নজর বিডি
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬

লোকসান এড়াতে মৌসুমী ব্যবসায়ীদের সতর্কবার্তা

না বুঝে চামড়া কেনাবেচা নয়

না বুঝে চামড়া কেনাবেচা নয়

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের কাঁচা চামড়ার বাজারে শুরু হয়েছে ব্যাপক তোড়জোড়। প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদে বড় লাভের আশায় মাঠে নামছেন অসংখ্য মৌসুমী ব্যবসায়ী। তবে চামড়া সংরক্ষণ, মান ও বাজারদর সম্পর্কে সঠিক ধারণা না নিয়ে ব্যবসায় নামলে বড় ধরনের লোকসানের ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়িক নেতাদের পরামর্শ—বাজার পরিস্থিতি ভালোভাবে বুঝে এবং চামড়া দ্রুত সংরক্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করেই যেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা মাঠে নামেন।

বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতান জানান, সরকার নির্ধারিত দাম অনুযায়ী আড়তগুলো চামড়া কিনবে। পশু বড় নাকি ছোট, তা আড়তে বিবেচনা করা হয় না; বরং চামড়ার বর্গফুট হিসাবেই দাম নির্ধারণ করা হয়। তাই বাজার পরিস্থিতি না বুঝে অতিরিক্ত দামে চামড়া কিনলে লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে। তিনি আরও বলেন:

"চামড়া সংগ্রহের পর যত দ্রুত সম্ভব আড়তে পৌঁছে দেওয়া বা লবণ দেওয়া প্রয়োজন। বেশি সময় ফেলে রাখলে চামড়ার মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দামও কমে যায়।"

একই সুর মেলালেন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান সাখাওয়াত উল্লাহ। তিনি বলেন, বেশি লাভের আশায় চামড়া ধরে রাখলে ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ে। কোরবানির দিন সন্ধ্যার মধ্যে চামড়া বিক্রি করতে পারলে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়া সম্ভব। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চামড়ার মান ও দাম—দুটোই কমতে থাকে।

রাজধানীর পুরান ঢাকার লালবাগ পোস্তার আড়তে চামড়া বিক্রি করা মৌসুমী ব্যবসায়ী আকবর হোসেন তাঁর অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, গত কয়েক বছর ধরে চামড়ার প্রত্যাশিত দাম মিলছে না। অনেক সময় বড় গরুর চামড়াও এক হাজার টাকার বেশি দামে কেনা হয় না, অথচ বর্গফুট হিসাবে দাম আরও বেশি হওয়া উচিত ছিল। এবার যেন প্রশাসন ন্যায্য দামে চামড়া বিক্রির পরিবেশ নিশ্চিত করে, সেই দাবি জানান তিনি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবার চামড়া খাতে ট্যানারিগুলোর বকেয়া, ঋণসংকট ও সার্বিক বাজারে নগদ অর্থের তীব্র সংকট রয়েছে। এই অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে মৌসুমী ব্যবসায়ীদের জন্য টিকে থাকার মূল চাবিকাঠি হলো—বুঝে চামড়া কেনা, দ্রুত সংরক্ষণ ও সময়মতো বিক্রি করা।

কোরবানির চামড়ার বাজারে বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এবারের নির্ধারিত মূল্য এবং বাজারের সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা নিচে দেওয়া হলো:

১. চামড়ার নির্ধারিত মূল্য তালিকা (প্রতি বর্গফুট):

পশুর ধরনঢাকায় নির্ধারিত দামঢাকার বাইরে নির্ধারিত দাম
গরুর চামড়া (লবণযুক্ত)৬২ থেকে ৬৭ টাকা৫৭ থেকে ৬২ টাকা
খাসির চামড়া২৫ থেকে ৩০ টাকা২৫ থেকে ৩০ টাকা
বকরির চামড়া২২ থেকে ২৫ টাকা২২ থেকে ২৫ টাকা
  • সম্ভাব্য মোট কোরবানি: ১ কোটিরও বেশি পশু।

  • ট্যানারিমালিকদের সংগ্রহের লক্ষ্য: ৭৫ থেকে ৮০ লাখ পিস চামড়া।

  • ঢাকার লক্ষ্যমাত্রা: রাজধানীতে কোরবানি হওয়া মোট চামড়ার প্রায় ৮০ শতাংশ সরাসরি সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিষয় : নজরবিডি সংবাদ কাঁচা চামড়া, ঈদুল আজহা, চামড়ার দাম, মৌসুমী ব্যবসায়ী, বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন, লালবাগ পোস্তা, ট্যানারি শিল্প, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ Raw Hide, Eid-ul-Adha, Leather Price, Seasonal Traders, Bangladesh Tanners Association, Lalbagh Posta, Tannery Industry, Ministry of Commerce, Bangladesh

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


না বুঝে চামড়া কেনাবেচা নয়

প্রকাশের তারিখ : ২৮ মে ২০২৬

featured Image

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের কাঁচা চামড়ার বাজারে শুরু হয়েছে ব্যাপক তোড়জোড়। প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদে বড় লাভের আশায় মাঠে নামছেন অসংখ্য মৌসুমী ব্যবসায়ী। তবে চামড়া সংরক্ষণ, মান ও বাজারদর সম্পর্কে সঠিক ধারণা না নিয়ে ব্যবসায় নামলে বড় ধরনের লোকসানের ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়িক নেতাদের পরামর্শ—বাজার পরিস্থিতি ভালোভাবে বুঝে এবং চামড়া দ্রুত সংরক্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করেই যেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা মাঠে নামেন।

বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতান জানান, সরকার নির্ধারিত দাম অনুযায়ী আড়তগুলো চামড়া কিনবে। পশু বড় নাকি ছোট, তা আড়তে বিবেচনা করা হয় না; বরং চামড়ার বর্গফুট হিসাবেই দাম নির্ধারণ করা হয়। তাই বাজার পরিস্থিতি না বুঝে অতিরিক্ত দামে চামড়া কিনলে লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে। তিনি আরও বলেন:

"চামড়া সংগ্রহের পর যত দ্রুত সম্ভব আড়তে পৌঁছে দেওয়া বা লবণ দেওয়া প্রয়োজন। বেশি সময় ফেলে রাখলে চামড়ার মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দামও কমে যায়।"

একই সুর মেলালেন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান সাখাওয়াত উল্লাহ। তিনি বলেন, বেশি লাভের আশায় চামড়া ধরে রাখলে ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ে। কোরবানির দিন সন্ধ্যার মধ্যে চামড়া বিক্রি করতে পারলে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়া সম্ভব। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চামড়ার মান ও দাম—দুটোই কমতে থাকে।

রাজধানীর পুরান ঢাকার লালবাগ পোস্তার আড়তে চামড়া বিক্রি করা মৌসুমী ব্যবসায়ী আকবর হোসেন তাঁর অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, গত কয়েক বছর ধরে চামড়ার প্রত্যাশিত দাম মিলছে না। অনেক সময় বড় গরুর চামড়াও এক হাজার টাকার বেশি দামে কেনা হয় না, অথচ বর্গফুট হিসাবে দাম আরও বেশি হওয়া উচিত ছিল। এবার যেন প্রশাসন ন্যায্য দামে চামড়া বিক্রির পরিবেশ নিশ্চিত করে, সেই দাবি জানান তিনি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবার চামড়া খাতে ট্যানারিগুলোর বকেয়া, ঋণসংকট ও সার্বিক বাজারে নগদ অর্থের তীব্র সংকট রয়েছে। এই অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে মৌসুমী ব্যবসায়ীদের জন্য টিকে থাকার মূল চাবিকাঠি হলো—বুঝে চামড়া কেনা, দ্রুত সংরক্ষণ ও সময়মতো বিক্রি করা।

কোরবানির চামড়ার বাজারে বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এবারের নির্ধারিত মূল্য এবং বাজারের সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা নিচে দেওয়া হলো:

১. চামড়ার নির্ধারিত মূল্য তালিকা (প্রতি বর্গফুট):

পশুর ধরনঢাকায় নির্ধারিত দামঢাকার বাইরে নির্ধারিত দাম
গরুর চামড়া (লবণযুক্ত)৬২ থেকে ৬৭ টাকা৫৭ থেকে ৬২ টাকা
খাসির চামড়া২৫ থেকে ৩০ টাকা২৫ থেকে ৩০ টাকা
বকরির চামড়া২২ থেকে ২৫ টাকা২২ থেকে ২৫ টাকা
  • সম্ভাব্য মোট কোরবানি: ১ কোটিরও বেশি পশু।

  • ট্যানারিমালিকদের সংগ্রহের লক্ষ্য: ৭৫ থেকে ৮০ লাখ পিস চামড়া।

  • ঢাকার লক্ষ্যমাত্রা: রাজধানীতে কোরবানি হওয়া মোট চামড়ার প্রায় ৮০ শতাংশ সরাসরি সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত