিতভাবে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে একের পর এক ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করা হচ্ছে। এ ধরনের অপকৌশল গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং স্বাধীন মতপ্রকাশের সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থি।
তারা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত শেখ তুহিনের নামে-বেনামে দেশ-বিদেশে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় জনমনে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এসব সম্পদের আসল উৎস ও বৈধতা যাচাইয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে দ্রুত একটি নিরপেক্ষ ও কঠোর তদন্ত পরিচালনার দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে গুরুতর এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোরালো আহ্বান জানানো হয়।
সাংবাদিক নেতারা হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, “মামলা-হামলা দিয়ে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের কোনো অপচেষ্টা কখনো সফল হবে না। সত্য, ন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাংবাদিক সমাজ সবসময় ঐক্যবদ্ধ থাকবে।” তারা মাঠপর্যায়ের গণমাধ্যমকর্মীদের সব ধরনের হয়রানি বন্ধ এবং এর পেছনে জড়িত মূল উস্কানিদাতাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিক ও সাধারণ জনতা বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে তাঁদের দাবির প্রতি তীব্র সংহতি প্রকাশ করেন এবং বিষয়টিতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারের সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সমগ্র অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সঞ্চালনা করেন আরমান খান জয়। এ সময় মানববন্ধনে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন—প্রেসক্লাব গোপালগঞ্জের সভাপতি মো. জুবায়ের হোসেন, গোপালগঞ্জ জেলা প্রিন্ট মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদার, জেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আরিফুল হক আরিফ, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মামুনুর রশিদ জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক (গোপ্রিমিজাএ) পলাশ শিকদার, আরিফুল রশিদ, মেহেদী হাসান এবং বিশ্বজিৎ চন্দ্র সরকারসহ আরও অনেকে।
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ গোপালগঞ্জ সংবাদ, সাংবাদিকদের মানববন্ধন, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, শেখ তুহিন, দুদক তদন্ত, প্রেসক্লাব গোপালগঞ্জ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, জেলা সংবাদ Gopalganj News, Journalists Protest, Withdraw False Case, Sheikh Tuhin, ACC Investigation, Gopalganj Press Club, Freedom of Media, Local News Bangladesh

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা কথিত মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার, শেখ তুহিনের অবৈধ সম্পদের উৎস অনুসন্ধানে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্তৃক জরুরি তদন্ত এবং তাকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে গোপালগঞ্জে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত বুধবার (১০ জুন) দুপুরে ‘প্রেসক্লাব গোপালগঞ্জ’-এর সামনের প্রধান সড়কে জেলার বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
প্রেসক্লাব গোপালগঞ্জের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে গণমাধ্যমকর্মীদের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন সামাজিক, পেশাজীবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও অংশ নিয়ে সংহতি প্রকাশ করেন।
মানববন্ধনে উপস্থিত ক্ষুব্ধ বক্তারা বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতা ও সত্য প্রকাশের কণ্ঠরোধ করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পরিকল্পিতভাবে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে একের পর এক ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করা হচ্ছে। এ ধরনের অপকৌশল গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং স্বাধীন মতপ্রকাশের সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থি।
তারা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত শেখ তুহিনের নামে-বেনামে দেশ-বিদেশে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় জনমনে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এসব সম্পদের আসল উৎস ও বৈধতা যাচাইয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে দ্রুত একটি নিরপেক্ষ ও কঠোর তদন্ত পরিচালনার দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে গুরুতর এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোরালো আহ্বান জানানো হয়।
সাংবাদিক নেতারা হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, “মামলা-হামলা দিয়ে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের কোনো অপচেষ্টা কখনো সফল হবে না। সত্য, ন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাংবাদিক সমাজ সবসময় ঐক্যবদ্ধ থাকবে।” তারা মাঠপর্যায়ের গণমাধ্যমকর্মীদের সব ধরনের হয়রানি বন্ধ এবং এর পেছনে জড়িত মূল উস্কানিদাতাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিক ও সাধারণ জনতা বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে তাঁদের দাবির প্রতি তীব্র সংহতি প্রকাশ করেন এবং বিষয়টিতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারের সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সমগ্র অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সঞ্চালনা করেন আরমান খান জয়। এ সময় মানববন্ধনে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন—প্রেসক্লাব গোপালগঞ্জের সভাপতি মো. জুবায়ের হোসেন, গোপালগঞ্জ জেলা প্রিন্ট মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদার, জেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আরিফুল হক আরিফ, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মামুনুর রশিদ জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক (গোপ্রিমিজাএ) পলাশ শিকদার, আরিফুল রশিদ, মেহেদী হাসান এবং বিশ্বজিৎ চন্দ্র সরকারসহ আরও অনেকে।

আপনার মতামত লিখুন