নজর বিডি
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬

দেশকে ভালো জায়গায় নিয়ে যেতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

দেশকে ভালো জায়গায় নিয়ে যেতে চাই: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান । ছবি: আইএসপিআর

সবার সহযোগিতা পেলে সরকার ‘কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে সক্ষম হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, “সৈনিকসহ দেশের সাধারণ মানুষ দেশকে যেভাবে কল্পনা করে, সরকার চেষ্টা করছে পর্যায়ক্রমে দেশটাকে সেভাবেই গড়ে তুলতে। 

আমি বহু বছর দেশে থাকতে পারিনি। কেন পারিনি সে প্রসঙ্গে যাচ্ছি না। কারণ সেসময় দেশে ভালো-মন্দ কী হয়েছে, তা নিয়ে সবারই কমবেশি ধারণা আছে। কিন্তু এখন আমরা দেশকে ভালো জায়গায় নিয়ে যেতে চাই।”

আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসে সেনাবাহিনীর অফিসার ও সৈনিকদের এক প্রীতিভোজ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে ঢাকা সেনানিবাসের জিয়া কলোনিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ‘মৃত্যুঞ্জয়ী পঁচিশ’ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এই প্রীতিভোজের আয়োজন করে।

বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা সেনানিবাসে তাঁর কাটানো শৈশবকালের আবেগঘন স্মৃতি রোমন্থন করেন।

তিনি বলেন:

“আমি যখন আসছিলাম, সেসময় হঠাৎ মনে হলো আমি প্রায় ৪৫/৪৬ বছর পেছনে চলে গেছি। ১৯৭৫/৭৬ বা ৭৭ সালের কথা হবে। সিএমএইচের গেটটা তখন এত বড় ছিল না। আমার জ্বর হলে একা একাই চলে যেতাম। এখনও মনে আছে, ওই সময়ে স্টাফ সার্জন ছিলেন মেজর আনোয়ার।”

প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন বিকেলে শহীদ মইনুল সড়কের বাসা থেকে বন্ধুদের নিয়ে সাইকেল চালিয়ে ঘুরে বেড়ানো এবং তৎকালীন সেনানিবাসের পরিবেশের কথা স্মরণ করে বলেন, “আমি আজ এমন একটা স্থানে এসেছি, যেখানে আমার জীবনের বিরাট একটা বড় অংশ জড়িয়ে আছে। আমার ভালো-মন্দ, কষ্ট-ব্যথা, সুখ-দুঃখের বিশাল স্মৃতি এই পুরো এলাকায় মিশে একাকার হয়ে আছে।”

দেশের প্রয়োজনে ঈদের দিনেও যেসব সেনা সদস্য ছুটিতে না গিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আপনাদের স্যাক্রিফাইসের জন্য আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাতে চাই। দেশ এবং জাতি আপনাদের এই আত্মত্যাগকে অবশ্যই কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।”

জাতীয় সংকটে সেনাবাহিনীর অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়েক মাস আগে দুটি পত্রিকা অফিসে আগুন লাগার দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার সময় সেনাবাহিনী সেখান থেকে প্রায় ১৮ জন সাংবাদিককে উদ্ধার করেছিল, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। দেশের এবং দেশের মানুষের প্রয়োজনে সৈনিকরা জীবন দেয়, আর সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে সেই জীবন ও আত্মত্যাগের সঠিক মূল্যায়ন করা।

দেশ গঠনে সবার নির্দিষ্ট কর্তব্য রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, যার যার অবস্থান থেকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে কাঙ্ক্ষিত দেশ গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি বলেন, “সাধারণ মানুষ যাতে নিরাপদে বসবাস করতে পারে, তাদের সন্তানেরা যেন সুন্দরভাবে লেখাপড়া ও সুচিকিৎসার সুযোগ পায়—আমরা সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছি।”

অনুষ্ঠানস্থলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। 

প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর অফিসার, সৈনিক এবং তাঁদের সন্তানদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে তিনি ‘পঁচিশ মৃত্যুঞ্জয়ী’ ভবনের সামনে একটি গাছের চারা রোপণ করেন এবং পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

