নজর বিডি
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬

ট্রানজিট যাত্রীদের চরম ভোগান্তি

ঈদের দিন শাহজালাল বিমানবন্দরে খাবার-পানি সংকট

ঈদের দিন শাহজালাল বিমানবন্দরে খাবার-পানি সংকট

পবিত্র ঈদুল আজহার দিনে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ডমেস্টিক ট্রানজিট (টিপি) লাউঞ্জে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দেশি-বিদেশি যাত্রীরা। 

বিমানবন্দরের ভেতরের একমাত্র ক্যান্টিনটি কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই বন্ধ থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা খাবার ও পানীয় ছাড়াই অপেক্ষা করতে হচ্ছে যাত্রীদের। ফলে সাধারণ যাত্রী ও বিদেশফেরত প্রবাসীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকালে মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা যাত্রীরা দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ভ্রমণ শেষে ডমেস্টিক কানেক্টিং ফ্লাইটের অপেক্ষায় লাউঞ্জে অবস্থান করছিলেন। কিন্তু ডমেস্টিক টার্মিনালের ভেতরে ন্যূনতম খাবার কিংবা পানির ব্যবস্থা না থাকায় তারা চরম বিপাকে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষুব্ধ যাত্রীদের সঙ্গে দায়িত্বরত বিমানবন্দর কর্মীদের কয়েক দফা তর্ক ও উত্তেজনার ঘটনাও ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ডমেস্টিক এয়ারপোর্টের ভেতরের এই ক্যান্টিনটি সাধারণত ২৪ ঘণ্টাই চালু থাকে। এমনকি আগের ঈদগুলোতেও এটি কখনো বন্ধ ছিল না। কিন্তু এবার কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না রেখেই এটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সৌদি আরব থেকে আসা ট্রানজিট যাত্রী আবু বকর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:

“বাইরে বের হওয়ার সুযোগ নেই, ভেতরে খাবার নেই, পানি নেই। ছোট বাচ্চা আর বৃদ্ধ মানুষ নিয়ে আমরা চরম কষ্টে আছি। এটা কোনো আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরের চিত্র হতে পারে না।”

শুধু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট থেকে আসা কানেক্টিং যাত্রীরাই নন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সকালে বিমানবন্দরে আসা অভ্যন্তরীণ যাত্রীরাও একই সংকটে পড়েছেন। ঢাকা থেকে যশোরগামী ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের যাত্রী মোহাম্মদ হানিফ বলেন, “ভেবেছিলাম বিমানবন্দরে এসে অন্তত নাস্তা আর পানি খাব। কিন্তু এখানে এসে দেখি লাউঞ্জের রেস্টুরেন্টেও তালা ঝুলছে। বিমানবন্দর তো ২৪ ঘণ্টা যাত্রীসেবা দেওয়ার কথা।”

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম এই পরিস্থিতিকে কর্তৃপক্ষের বড় ধরনের গাফিলতি হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, “ঈদ বা ছুটির দিনেও বিমানবন্দর হচ্ছে ২৪ ঘণ্টার জরুরি সেবা খাত। বিশেষ করে ট্রানজিট যাত্রীরা তো কার্যত বিমানবন্দরের ভেতরে আটকে থাকেন, তাদের বাইরে যাওয়ার সুযোগ থাকে না। তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা না রাখা বড় ধরনের ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতা।” তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের বিমানবন্দরের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

এদিকে ডোমেস্টিক টার্মিনালের একমাত্র ক্যান্টিনটি কেন বন্ধ রয়েছে—সে ব্যাপারে বিমানবন্দরে দায়িত্বরত সাধারণ কর্মীরাও সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানাতে পারেননি।

ঈদের ছুটিতেও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিপুল সংখ্যক আন্তর্জাতিক যাত্রীর চাপ থাকে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে আসা বহু যাত্রী ডমেস্টিক কানেক্টিং ফ্লাইট ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যান।

ক্যান্টিন বন্ধের কারণ এবং যাত্রীদের বিকল্প ব্যবস্থার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ বলেন:

“এটা মূলত যারা ক্যান্টিন পরিচালনা করে তারাই বলতে পারবেন। আমাদের পক্ষ থেকে তাদের বন্ধ রাখার কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। এমনকি তারা দোকান বন্ধ রেখেছে কিনা, সেটাও আমার জানা নেই।”

বিষয় : নজরবিডি সংবাদ শাহজালাল বিমানবন্দর, যাত্রী ভোগান্তি, ঈদুল আজহা ২০২৬, খাবার সংকট, ট্রানজিট লাউঞ্জ, বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা, কানেক্টিং ফ্লাইট, ঢাকা বিমানবন্দর Shahjalal International Airport, Passenger Harassment, Eid-ul-Adha 2026, Food Crisis at Airport, Transit Lounge, Domestic Terminal, Airport Management Failure, Dhaka Airport

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


ঈদের দিন শাহজালাল বিমানবন্দরে খাবার-পানি সংকট

প্রকাশের তারিখ : ২৮ মে ২০২৬

featured Image

পবিত্র ঈদুল আজহার দিনে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ডমেস্টিক ট্রানজিট (টিপি) লাউঞ্জে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দেশি-বিদেশি যাত্রীরা। 

বিমানবন্দরের ভেতরের একমাত্র ক্যান্টিনটি কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই বন্ধ থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা খাবার ও পানীয় ছাড়াই অপেক্ষা করতে হচ্ছে যাত্রীদের। ফলে সাধারণ যাত্রী ও বিদেশফেরত প্রবাসীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকালে মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা যাত্রীরা দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ভ্রমণ শেষে ডমেস্টিক কানেক্টিং ফ্লাইটের অপেক্ষায় লাউঞ্জে অবস্থান করছিলেন। কিন্তু ডমেস্টিক টার্মিনালের ভেতরে ন্যূনতম খাবার কিংবা পানির ব্যবস্থা না থাকায় তারা চরম বিপাকে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষুব্ধ যাত্রীদের সঙ্গে দায়িত্বরত বিমানবন্দর কর্মীদের কয়েক দফা তর্ক ও উত্তেজনার ঘটনাও ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ডমেস্টিক এয়ারপোর্টের ভেতরের এই ক্যান্টিনটি সাধারণত ২৪ ঘণ্টাই চালু থাকে। এমনকি আগের ঈদগুলোতেও এটি কখনো বন্ধ ছিল না। কিন্তু এবার কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না রেখেই এটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সৌদি আরব থেকে আসা ট্রানজিট যাত্রী আবু বকর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:

“বাইরে বের হওয়ার সুযোগ নেই, ভেতরে খাবার নেই, পানি নেই। ছোট বাচ্চা আর বৃদ্ধ মানুষ নিয়ে আমরা চরম কষ্টে আছি। এটা কোনো আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরের চিত্র হতে পারে না।”

শুধু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট থেকে আসা কানেক্টিং যাত্রীরাই নন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সকালে বিমানবন্দরে আসা অভ্যন্তরীণ যাত্রীরাও একই সংকটে পড়েছেন। ঢাকা থেকে যশোরগামী ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের যাত্রী মোহাম্মদ হানিফ বলেন, “ভেবেছিলাম বিমানবন্দরে এসে অন্তত নাস্তা আর পানি খাব। কিন্তু এখানে এসে দেখি লাউঞ্জের রেস্টুরেন্টেও তালা ঝুলছে। বিমানবন্দর তো ২৪ ঘণ্টা যাত্রীসেবা দেওয়ার কথা।”

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম এই পরিস্থিতিকে কর্তৃপক্ষের বড় ধরনের গাফিলতি হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, “ঈদ বা ছুটির দিনেও বিমানবন্দর হচ্ছে ২৪ ঘণ্টার জরুরি সেবা খাত। বিশেষ করে ট্রানজিট যাত্রীরা তো কার্যত বিমানবন্দরের ভেতরে আটকে থাকেন, তাদের বাইরে যাওয়ার সুযোগ থাকে না। তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা না রাখা বড় ধরনের ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতা।” তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের বিমানবন্দরের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

এদিকে ডোমেস্টিক টার্মিনালের একমাত্র ক্যান্টিনটি কেন বন্ধ রয়েছে—সে ব্যাপারে বিমানবন্দরে দায়িত্বরত সাধারণ কর্মীরাও সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানাতে পারেননি।

ঈদের ছুটিতেও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিপুল সংখ্যক আন্তর্জাতিক যাত্রীর চাপ থাকে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে আসা বহু যাত্রী ডমেস্টিক কানেক্টিং ফ্লাইট ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যান।

ক্যান্টিন বন্ধের কারণ এবং যাত্রীদের বিকল্প ব্যবস্থার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ বলেন:

“এটা মূলত যারা ক্যান্টিন পরিচালনা করে তারাই বলতে পারবেন। আমাদের পক্ষ থেকে তাদের বন্ধ রাখার কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। এমনকি তারা দোকান বন্ধ রেখেছে কিনা, সেটাও আমার জানা নেই।”


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত