কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) প্রতিযোগিতায় বড় ধরনের চমক দিতে যাচ্ছে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। প্রতিষ্ঠানটির ভার্চ্যুয়াল সহকারী ‘সিরি’তে (Siri) আসতে চলেছে আমূল পরিবর্তন। নতুন সংস্করণে ব্যবহারকারীর চ্যাট বা কথোপকথন স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে ফেলার (Auto-delete) সুবিধা যুক্ত হতে পারে।
একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সিরিকে আরও বেশি ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষাকেন্দ্রিক (Privacy-focused) হিসেবে বিশ্ববাজারে উপস্থাপন করতে চায় অ্যাপল।
আগামী জুনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া অ্যাপলের বার্ষিক ডেভেলপার সম্মেলন ‘ডব্লিউডব্লিউডিসি’তে (WWDC) নতুন এই সিরি উন্মোচনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রযুক্তিবিষয়ক খ্যাতনামা সাংবাদিক মার্ক গারম্যানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের সিরিতে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা বা প্রাইভেসিকে সবচেয়ে বড় গুরুত্ব দেবে অ্যাপল।
সাম্প্রতিক সময়ে চ্যাটজিপিটি, গুগলের জেমিনি বা মাইক্রোসফটের এআই সেবাগুলোর তুলনায় অ্যাপলকে এআই দৌড়ে কিছুটা পিছিয়ে পড়া প্রতিষ্ঠান হিসেবেই দেখা হচ্ছিল। তাই নতুন সিরিকে অ্যাপলের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যাপল প্রথমবারের মতো আলাদা একটি ‘সিরি অ্যাপ’ চালু করতে পারে। এই অ্যাপটি গুগলের জেমিনি (Gemini) প্রযুক্তিচালিত হতে পারে, যার ফলে ব্যবহারকারীরা একদম চ্যাটবটের মতো অভিজ্ঞতা পাবেন। অর্থাৎ, ব্যবহারকারীরা প্রশ্ন করলে সিরি মানুষের মতো আরও স্বাভাবিক ভাষায় উত্তর দিতে পারবে এবং দীর্ঘ কথোপকথন চালিয়ে যেতে সক্ষম হবে।
প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় নিজেদের আলাদা ও নিরাপদ প্রমাণ করতে অ্যাপল নিয়ে আসছে চ্যাট স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে ফেলার সুবিধা। এই ফিচারটি অনেকটা আইফোনের ‘মেসেজেস’ অ্যাপের মতো কাজ করবে। ব্যবহারকারীরা চাইলে ৩০ দিন, এক বছর বা অনির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চ্যাট সংরক্ষণের অপশন বেছে নিতে পারবেন। নির্দিষ্ট সময় পার হলেই চ্যাট হিস্ট্রি নিজে থেকেই মুছে যাবে।
বর্তমানে বেশিরভাগ এআই সেবাই ব্যবহারকারীর কথোপকথন দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করে এবং তা পরে এআই মডেল উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করে। অ্যাপলের এই ফিচার ব্যবহারকারীদের সেই উদ্বেগ অনেকটাই কমিয়ে দেবে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, অ্যাপলের এই ‘প্রাইভেসি-কেন্দ্রিক’ অবস্থান আংশিকভাবে কৌশলগতও হতে পারে। প্রতিদ্বন্দ্বী এআই সেবাগুলোর তুলনায় সিরির কোনো সীমাবদ্ধতা বা প্রযুক্তিগত দুর্বলতা থাকলে, তা আড়াল করতেই হয়তো গোপনীয়তার বিষয়টিকে বেশি হাইলাইট করছে প্রতিষ্ঠানটি।
এছাড়া আরেকটি বড় প্রশ্ন উঠছে— অ্যাপল সুরক্ষার কথা বললেও নতুন সিরির এআই অবকাঠামো যেহেতু গুগলের প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করতে পারে, তাই ব্যবহারকারীর তথ্য ব্যবস্থাপনায় গুগলের ভূমিকা কতটা থাকবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই যাচ্ছে।
তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান এআই প্রতিযোগিতায় শুধু কে বেশি স্মার্ট উত্তর দিতে পারে সেটাই শেষ কথা নয়, ব্যবহারকারীর তথ্য কতটা নিরাপদ থাকবে সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই জায়গাতেই অ্যাপল নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে চাইছে।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ মে ২০২৬