বিষয় : নজরবিডি সংবাদ প্রধানমন্ত্রী, তারেক রহমান, ঢাকা সেনানিবাস, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, ঈদুল আজহা ২০২৬, প্রীতিভোজ, শৈশবের স্মৃতি, দেশ গঠন, বাসস Prime Minister, Tarique Rahman, Dhaka Cantonment, Bangladesh Army, Eid-ul-Adha 2026, Army Feast, Childhood Memories, National Security, BSS

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


দেশকে ভালো জায়গায় নিয়ে যেতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ২৮ মে ২০২৬

featured Image

সবার সহযোগিতা পেলে সরকার ‘কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে সক্ষম হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, “সৈনিকসহ দেশের সাধারণ মানুষ দেশকে যেভাবে কল্পনা করে, সরকার চেষ্টা করছে পর্যায়ক্রমে দেশটাকে সেভাবেই গড়ে তুলতে। 

আমি বহু বছর দেশে থাকতে পারিনি। কেন পারিনি সে প্রসঙ্গে যাচ্ছি না। কারণ সেসময় দেশে ভালো-মন্দ কী হয়েছে, তা নিয়ে সবারই কমবেশি ধারণা আছে। কিন্তু এখন আমরা দেশকে ভালো জায়গায় নিয়ে যেতে চাই।”

আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসে সেনাবাহিনীর অফিসার ও সৈনিকদের এক প্রীতিভোজ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে ঢাকা সেনানিবাসের জিয়া কলোনিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ‘মৃত্যুঞ্জয়ী পঁচিশ’ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এই প্রীতিভোজের আয়োজন করে।

বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা সেনানিবাসে তাঁর কাটানো শৈশবকালের আবেগঘন স্মৃতি রোমন্থন করেন।

তিনি বলেন:

“আমি যখন আসছিলাম, সেসময় হঠাৎ মনে হলো আমি প্রায় ৪৫/৪৬ বছর পেছনে চলে গেছি। ১৯৭৫/৭৬ বা ৭৭ সালের কথা হবে। সিএমএইচের গেটটা তখন এত বড় ছিল না। আমার জ্বর হলে একা একাই চলে যেতাম। এখনও মনে আছে, ওই সময়ে স্টাফ সার্জন ছিলেন মেজর আনোয়ার।”

প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন বিকেলে শহীদ মইনুল সড়কের বাসা থেকে বন্ধুদের নিয়ে সাইকেল চালিয়ে ঘুরে বেড়ানো এবং তৎকালীন সেনানিবাসের পরিবেশের কথা স্মরণ করে বলেন, “আমি আজ এমন একটা স্থানে এসেছি, যেখানে আমার জীবনের বিরাট একটা বড় অংশ জড়িয়ে আছে। আমার ভালো-মন্দ, কষ্ট-ব্যথা, সুখ-দুঃখের বিশাল স্মৃতি এই পুরো এলাকায় মিশে একাকার হয়ে আছে।”

দেশের প্রয়োজনে ঈদের দিনেও যেসব সেনা সদস্য ছুটিতে না গিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আপনাদের স্যাক্রিফাইসের জন্য আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাতে চাই। দেশ এবং জাতি আপনাদের এই আত্মত্যাগকে অবশ্যই কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।”

জাতীয় সংকটে সেনাবাহিনীর অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়েক মাস আগে দুটি পত্রিকা অফিসে আগুন লাগার দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার সময় সেনাবাহিনী সেখান থেকে প্রায় ১৮ জন সাংবাদিককে উদ্ধার করেছিল, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। দেশের এবং দেশের মানুষের প্রয়োজনে সৈনিকরা জীবন দেয়, আর সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে সেই জীবন ও আত্মত্যাগের সঠিক মূল্যায়ন করা।

দেশ গঠনে সবার নির্দিষ্ট কর্তব্য রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, যার যার অবস্থান থেকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে কাঙ্ক্ষিত দেশ গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি বলেন, “সাধারণ মানুষ যাতে নিরাপদে বসবাস করতে পারে, তাদের সন্তানেরা যেন সুন্দরভাবে লেখাপড়া ও সুচিকিৎসার সুযোগ পায়—আমরা সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছি।”

অনুষ্ঠানস্থলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। 

প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর অফিসার, সৈনিক এবং তাঁদের সন্তানদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে তিনি ‘পঁচিশ মৃত্যুঞ্জয়ী’ ভবনের সামনে একটি গাছের চারা রোপণ করেন এবং পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত