সাম্য, ত্যাগ ও মানবিকতার মহিমা ধারণ করে সারা দেশে আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মে) যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলমানদের ধর্মীয় জীবনের অন্যতম প্রধান এই উৎসবকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিরাজ করছে আত্মত্যাগ ও সৌহার্দ্যের গভীর এক আবহ।
হিজরি ক্যালেন্ডারের জিলহজ মাসের ১০ তারিখে উদযাপিত এই উৎসবকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন ধরেই দেশজুড়ে চলছিল ব্যাপক প্রস্তুতি। পশুর হাট থেকে পছন্দের কোরবানি কেনা এবং নাড়ির টানে দূর-দূরান্তে থাকা প্রিয়জনদের কাছে ফেরার মাধ্যমে শহর ও গ্রামে তৈরি হয়েছে উৎসবের অভিন্ন আমেজ।
ঈদের সকালে ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাই নতুন বা পরিষ্কার পোশাকে ঈদগাহ কিংবা মসজিদে এক কাতারে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য ও সামাজিক সম্প্রীতির এক অনুপম বার্তা।
নামাজ শেষে শুরু হয় মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানির মূল আনুষ্ঠানিকতা। ইসলামি বিধান অনুযায়ী সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য কোরবানি করা ওয়াজিব। কোরবানি সম্পর্কে ইসলামি বিধান ও বাণীসমূহ নিচে তুলে ধরা হলো:
পবিত্র কুরআনের বাণী:
“তাদের (কোরবানির পশুর) গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, বরং তাঁর কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।” (সূরা আল-হজ, আয়াত ৩৭)
হাদিসের হুঁশিয়ারি: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
“যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের কাছেও না আসে।” (ইবনে মাজাহ)
ধর্মীয় এই নির্দেশনা অনুযায়ী, কোরবানির মূল উদ্দেশ্য কেবল পশু জবাই নয়; বরং আল্লাহর প্রতি গভীর তাকওয়া, আত্মত্যাগ ও আনুগত্যের প্রকাশ। কোরবানির মাংস তিন ভাগে ভাগ করে আত্মীয়স্বজন, দরিদ্র ও নিজের পরিবারের মধ্যে বণ্টনের মাধ্যমে সমাজে সহমর্মিতা, বৈষম্যহীনতা ও ন্যায়বোধের শিক্ষা প্রতিফলিত হয়।
বাংলাদেশে সাধারণত গরু, ছাগল ও মহিষ কোরবানি দেওয়া হলেও বিশ্বজুড়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে ভেড়া, দুম্বা ও উট কোরবানির প্রচলন রয়েছে।
এবারের ঈদের প্রধান প্রধান জামাতের সময়সূচি ও স্থানসমূহ নিচে একনজরে দেখে নেওয়া যাক:
| ঈদগাহ/মসজিদের নাম | জামাতের সময় | বিকল্প ব্যবস্থা (প্রতিকূল আবহাওয়া) |
| জাতীয় ঈদগাহ ময়দান (রাজধানী) | সকাল ০৭:৩০ টা | বায়তুল মোকাররমে সকাল ০৮:০০ টায় স্থানান্তর |
| জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম | মোট ৫টি জামাত | নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী |
| জাতীয় সংসদ ভবন (দক্ষিণ প্লাজা) | নির্ধারিত সময় | নিজস্ব ব্যবস্থাপনা |
| ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ (কিশোরগঞ্জ) | দেশের অন্যতম বৃহৎ জামাত | — |
| গোর-এ-শহীদ ময়দান (দিনাজপুর) | দেশের অন্যতম বৃহৎ জামাত | — |
এ ছাড়া দেশের প্রতিটি জেলা শহর এবং স্থানীয় এলাকার মসজিদ ও ঈদগাহগুলোতে একাধিক জামাতের মাধ্যমে ঈদের নামাজ আদায় করা হচ্ছে, যা আমাদের ধর্মীয় ঐক্য ও সামাজিক সম্প্রীতির চিত্রকে আরও বেশি সমৃদ্ধ করে তুলেছে।
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ ঈদুল আজহা, কোরবানি, ঈদের নামাজ, জাতীয় ঈদগাহ, ত্যাগ ও সাম্য, ঈদের জামাত, ইসলাম, বাংলাদেশ, জিলহজ মাসEid-ul-Adha, Qurbani, Eid Namaz, National Eidgah, Sacrifice and Equality, Eid Congregation, Islam, Bangladesh, Dhul Hijjah Eid-ul-Adha, Qurbani, Eid Namaz, National Eidgah, Sacrifice and Equality, Eid Congregation, Islam, Bangladesh, Dhul Hijjah

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ মে ২০২৬
সাম্য, ত্যাগ ও মানবিকতার মহিমা ধারণ করে সারা দেশে আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মে) যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলমানদের ধর্মীয় জীবনের অন্যতম প্রধান এই উৎসবকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিরাজ করছে আত্মত্যাগ ও সৌহার্দ্যের গভীর এক আবহ।
হিজরি ক্যালেন্ডারের জিলহজ মাসের ১০ তারিখে উদযাপিত এই উৎসবকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন ধরেই দেশজুড়ে চলছিল ব্যাপক প্রস্তুতি। পশুর হাট থেকে পছন্দের কোরবানি কেনা এবং নাড়ির টানে দূর-দূরান্তে থাকা প্রিয়জনদের কাছে ফেরার মাধ্যমে শহর ও গ্রামে তৈরি হয়েছে উৎসবের অভিন্ন আমেজ।
ঈদের সকালে ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাই নতুন বা পরিষ্কার পোশাকে ঈদগাহ কিংবা মসজিদে এক কাতারে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য ও সামাজিক সম্প্রীতির এক অনুপম বার্তা।
নামাজ শেষে শুরু হয় মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানির মূল আনুষ্ঠানিকতা। ইসলামি বিধান অনুযায়ী সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য কোরবানি করা ওয়াজিব। কোরবানি সম্পর্কে ইসলামি বিধান ও বাণীসমূহ নিচে তুলে ধরা হলো:
পবিত্র কুরআনের বাণী:
“তাদের (কোরবানির পশুর) গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, বরং তাঁর কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।” (সূরা আল-হজ, আয়াত ৩৭)
হাদিসের হুঁশিয়ারি: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
“যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের কাছেও না আসে।” (ইবনে মাজাহ)
ধর্মীয় এই নির্দেশনা অনুযায়ী, কোরবানির মূল উদ্দেশ্য কেবল পশু জবাই নয়; বরং আল্লাহর প্রতি গভীর তাকওয়া, আত্মত্যাগ ও আনুগত্যের প্রকাশ। কোরবানির মাংস তিন ভাগে ভাগ করে আত্মীয়স্বজন, দরিদ্র ও নিজের পরিবারের মধ্যে বণ্টনের মাধ্যমে সমাজে সহমর্মিতা, বৈষম্যহীনতা ও ন্যায়বোধের শিক্ষা প্রতিফলিত হয়।
বাংলাদেশে সাধারণত গরু, ছাগল ও মহিষ কোরবানি দেওয়া হলেও বিশ্বজুড়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে ভেড়া, দুম্বা ও উট কোরবানির প্রচলন রয়েছে।
এবারের ঈদের প্রধান প্রধান জামাতের সময়সূচি ও স্থানসমূহ নিচে একনজরে দেখে নেওয়া যাক:
| ঈদগাহ/মসজিদের নাম | জামাতের সময় | বিকল্প ব্যবস্থা (প্রতিকূল আবহাওয়া) |
| জাতীয় ঈদগাহ ময়দান (রাজধানী) | সকাল ০৭:৩০ টা | বায়তুল মোকাররমে সকাল ০৮:০০ টায় স্থানান্তর |
| জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম | মোট ৫টি জামাত | নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী |
| জাতীয় সংসদ ভবন (দক্ষিণ প্লাজা) | নির্ধারিত সময় | নিজস্ব ব্যবস্থাপনা |
| ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ (কিশোরগঞ্জ) | দেশের অন্যতম বৃহৎ জামাত | — |
| গোর-এ-শহীদ ময়দান (দিনাজপুর) | দেশের অন্যতম বৃহৎ জামাত | — |
এ ছাড়া দেশের প্রতিটি জেলা শহর এবং স্থানীয় এলাকার মসজিদ ও ঈদগাহগুলোতে একাধিক জামাতের মাধ্যমে ঈদের নামাজ আদায় করা হচ্ছে, যা আমাদের ধর্মীয় ঐক্য ও সামাজিক সম্প্রীতির চিত্রকে আরও বেশি সমৃদ্ধ করে তুলেছে।

আপনার মতামত লিখুন