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) প্রতিযোগিতায় বড় ধরনের চমক দিতে যাচ্ছে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। প্রতিষ্ঠানটির ভার্চ্যুয়াল সহকারী ‘সিরি’তে (Siri) আসতে চলেছে আমূল পরিবর্তন। নতুন সংস্করণে ব্যবহারকারীর চ্যাট বা কথোপকথন স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে ফেলার (Auto-delete) সুবিধা যুক্ত হতে পারে।
একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সিরিকে আরও বেশি ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষাকেন্দ্রিক (Privacy-focused) হিসেবে বিশ্ববাজারে উপস্থাপন করতে চায় অ্যাপল।
আগামী জুনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া অ্যাপলের বার্ষিক ডেভেলপার সম্মেলন ‘ডব্লিউডব্লিউডিসি’তে (WWDC) নতুন এই সিরি উন্মোচনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রযুক্তিবিষয়ক খ্যাতনামা সাংবাদিক মার্ক গারম্যানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের সিরিতে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা বা প্রাইভেসিকে সবচেয়ে বড় গুরুত্ব দেবে অ্যাপল।
সাম্প্রতিক সময়ে চ্যাটজিপিটি, গুগলের জেমিনি বা মাইক্রোসফটের এআই সেবাগুলোর তুলনায় অ্যাপলকে এআই দৌড়ে কিছুটা পিছিয়ে পড়া প্রতিষ্ঠান হিসেবেই দেখা হচ্ছিল। তাই নতুন সিরিকে অ্যাপলের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যাপল প্রথমবারের মতো আলাদা একটি ‘সিরি অ্যাপ’ চালু করতে পারে। এই অ্যাপটি গুগলের জেমিনি (Gemini) প্রযুক্তিচালিত হতে পারে, যার ফলে ব্যবহারকারীরা একদম চ্যাটবটের মতো অভিজ্ঞতা পাবেন। অর্থাৎ, ব্যবহারকারীরা প্রশ্ন করলে সিরি মানুষের মতো আরও স্বাভাবিক ভাষায় উত্তর দিতে পারবে এবং দীর্ঘ কথোপকথন চালিয়ে যেতে সক্ষম হবে।
প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় নিজেদের আলাদা ও নিরাপদ প্রমাণ করতে অ্যাপল নিয়ে আসছে চ্যাট স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে ফেলার সুবিধা। এই ফিচারটি অনেকটা আইফোনের ‘মেসেজেস’ অ্যাপের মতো কাজ করবে। ব্যবহারকারীরা চাইলে ৩০ দিন, এক বছর বা অনির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চ্যাট সংরক্ষণের অপশন বেছে নিতে পারবেন। নির্দিষ্ট সময় পার হলেই চ্যাট হিস্ট্রি নিজে থেকেই মুছে যাবে।
বর্তমানে বেশিরভাগ এআই সেবাই ব্যবহারকারীর কথোপকথন দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করে এবং তা পরে এআই মডেল উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করে। অ্যাপলের এই ফিচার ব্যবহারকারীদের সেই উদ্বেগ অনেকটাই কমিয়ে দেবে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, অ্যাপলের এই ‘প্রাইভেসি-কেন্দ্রিক’ অবস্থান আংশিকভাবে কৌশলগতও হতে পারে। প্রতিদ্বন্দ্বী এআই সেবাগুলোর তুলনায় সিরির কোনো সীমাবদ্ধতা বা প্রযুক্তিগত দুর্বলতা থাকলে, তা আড়াল করতেই হয়তো গোপনীয়তার বিষয়টিকে বেশি হাইলাইট করছে প্রতিষ্ঠানটি।
এছাড়া আরেকটি বড় প্রশ্ন উঠছে— অ্যাপল সুরক্ষার কথা বললেও নতুন সিরির এআই অবকাঠামো যেহেতু গুগলের প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করতে পারে, তাই ব্যবহারকারীর তথ্য ব্যবস্থাপনায় গুগলের ভূমিকা কতটা থাকবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই যাচ্ছে।
তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান এআই প্রতিযোগিতায় শুধু কে বেশি স্মার্ট উত্তর দিতে পারে সেটাই শেষ কথা নয়, ব্যবহারকারীর তথ্য কতটা নিরাপদ থাকবে সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই জায়গাতেই অ্যাপল নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে চাইছে।

আপনার মতামত লিখুন